ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

পেনশনের টাকা তোলার সুযোগ, সঙ্গে আরও নতুন সুবিধা

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ১২:৪৯:২১
পেনশনের টাকা তোলার সুযোগ, সঙ্গে আরও নতুন সুবিধা

সর্বজনীন পেনশনে যুক্ত হওয়ার পর চাঁদা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়লে কী হবে, পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রীর সুবিধা কী হবে, কিংবা ৬০ বছরের পরিবর্তে আরও আগে পেনশন নেওয়ার সুযোগ মিলবে কি না—এসব প্রশ্নে এবার পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনায় এমন ছয়টি সুবিধা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ৫৫ বছর বয়সে পেনশন, বিশেষ পরিস্থিতিতে জমা অর্থ তোলা, আজীবন পারিবারিক পেনশন, ইসলামি পদ্ধতির পেনশন, স্বাস্থ্যবিমা ও নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠানের বাড়তি কমিশন।

প্রস্তাবগুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠেয় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ বৈঠকে। বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সেখানে মোট ১১টি বিষয় আলোচনার জন্য রাখা হয়েছে। পর্ষদ অনুমোদন দিলে প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করবে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।

প্রায় তিন বছরে গ্রাহক ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০

দেশে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর পর প্রায় তিন বছর পার হয়েছে। ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়।

বর্তমানে এর আওতায় চারটি কর্মসূচি চলছে—প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাস। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, চার কর্মসূচি মিলিয়ে নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা এখন ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন। তাঁদের জমা করা অর্থের মোট পরিমাণ ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

এই ব্যবস্থাকে আরও আকর্ষণীয় করতে এবার নিয়মে পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

চাঁদা বন্ধ হয়ে গেলে জমা অর্থ নিয়ে নতুন ভাবনা

বর্তমান নিয়মের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো কর্মসূচিতে একবার যুক্ত হওয়ার পর সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ফলে কোনো গ্রাহক শারীরিক বা আর্থিক সমস্যার কারণে নিয়মিত চাঁদা দেওয়া চালিয়ে যেতে না পারলে তার জমা অর্থ নিয়ে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়।

এ অবস্থার পরিবর্তনে একটি বিশেষ ব্যবস্থা আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি হলো—একজন গ্রাহক পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর যদি শারীরিক বা আর্থিক কারণে আর চাঁদা দিতে না পারেন, তাহলে বিশেষ বিবেচনায় তাঁর জমা অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

পেনশনভোগীর পর জীবনসঙ্গীর জন্য আজীবন পেনশন

মৃত্যুর পর পেনশন সুবিধা নিয়ে আরেকটি পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমান ব্যবস্থায় চাঁদাদাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত আজীবন পেনশন পান। তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারের অন্য সদস্য নিয়মিত পেনশন পাওয়ার সুযোগ পান না।

তবে একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বর্তমানে সুবিধা রয়েছে। চাঁদাদাতা ৭৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে মারা গেলে নমিনি তাঁর ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত অবশিষ্ট সময়ের জন্য পেনশন পেতে পারেন।

নতুন প্রস্তাবে এই কাঠামো বদলে পেনশনভোগীর মনোনীত স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অনুমোদন মিললে মৃত্যুর পর জীবনসঙ্গীর জন্যও দীর্ঘমেয়াদি পেনশন সুবিধা চালুর সুযোগ তৈরি হবে।

পেনশন শুরুর বয়স কমতে পারে ৫ বছর

আরেকটি প্রস্তাব সরাসরি পেনশন পাওয়ার বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত। বর্তমানে সর্বজনীন পেনশনে ৬০ বছর বয়সে পেনশন পাওয়ার নিয়ম রয়েছে। নতুন উদ্যোগে সেই সীমা ৫৫ বছরে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত বছরের মে মাসে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের দ্বিতীয় পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে ৬০ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর চাঁদাদাতার জমা অর্থের ৩০ শতাংশ একবারে তোলার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

সুদভিত্তিক ব্যবস্থার বাইরে ইসলামি পদ্ধতির প্রস্তাব

যাঁরা সুদভিত্তিক ব্যবস্থার বাইরে থাকতে চান, তাঁদের কথা বিবেচনায় নিয়ে সর্বজনীন পেনশনের একটি ইসলামি সংস্করণ চালুর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

এটি প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোর মধ্যে অন্যতম। তবে এটি এখনো প্রস্তাবের পর্যায়েই রয়েছে এবং বাস্তবায়নের জন্য পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যবিমা যুক্ত করার উদ্যোগ

সর্বজনীন পেনশনের সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমা যুক্ত করার বিষয়টিও প্রস্তাবিত নতুন সুবিধার তালিকায় রয়েছে।

তবে এই স্বাস্থ্যবিমার কাঠামো কেমন হবে কিংবা কোন পদ্ধতিতে এটি বাস্তবায়ন করা হবে—এ বিষয়ে দেওয়া তথ্যে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠানের কমিশন ১৫ থেকে ২৫ টাকা

শুধু গ্রাহকদের জন্য নয়, পেনশন কর্মসূচিতে নিবন্ধন করানো প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে।

বর্তমানে একজন গ্রাহককে নিবন্ধনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ১৫ টাকা কমিশন পায়। নতুন প্রস্তাবে এই পরিমাণ ২৫ টাকা করার কথা বলা হয়েছে।

ব্যাংক, ডাক বিভাগ, মুঠোফোনে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বা এমএফএস এবং অন্যান্য অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রাহকরা সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিবন্ধিত হন। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে এসব প্রতিষ্ঠানের কমিশনও বাড়বে।

পেনশন তহবিলের জন্য কনটিনজেন্সি তহবিলের প্রস্তাব

পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ঝুঁকি সামলানোর বিষয়টিও আলোচনায় থাকছে। দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি এবং মুনাফার হারের পরিবর্তনের কারণে তৈরি হতে পারে এমন ঝুঁকি মোকাবিলায় রিজার্ভ বা কনটিনজেন্সি তহবিল গঠনের প্রস্তাব রয়েছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ পেনশন তহবিলের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

সব প্রস্তাবের ক্ষেত্রেই এখন পরবর্তী ধাপ নির্ভর করছে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের ওপর। অনুমোদন পাওয়ার পরই প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করবে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ