শাস্তির পর এবার স্বস্তির বার্তা, মওকুফের পথে এনবিআরের ২৪ কর্মকর্তা
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিভাজন ইস্যুতে আন্দোলনের জেরে সাময়িক বরখাস্ত ও পরে লঘুদণ্ড পাওয়া ২৪ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ হতে যাচ্ছে। শাস্তি মওকুফ চেয়ে আয়কর ক্যাডারের ১৪ জন এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ক্যাডারের ১০ কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছেন।
সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রক্রিয়া শেষে আবেদনগুলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।
এনবিআরের পক্ষ থেকেও এসব কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ ঘটনায় কর্মকর্তাদের মধ্যে যে অস্বস্তি ও মনোবলহীনতা তৈরি হয়েছে, শাস্তি মওকুফ হলে তা কাটিয়ে রাজস্ব আহরণে গতি ফিরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের যে দণ্ড দেওয়া হয়েছে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছি। এখানে মাফ পাওয়ার কোনো বিষয় নেই। তিনি চাইলে দণ্ড আরও বাড়াতে পারেন, অথবা আমাদের আবেদন গ্রহণ করতে পারেন।’
যেভাবে শুরু হয়েছিল আন্দোলন
২০২৫ সালের মে মাসে এনবিআরকে ভেঙে ‘রাজস্ব নীতি’ ও ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ নামে দুটি পৃথক বিভাগ করার অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এর বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
কর্মকর্তাদের অভিযোগ ছিল, এনবিআর বিভক্ত হলে তাদের পদ, দায়িত্ব, ক্যারিয়ার কাঠামো ও সাংগঠনিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অধ্যাদেশ বাতিল ও সংশোধনের দাবিতে ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’ আন্দোলনে নামে।
একপর্যায়ে আন্দোলন কঠোর রূপ নেয় এবং এনবিআরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে থাকে। দেশের বিভিন্ন কাস্টম হাউজ ও স্থলবন্দরের কার্যক্রমেও অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। আমদানি-রপ্তানি পণ্য খালাস বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
পরে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়।
৩৯ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা
আন্দোলন প্রত্যাহারের সময় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। একই অবস্থানে ছিলেন তৎকালীন এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান। পাশাপাশি অধ্যাদেশ সংশোধনের বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটিও গঠন করা হয়।
এরপর আন্দোলনে সরাসরি সম্পৃক্ত ৩৯ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয় অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)। তাদের মধ্যে এনবিআরের তিন সদস্য ও একজন কমিশনারকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।
অন্য কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করার পর তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। পরে লঘুদণ্ড হিসেবে কয়েকজনের বেতন গ্রেড দুই থেকে সর্বোচ্চ তিন ধাপ পর্যন্ত অবনমন করা হয়। এতে কর্মকর্তারা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পদোন্নতিতেও বাধার মুখে পড়েন।
রাজস্ব আদায়েও প্রভাব?
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, শাস্তির ঘটনায় এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও মনোবলহীনতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব রাজস্ব আহরণেও পড়েছে বলে মনে করছেন তারা।
গত অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হয়েছে।
সম্প্রতি এনবিআরের রাজস্ব সম্মেলনে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা হয়। সেখানে কর্মকর্তারা আন্দোলনের ঘটনায় দেওয়া শাস্তি মওকুফের আবেদন জানান। এ সময় শাস্তি মওকুফের বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এর ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে আয়কর ক্যাডারের ১৪ জন এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ক্যাডারের ১০ কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতির কাছে শাস্তি মওকুফের আবেদন করেন।
‘কর্মকর্তাদের মোটিভেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে’
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনবিআরের কর্মকর্তাদের নৈতিকতায় বড় ধরনের চিড় ধরেছিল। ফলে রাজস্ব আদায়েও গতি হারাতে থাকে। সরকারের উদ্যোগ কর্মকর্তাদের মোটিভেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।
তার মতে, বড় রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রাজস্ব কর্মকর্তাদের মনোবল ও কর্মচাঞ্চল্য গুরুত্বপূর্ণ। শাস্তি মওকুফ হলে কর্মকর্তাদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা যাবে।
তবে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং আন্দোলনের ক্ষেত্রে যাতে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনের মতো পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার পরামর্শও দেন তিনি।
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ওয়ালটনের চমক
- আজকের স্বর্ণের দাম: ভরিতে কমেছে ৭,১১৫ টাকা
- ২৪ স্টেশন নিয়ে আসছে নতুন মেট্রোরেল
- ফ্রিজে টয়লেট পেপার রাখার আগে জেনে নিন এর আসল উপকারিতা
- রুমিন-ফজলুরকে নিয়ে মাদানীর বিস্ফোরক মন্তব্য
- ২৯ আগস্টের বাজারদর ও ভরির দাম একনজরে
- নতুন পে স্কেলে বেতন বাড়ছে কত, ২০ গ্রেডের প্রস্তাবিত তালিকা প্রকাশ
- যেভাবে থানা থেকে পালিয়েছিলেন মিতু
- ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সৌদির অবস্থান স্পষ্ট
- মুনাফা কমে যেতে পারে, সঞ্চয়পত্র কেনার আগে ৫ ভুল করবেন না
- ক্ষোভ থেকে ১৭ বছরের কিশোরের অভিনব উদ্যোগ