ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়ার সময় যেভাবে হাত তুলতেন

ধর্ম ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৮ ১২:২৩:৫৯
রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়ার সময় যেভাবে হাত তুলতেন

দোয়ার মুহূর্তে একজন মুমিন তার প্রয়োজন, দুর্বলতা ও আল্লাহর প্রতি নির্ভরতার কথা প্রকাশ করেন। এই ইবাদতের সময় হাত তোলার বিষয়টিও ইসলামী আদবের অংশ হিসেবে বিবেচিত। তবে দোয়ার সময় হাত কতটা ওপরে উঠানো উচিত—এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে।

ইসলামী বিধান অনুযায়ী, সাধারণ দোয়ার ক্ষেত্রে হাত বুকের সমান উচ্চতায় রাখা উত্তম। তবে বিশেষ পরিস্থিতি, দোয়ার ধরন ও গভীর বিনয়ের অবস্থায় হাত আরও উঁচু করার দৃষ্টান্তও পাওয়া যায়।

দোয়ায় হাত ওঠানোর পদ্ধতি সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে মুফতী ও মুহাদ্দিস সাইদুজ্জামান কাসেমি এসব বিষয় তুলে ধরেছেন।

সাধারণ দোয়ায় হাত বুকের সমান রাখা উত্তম

মুফতী ও মুহাদ্দিস সাইদুজ্জামান কাসেমি বলেন, দোয়ার সময় এমন ভঙ্গি হওয়া উচিত, যাতে বান্দার বিনয়, নম্রতা ও আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজনের প্রকাশ ঘটে।

সাধারণ অবস্থায় দুই হাত বুকের সমান্তরালে তোলা এবং দুই হাতের তালুর মধ্যে সামান্য দূরত্ব রাখা দোয়ার আদবের অন্তর্ভুক্ত।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আমলে হাত তোলার বিভিন্ন ধরন

হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দোয়ার সময় হাত তোলার একাধিক পদ্ধতির কথা পাওয়া যায়।

সাহল ইবনু সা‘দ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবী করিম (সা.) দোয়ার সময় তার হাতের আঙুলগুলো কাঁধের সমান পর্যন্ত উঠাতেন।

অন্যদিকে আনাস (রা.) বর্ণিত একটি হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো এমনভাবে হাত তুলেছেন যে তার দুই বগলের শুভ্রতা দেখা গেছে।

এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দোয়ার সময় বুক পর্যন্ত হাত ওঠানোর বিষয়েও প্রমাণ পাওয়া যায়।

হাদিসের বর্ণনাগুলো কীভাবে ব্যাখ্যা করেছেন আলেমরা?

হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনা বিশ্লেষণ করে আলেমরা বলেছেন, স্বাভাবিক দোয়ার ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত বুক পর্যন্ত হাত তুলতেন।

তবে যখন বিশেষ প্রয়োজন, বেশি কাতরতা বা গভীর তাওয়াজুর পরিস্থিতি তৈরি হতো, তখন তিনি তুলনামূলকভাবে বেশি উঁচু করে হাত তুলেছেন।

আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনায় মুখমণ্ডলের সমান্তরাল পর্যন্ত হাত তোলার কথাও পাওয়া যায়।

দোয়ায় হাত মাথা পর্যন্ত নেওয়া কি ঠিক?

দোয়ার সময় হাতের উচ্চতা নিয়ে জানতে চাইলে বলা হয়েছে, সাধারণ অবস্থায় হাত বুকের সমান রাখা উত্তম।

তবে হাতের আঙুল কাঁধের সমান্তরালে পৌঁছালে তা নিয়ে সমস্যা নেই। কিন্তু নিয়মিত অভ্যাস হিসেবে হাত অতিরিক্ত ওপরে তুলে কপাল বা মাথার কাছে নিয়ে যাওয়া পছন্দনীয় নয়।

আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা.) এ ধরনের বিষয়কে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছেন।

বৃষ্টির জন্য দোয়ায় বেশি উঁচু করে হাত তোলার প্রমাণ

যদিও সাধারণ দোয়ার ক্ষেত্রে বুকের সমান হাত তোলার কথা বলা হয়েছে, তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও উঁচু করে হাত তুলেছেন।

ইস্তিসকার বা বৃষ্টির জন্য দোয়ার সময় এমন দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। আনাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তার দুই হাত এত উঁচু করেছিলেন যে, তার দুই বগলের শুভ্রতা দেখা যাচ্ছিল।

এই বর্ণনাটি রয়েছে—

সহিহ বুখারি, ১০৩১; সহিহ মুসলিম, ৮৯৫।

আল্লাহর কাছে হাত তুলে দোয়ার গুরুত্ব

দোয়ার সময় হাত তোলার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত লজ্জাশীল ও দয়ালু। কোনো ব্যক্তি তার কাছে দু’হাত উঠালে তিনি তা শূন্য ও ব্যর্থ অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন।’

(সুনান আবু দাউদ, ১৪৮৮; জামে তিরমিজি, ৩৫৫৬)

এই হাদিসে দোয়ার মর্যাদা এবং আল্লাহর রহমতের প্রতি আশা রাখার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

ইসলামী বিধান অনুযায়ী সাধারণ দোয়ার সময় বুকের সমান্তরালে হাত তোলা আদবের মধ্যে পড়ে। তবে বিশেষ প্রয়োজন বা বিশেষ পরিস্থিতিতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাত আরও উঁচু করার আমলও পাওয়া যায়।

দোয়ার মূল শিক্ষা হলো—আল্লাহর সামনে বিনয়ী হওয়া, নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করা এবং আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁর কাছে প্রার্থনা করা।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ