ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

রুমিন-ফজলুরকে নিয়ে মাদানীর বিস্ফোরক মন্তব্য

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩০ ১০:২৫:৫৩
রুমিন-ফজলুরকে নিয়ে মাদানীর বিস্ফোরক মন্তব্য

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যে বিএনপির নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে আলেমদের প্রতিক্রিয়ার তুলনা টেনেছেন শিশুবক্তা হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম মাদানী।

তার দাবি, হাসনাতের সঙ্গে আলেম ও মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের সম্পর্ক এবং জুলাইয়ের আন্দোলনে একসঙ্গে থাকার কারণে তার বক্তব্যে তারা কষ্ট পেয়েছেন।

রোববার (৩০ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন মাদানী।

‘হাসনাতের ক্ষেত্রে আলেমরা কেন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন’

পোস্টে মাদানী লেখেন, কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন—হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের ক্ষেত্রে আলেমরা এত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন, অথচ ফজলুর রহমান, রুমিন ফারহানা বা অন্য কেউ একই ধরনের কথা বললে তারা কেন এমন প্রতিক্রিয়া দেখান না।

এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে ‘ফান্ডিং আন্দোলন’-এর ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর জবাবে মাদানী প্রশ্ন করেন, রুমিন ফারহানা বা ফজলুর রহমানের ডাকে কোনো মাদ্রাসাশিক্ষার্থী শাহবাগে গিয়েছিল কি না। একইভাবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার আন্দোলনে কার ডাকে স্কুলের পাশাপাশি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছিল, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

হাসনাতের সঙ্গে যোগাযোগের প্রসঙ্গ

হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে নিজের যোগাযোগের প্রসঙ্গ তুলে মাদানী বলেন, একসময় হাসনাত তাকে ফোন করে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নিতে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় আসতে বলেছিলেন।

এতে তিনি অবাক হয়েছিলেন বলেও জানান। কারণ, তার ফোন নম্বর হাসনাত কোথা থেকে পেয়েছিলেন, তা তিনি জানতেন না।

মাদানীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তিনি সঙ্গে থাকা লোকজনকে নিয়ে ঢাকায় যান এবং শাহবাগে অনেক মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে উপস্থিত দেখতে পান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর হাসনাতের আমন্ত্রণে তার বাড়িতে আয়োজিত একটি মাহফিলেও অংশ নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

রুমিন ও ফজলুর রহমানকে নিয়ে মন্তব্য

রুমিন ফারহানা ও ফজলুর রহমানকে নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন মাদানী। তাদের ‘বাইরের এজেন্ট’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তারা পায়ে ধরে সারাদিন পড়ে থাকলেও তিনি কোথাও যাবেন না।

হাসনাত আবদুল্লাহ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও নাহিদ ইসলাম মাদ্রাসা বা মসজিদে গেলে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের মানুষ মনে করে সম্মান ও ভালোবাসা দেখান বলেও দাবি করেন তিনি।

মাদানী লেখেন, সংসদের মতো জায়গায় তারা ‘না জেনে, না শুনে’ বক্তব্য দিলে স্বাভাবিকভাবেই কষ্ট লাগে।

‘ওপেন শত্রুতা সহ্য হয়, মোনাফেকি না’

মাদানীর ভাষ্য, আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে থাকা ‘শাহবাগী মার্কা কথা বলা’ ব্যক্তিদের বক্তব্যে আলেমদের তেমন প্রতিক্রিয়া হয় না। কারণ, তাদের অবস্থান আগে থেকেই ‘চিহ্নিত’ বলে মনে করেন তিনি।

তবে যাদের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এবং যাদের সঙ্গে ভালোবাসা ও সম্পর্ক রয়েছে, তারা এমন কিছু করলে সেটিকে তিনি ‘বেঈমানী’ হিসেবে দেখেন।

পোস্টের শেষ দিকে মাদানী লেখেন, ‘ওপেন শত্রুতা সহ্য হয়, মোনাফেকি না!’

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ