ঢাকা, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

৯১ মিনিটের গোলে এলচেকে হারিয়ে শীর্ষে রিয়াল

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ১১:১১:১১
৯১ মিনিটের গোলে এলচেকে হারিয়ে শীর্ষে রিয়াল

এলচের মাঠে দুই গোলের লিড নষ্ট করেও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে ফিরেছে রিয়াল মাদ্রিদ। মঙ্গলবার ৩-২ ব্যবধানে জয়ে রিয়ালের নায়ক বদলি হিসেবে নামা কার্লোস এসপি। ৯১ মিনিটে তাঁর করা গোলেই জয় নিশ্চিত হয়। এই জয়ে ছয় ম্যাচে পাঁচটি জয় নিয়ে বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্ট সমতায় লা লিগার শীর্ষে উঠে এসেছে রিয়াল।

এলচের বিপক্ষে এসপির গোলটি ছিল ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তের। কিলিয়ান এমবাপ্পের কাছ থেকে বল পেয়ে তিনি ব্যাক পোস্টে পৌঁছে যান এবং সেখান থেকে জালে বল পাঠান। চলতি মৌসুমে এর আগেও এসপি রিয়ালকে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাঁচিয়েছিলেন। মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচে এস্পানিওলের বিপক্ষেও শেষদিকে গোল করেছিলেন তিনি।

গ্রীষ্মে লেভান্তে থেকে রিয়ালে যোগ দেওয়া এসপি এখনো দলের হয়ে কোনো ম্যাচে শুরু থেকে খেলেননি। তবে তাঁর করা দুটি গোলই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এমবাপ্পের গোলে দুই গোলের লিড

ম্যাচের শুরুতেই ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে দিয়ে আক্রমণ সাজায় রিয়াল। দ্বিতীয় মিনিটে আরদা গুলেরের পাস থেকে সুযোগ পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন ভিনিসিয়ুস। পরে বক্সের প্রান্ত থেকেও তাঁর আরেকটি শট লক্ষ্যে থাকেনি।

প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়েই এগিয়ে যায় রিয়াল। গুলেরের নেওয়া ফ্রি-কিক দেয়াল ঘুরে পোস্টে লাগে। এরপর বল এলচের গোলরক্ষক মাতিয়াস দিতুরোর গায়ে লেগে গোললাইন পার হয়ে যায়। ফলে আত্মঘাতী গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল।

এর মাত্র আট মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে রিয়াল। রেকর্ড সাইনিং ইয়ান দিয়োমান্দে ডান দিক থেকে ক্রস বাড়ান। সেই বল কাজে লাগিয়ে দিতুরোকে পরাস্ত করেন এমবাপ্পে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি ছিল চলতি মৌসুমে তাঁর অষ্টম গোল।

গোলের পর গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে এমবাপ্পে কিছুটা চোট পেয়েছেন বলে মনে হলেও দ্রুতই তিনি খেলা চালিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় ফিরে আসেন।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয় এলচে

বিরতির পর দিয়োমান্দে ও এমবাপ্পে আবারও সমন্বয় তৈরি করেন। তবে দিয়োমান্দের জোরালো ক্রস থেকে এমবাপ্পের হেড বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপর ভিনিসিয়ুসও গোলের সুযোগ পান, কিন্তু তাঁর শট বাইরে চলে যায়। পরে তাঁকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়।

দুই গোলের পিছিয়ে থাকা এলচে এরপর ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজে নেয়। লুকাস সেপেদার ক্রস থেকে আবিয়েল ওসোরিও উঁচুতে উঠে হেড করে রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ারকে পরাস্ত করেন। এতে ব্যবধান কমে আসে ২-১।

এই গোলের পর চাপে পড়ে রিয়াল। এলচের আক্রমণ আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে এবং ৮৩ মিনিটে সমতা ফেরায় স্বাগতিকরা। স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড নিনো নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে রিয়ালের বিপক্ষে স্কোর ২-২ করে দেন।

এসপির শেষ মুহূর্তের গোলেই রিয়ালের জয়

দুই গোলের ব্যবধান হারিয়ে ম্যাচ ড্রয়ের দিকে এগোতে থাকলেও হোসে মরিনিয়ো জয় ছাড়া অন্য কিছু চাননি। শেষদিকে তিনি কার্লোস এসপি ও এন্ড্রিককে আক্রমণে নামান। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত কাজে আসে।

৯১ মিনিটে ব্যাক পোস্টের দিকে দৌড় দেন এসপি। এমবাপ্পে তাঁকে বলটি পৌঁছে দিলে সুযোগটি কাজে লাগাতে কোনো ভুল করেননি তিনি। তাঁর শটেই রিয়াল ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত ওই ব্যবধান ধরে রেখে মাঠ ছাড়ে।

মরিনিয়ো ম্যাচের পর জানান, এসপি অত্যন্ত অনুপ্রেরণা নিয়ে মাঠে নামেন। তবে তাঁর সামনে এমবাপ্পের মতো একজন খেলোয়াড় থাকায় নিয়মিত একাদশে জায়গা পাওয়া সহজ নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রিয়াল কোচ আরও বলেন, দুই খেলোয়াড়কে একসঙ্গে খেলানো সহজ নয়। শেষদিকে তিনি যে পরিবর্তনগুলো করেছেন, তাতে ঝুঁকি নিয়েছিলেন, কারণ ড্র রিয়ালের জন্য যথেষ্ট ছিল না।

দুই গোলের লিড ধরে রাখতে না পারায় মরিনিয়োর অসন্তোষ

ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পরও এলচেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়ায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি মরিনিয়ো। তাঁর মতে, এমন কিছু ম্যাচ থাকে যেগুলো প্রায় শেষ হয়ে গেলেও দল সেগুলো দ্রুত শেষ করতে পারে না। এরপর সহজ পরিস্থিতিই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

এদিকে এলচের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমবারের মতো চলতি মৌসুমে জুড বেলিংহামকে বিশ্রাম দেন মরিনিয়ো। তাঁর জায়গায় একাদশে সুযোগ পান আরদা গুলের।

সেউতার বাসিন্দাদের সমর্থনে দুই দলের বার্তা

ম্যাচের আগে দুই দলের খেলোয়াড়েরা উত্তর আফ্রিকার স্প্যানিশ ভূখণ্ড সেউতায় সাম্প্রতিক অভিবাসন সংকটের পর সেখানকার বাসিন্দাদের সমর্থনে টি-শার্ট পরেন। তবে কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ইব্রাহিমা কোনাতে টি-শার্টগুলো অর্ধেক পর্যন্ত গুটিয়ে পরেছিলেন। এতে ‘we are all Ceutans’ বার্তাটি কিছুটা আড়ালে পড়ে যায়।

একই দিনে ভ্যালেন্সিয়া ও রায়োও জয় পেল

মঙ্গলবারের অন্য ম্যাচে আলাভেসকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ভ্যালেন্সিয়া। একই দিনে এস্পানিওলকে ২-১ গোলে পরাজিত করেছে রায়ো ভায়েকানো।

ভ্যালেন্সিয়ার জন্য এটি ছিল চলতি মৌসুমের প্রথম জয়। রোববার কোচ কার্লোস কোরবেরানকে বরখাস্ত করার পর ম্যাচে নামে দলটি। শেষ বাঁশি বাজার ১২ মিনিট আগে লুইস রিওহার করা গোলেই জয় নিশ্চিত করে ভ্যালেন্সিয়া।

রিয়ালের জয় অবশ্য তাদের লা লিগার শীর্ষে বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্ট সমতায় নিয়ে গেছে। বার্সেলোনা বুধবার রেসিং সান্তান্দারের বিপক্ষে নিজেদের ম্যাচ খেলবে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ