ঢাকা, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

আইপিও আবেদন ও ডাইরেক্ট লিস্টিং নিয়ে নতুন বার্তা দিল বিএসইসি

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ১৪:৪০:২২
আইপিও আবেদন ও ডাইরেক্ট লিস্টিং নিয়ে নতুন বার্তা দিল বিএসইসি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে কোম্পানির প্রয়োজন অনুযায়ী দুটি ভিন্ন পথ সামনে আনছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ব্যবসা পরিচালনা বা সম্প্রসারণে নতুন অর্থের প্রয়োজন থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো আইপিওর মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে। আর নতুন অর্থ না তুলেও বিদ্যমান শেয়ারধারীদের শেয়ার বিক্রির সুযোগ নিয়ে তালিকাভুক্ত হতে চাওয়া প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির জন্য তৈরি হচ্ছে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের ব্যবস্থা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে বিএসইসি।

আইপিওতে আগ্রহীদের অপেক্ষা না করার পরামর্শ

বর্তমানে আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসতে চাইলে কোম্পানিকে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস, ২০২৫’ অনুসরণ করতে হচ্ছে।

এই প্রক্রিয়ায় থাকা কোম্পানিগুলোকে নিয়ে আলাদা করে অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে কমিশন। বিএসইসির বক্তব্য অনুযায়ী, যারা ইতোমধ্যে আইপিওর আবেদন করেছে অথবা আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তারা বিদ্যমান নিয়ম মেনেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবে।

আইপিওর বিধিমালায় সামনে কোনো পরিবর্তন আসতে পারে—এই কারণে আবেদন স্থগিত রাখা বা প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে বিধিমালায় সংস্কার, পরিবর্তন কিংবা শিথিলতা এলে, যেখানে প্রযোজ্য সেখানে বর্তমানে আবেদন করা কোম্পানিগুলোকেও সেই সুবিধার আওতায় নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিএসইসি।

নতুন অর্থ না তুলেও তালিকাভুক্তির পথ

তালিকাভুক্তির আরেকটি সম্ভাব্য কাঠামো হচ্ছে ডাইরেক্ট লিস্টিং। এ ব্যবস্থাটি মূলত এমন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির জন্য, যাদের ব্যবসা চালানো বা সম্প্রসারণের জন্য নতুন করে মূলধন সংগ্রহের প্রয়োজন নেই। তবে কোম্পানির বর্তমান শেয়ারধারীরা নিজেদের হাতে থাকা শেয়ার অফলোড করে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে চাইলে এই পদ্ধতি কাজে আসতে পারে।

এখানে কোম্পানি নতুন শেয়ার ছাড়বে না। জনসাধারণের কাছ থেকেও নতুন মূলধন সংগ্রহ করা হবে না। বিদ্যমান শেয়ারধারীদের শেয়ার অফলোডের মাধ্যমেই তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের খসড়া প্রকাশ

এই ব্যবস্থাকে বাস্তব রূপ দিতে বিএসইসি ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ডাইরেক্ট লিস্টিং অব সিকিউরিটিজ অন দ্য স্টক এক্সচেঞ্জ) রুলস, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে। খসড়াটি ইতোমধ্যে জনমত আহ্বানের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত নিয়মে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী কোম্পানিগুলো ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবে। কমিশনের বিবেচনায়, এমন একটি ব্যবস্থা চালু হলে পুঁজিবাজারে নতুন ও সক্ষম কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যমান শেয়ারধারীদের শেয়ার অফলোডের সুযোগও তৈরি হবে। এর ফলে বাজারের গভীরতা ও পরিধি সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিএসইসি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ডাইরেক্ট লিস্টিং-সংক্রান্ত বিধিমালা অতি শীঘ্রই গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে কার্যকর হবে। ফলে প্রস্তাবিত কাঠামোর আওতায় পড়তে পারে এমন এবং তালিকাভুক্তিতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোকে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করছে কমিশন।

কোম্পানির প্রয়োজনই নির্ধারণ করবে পথ

বিএসইসির দেওয়া ব্যাখ্যায় তালিকাভুক্তির দুটি পদ্ধতির উদ্দেশ্য আলাদা করে দেখা যাচ্ছে। নতুন মূলধন দরকার হলে আইপিওর মাধ্যমে বাজারে আসার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠিত কোনো কোম্পানির নতুন অর্থের প্রয়োজন না থাকলেও বিদ্যমান শেয়ারধারীরা শেয়ার অফলোড করে তালিকাভুক্ত হতে চাইলে ডাইরেক্ট লিস্টিং সম্ভাব্য পথ হতে পারে।

অর্থাৎ, কোম্পানির ব্যবসায়িক প্রয়োজন ও বিদ্যমান শেয়ার কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তালিকাভুক্তির সুযোগ বেছে নেওয়ার পরিসর বাড়ানোর লক্ষ্যেই দুই ধরনের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিএসইসি।

কমিশন আরও জানিয়েছে, দেশের পুঁজিবাজারে ভালো ও সক্ষম কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়াতে তারা নীতিগত এবং নিয়ন্ত্রক সংস্কার অব্যাহত রাখবে। এর লক্ষ্য একটি গভীর, বৈচিত্র্যময়, স্বচ্ছ ও কার্যকর পুঁজিবাজার গড়ে তোলা।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ