ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

শেয়ারবাজারে নতুন সুখবর, সহজ হচ্ছে মার্জিন বিধিমালা

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ আগস্ট ১২ ১০:২৩:০৪
শেয়ারবাজারে নতুন সুখবর, সহজ হচ্ছে মার্জিন বিধিমালা

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) শেয়ারবাজারে তারল্য বাড়াতে ‘বিএসইসি (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ব্যাংক, বিমা ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) শেয়ারে মার্জিন অর্থায়নের ক্ষেত্রে ‘পিই রেশিও’র পরিবর্তে ‘পিবি রেশিও’ চালুর প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও বাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ায় ‘পিবি রেশিও’ বাতিলের চিন্তা করছে কমিশন।

বিএসইসির সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংক, এনবিএফআই ও সাধারণ বিমা খাতে ‘পিবি রেশিও’ না রাখার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে পরীক্ষামূলকভাবে জীবনবিমা খাতে এটি রাখার বিষয়ে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে।

গত ১৯ জুলাই সংশোধিত খসড়া বিধিমালা প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের মতামত, পরামর্শ ও আপত্তি আহ্বান করে বিএসইসি। নির্ধারিত দুই সপ্তাহের সময়সীমা শেষ হয়েছে। এখন পাওয়া মতামতগুলো কমিশন সভায় পর্যালোচনা করা হবে। এরপর বিধিমালা চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হতে পারে।

পিই রেশিওর সীমা বাড়তে পারে

খসড়া বিধিমালায় ব্যাংক, বিমা ও এনবিএফআই ছাড়া অন্যান্য কোম্পানির পিই রেশিও ৩০-এর বেশি হলে মার্জিন ঋণের জন্য শেয়ারটি অযোগ্য বিবেচনার প্রস্তাব করা হয়েছে। জনমতের ভিত্তিতে এই সীমা বাড়িয়ে ৪০ করার চিন্তা করছে কমিশন। এতে আরও বেশি কোম্পানি মার্জিন সুবিধার আওতায় আসবে।

মার্জিন কল ও শেয়ার বিক্রিতে পরিবর্তন

বর্তমানে গ্রাহকের ইকুইটি ৭৫ শতাংশের নিচে নামলে মার্জিন কল দেওয়ার বিধান রয়েছে। সংশোধিত প্রস্তাবে এই সীমা ৭০ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে মার্জিন কলের পর প্রয়োজনীয় ইকুইটি পুনরুদ্ধারে তিন কার্যদিবস সময় দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

কমিশন এখন ইকুইটি ৫০ শতাংশের নিচে নামলে আগাম নোটিশ দিয়ে শেয়ার বিক্রির সুযোগ এবং ২৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে আগাম নোটিশ ছাড়াই শেয়ার বিক্রির বিধান যুক্ত করার কথা ভাবছে। তবে ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন সিইও ফোরাম জোরপূর্বক বিক্রির সীমা ৪০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে।

মার্জিন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ছে

প্রস্তাবিত বিধিমালায় স্টকব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংক ও পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপকদের মূলধন বা নিট সম্পদের সর্বোচ্চ পাঁচগুণ পর্যন্ত মার্জিন ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে এই সীমা তিনগুণ। ফলে ১০০ টাকা মূলধনের বিপরীতে ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০০ টাকা হতে পারে।

এ ছাড়া মার্জিন ঋণের জন্য গ্রাহকের বিও হিসাবে ন্যূনতম সিকিউরিটিজের পরিমাণ ৫ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ৩ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ারে বাড়ছে সুবিধা

বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটাগরির শেয়ারের পাশাপাশি ‘বি’ ক্যাটাগরির ৫ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানির শেয়ারে মার্জিন সুবিধা রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরির সব কোম্পানির শেয়ারে মার্জিন ঋণের সুযোগ দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে।

তবে ‘জেড’, ‘এন’ ও ‘জি’ শ্রেণির কোম্পানি, এসএমই মার্কেটের শেয়ার এবং এটিবি ও ওটিসি প্ল্যাটফর্মের সিকিউরিটিজ মার্জিন ঋণের বাইরে থাকবে।

ঝুঁকি নিয়েও প্রশ্ন

বিধিমালা সহজ হলে বাজারে তারল্য ও লেনদেন বাড়তে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, কম লভ্যাংশ দেওয়া ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ারে মার্জিন সুবিধা এবং পিই রেশিওর সীমা ৪০ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দুর্বল কোম্পানির শেয়ারে অতিরিক্ত মার্জিন ঋণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির মাত্রা বাড়াতে পারে।

একইভাবে, কোনো একক শেয়ারে মার্জিন ঋণদাতার অর্থায়নের সীমা মোট তহবিলের ২০ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ করা হলে নির্দিষ্ট শেয়ারে ঋণের ঘনত্ব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, মার্জিন ঋণের প্রস্তাবটি সর্বশেষ কোন অবস্থায় রয়েছে, তা তাঁর জানা নেই। তবে কমিশন বাজারবান্ধব সিদ্ধান্ত নেবে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খানও জানিয়েছেন, ‘পিবি রেশিও’ নিয়ে বাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ায় বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। তাঁর মতে, কোনো বিধান বাজারের জন্য ভালোভাবে বোঝা না গেলে সেটি কার্যকর হওয়ার পর ‘হিতে বিপরীত’ হতে পারে। তাই অংশীজনদের যৌক্তিক মতামত বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ