ঢাকা, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩

জেনেক্স শেয়ার নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত, আদনানের দুই বিও হিসাব স্থগিত

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৭ ১০:৩৮:৩১
জেনেক্স শেয়ার নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত, আদনানের দুই বিও হিসাব স্থগিত

বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধানের মধ্যে এনআরবিসি ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আদনান ইমামের নিয়ন্ত্রিত জেনেক্স ইনফোসিসের শেয়ার বিক্রি ও হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে পাঠানো অনুসন্ধান প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিএসইসির নির্দেশনার পর সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) আদনান ইমামের দুটি বিও হিসাবের ডেবিট লেনদেন স্থগিত করেছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম বলেন, আদনান ইমামকে নিয়ে বিএফআইইউর পাঠানো অনুসন্ধান প্রতিবেদন ও সুপারিশ পর্যালোচনা করে কমিশন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিও হিসাব থেকে জেনেক্স ইনফোসিসের শেয়ার বিক্রি ও হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

বিএফআইইউর চিঠির পর ব্যবস্থা

সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত ২১ জুলাই এ বিষয়ে বিএসইসির কাছে চিঠি পাঠায় বিএফআইইউ। পরে ৪ আগস্ট বিএফআইইউর অনুরোধের ভিত্তিতে সিডিবিএলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয় বিএসইসি। এরপর আদনান ইমামের সংশ্লিষ্ট বিও হিসাবগুলোর ডেবিট লেনদেন স্থগিত করা হয়।

জানা গেছে, ডিএসএফএম সিকিউরিটিজ ও সিটি ব্রোকারেজের দুটি সক্রিয় লিংক বিও হিসাবে আদনান ইমামের জেনেক্স ইনফোসিসের শেয়ার রয়েছে। এসব হিসাব থেকে শেয়ার বিক্রি কিংবা অন্য কোনো হিসাবে স্থানান্তর করা যাবে না।

এ ছাড়া আদনান ইমামের প্রাইম ব্যাংক সিকিউরিটিজ ও লংকাবাংলা সিকিউরিটিজেও বিও হিসাব রয়েছে। তার একাধিক বিও হিসাবের মধ্যে যেসব হিসাবে জেনেক্স ইনফোসিসের শেয়ার রয়েছে, সেগুলোর ডেবিট লেনদেন স্থগিত রাখা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে ১৬ সম্পদের অনুসন্ধান

বিএফআইইউর অনুসন্ধান প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যে আদনান ইমামের নামে ১৬টি বাড়ি ও ফ্ল্যাটের সন্ধান পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সম্পদ বাংলাদেশ থেকে পাচার করা অর্থের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে কি না, তা নিয়ে অনুসন্ধান চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জেনেক্স ইনফোসিসের নামে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) থেকে নেওয়া ঋণের অর্থের একটি অংশ ভিন্ন খাতে স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে।

বিএফআইইউর তথ্য অনুযায়ী, জেনেক্স ইনফোসিসকে ইউসিবি থেকে ৩১৫ কোটি ২০ লাখ টাকার ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড ঋণসুবিধা দেওয়া হয়েছিল। ঋণ অনুমোদন ও বিতরণের সময় গ্রাহকের আর্থিক সক্ষমতা, নগদপ্রবাহ, ব্যবসার প্রকৃত অবস্থা, জামানতের পর্যাপ্ততা এবং ঋণের অর্থ ব্যবহারের বিষয় যথাযথভাবে তদারকি করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঋণের অর্থ অন্য খাতে ব্যবহারের অভিযোগ

বিএফআইইউর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ঋণের অর্থ ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারের পরিবর্তে বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর, পুরোনো ঋণ সমন্বয় এবং পুনঃতফসিলের ডাউনপেমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিস্থিতি আড়াল এবং প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা গোপন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচারের সন্দেহ

২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জেনেক্স ইনফোসিসের লেনদেন পর্যালোচনা করে অনুসন্ধান চালায় বিএফআইইউ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে ইস্যু করা অধিকাংশ এলসি পরবর্তী সময়ে ফোর্স লোন, টার্ম লোন ও টাইম লোনে রূপান্তর করে সমন্বয় দেখানো হয়েছে।

তবে আমদানি করা পণ্য ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করা হয়নি এবং পণ্য বিক্রির অর্থও ব্যাংকে ফেরত আসেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে ঋণের অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে বিএফআইইউ।

এ ছাড়া ওয়ার্ক অর্ডার ফাইন্যান্সের আওতায় জেনেক্স ইনফোসিসকে দেওয়া প্রায় ২৯ কোটি টাকার অর্থ কার্যাদেশ সম্পন্ন হওয়ার পরও ব্যাংকে ফেরত না আসার বিষয়টিকেও সন্দেহজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএফআইইউর প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ১ হাজার ১৭ কোটি টাকার ঋণ অনাদায়ী ও মন্দমানের খেলাপি ঋণে পরিণত হওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো অনুসন্ধান ও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে; এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আলাদাভাবে বিবেচ্য।

পাঠকের মতামত: