Md Razib Ali
Senior Reporter
দাম বাড়ার পরও সয়াবিন তেল নেই বাজারে, ভোগান্তিতে ক্রেতা
সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর পর বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। রাজধানীর অনেক মুদি দোকানে চাহিদা অনুযায়ী বোতলজাত তেল মিলছে না। বাজারে কিছু সরবরাহ থাকলেও সেটির বড় অংশ ২ ও ৫ লিটারের বোতল। ফলে অল্প পরিমাণে তেল কিনতে চাওয়া ক্রেতাদের জন্য সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ঘুরে এবং দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে এমন পরিস্থিতির কথা জানা গেছে। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, গত ২ সেপ্টেম্বর ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পরও কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে নিয়মিত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের অভিযোগ, পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বোতলজাত সয়াবিনের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ায় বাজারে প্রয়োজনের তুলনায় তেল কম আসছে।
সরবরাহ আছে, কিন্তু প্রয়োজনমতো বোতল নেই
বাজারে সয়াবিন তেল একেবারেই নেই—বিষয়টি এমন নয়। সমস্যা হচ্ছে, ক্রেতারা যে আকারের বোতল চান, সেটি অনেক সময় পাওয়া যাচ্ছে না।
খুচরা ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, আধা লিটার এবং এক লিটারের বোতল এখন সবচেয়ে বেশি সংকটে। পরিবেশকদের কাছে একাধিকবার চাহিদার কথা জানিয়েও প্রয়োজনীয় পরিমাণ তেল মিলছে না বলে জানিয়েছেন তারা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্তমানে দু-তিনটি কোম্পানি সীমিত পরিমাণে বোতলজাত সয়াবিন বাজারে সরবরাহ করছে। তবে তাদের কাছ থেকে আসা তেলের বেশির ভাগই ২ ও ৫ লিটারের বোতলে। তাই ছোট বোতল প্রয়োজন এমন ক্রেতাদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়েছে।
তেল কিনতেও বাড়ছে সময়
একটি দোকানে গিয়ে তেল না পেয়ে অন্য দোকানে ছুটতে হচ্ছে ক্রেতাদের। অনেক ক্ষেত্রে চার-পাঁচটি দোকান ঘোরার পর কোনো একটি দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে।
তবে সেখানেও পছন্দের আকারের বোতল পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ফলে শুধু তেল কেনার জন্যই ক্রেতাদের বাড়তি সময় দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমাণ বেছে নেওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে যাচ্ছে।
দামও বেড়েছে, লিটারপ্রতি এখন ২০৪ টাকা
সরবরাহের এই সমস্যার মধ্যেই বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম নতুন করে বেড়েছে। প্রতি লিটারে ৫ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ার পর এর নির্ধারিত দাম হয়েছে ২০৪ টাকা।
নতুন দরে ২ লিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছে ৪০৮ টাকায়। আর ৫ লিটারের বোতলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ২০ টাকা।
অর্থাৎ দাম বৃদ্ধির পরও বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় ক্রেতাদের জন্য পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক হয়নি।
ব্যবসায়ীদের লাভ কমেছে কমিশন কমায়
খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগের আরেকটি বিষয় হলো বিক্রয় কমিশন। তাদের দাবি, তেল কোম্পানিগুলো আগের তুলনায় কমিশন কমিয়ে বর্তমানে প্রতি লিটারে মাত্র ১ টাকা দিচ্ছে।
রামপুরার ভাই ভাই স্টোরের দোকানি আফজাল হোসেন বলেন, ৫ লিটারের তেল কেনার সময় ক্রেতারা সাধারণত ৫ থেকে ১০ টাকা কম দেওয়ার চেষ্টা করেন। এর মধ্যে কোম্পানির কমিশন কমে যাওয়ায় বিক্রেতাদের লাভ আরও কমে গেছে।
আফজাল হোসেনের অভিযোগ, ব্যবসায় যে অর্থ বিনিয়োগ করতে হচ্ছে, তার তুলনায় মুনাফা খুবই সামান্য। তারপরও কোম্পানির কাছ থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না।
বোতলজাত তেলের সংকটে খোলা তেলেও চাপ
বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট শুধু ওই বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর প্রভাব পড়েছে খোলা তেলের দামেও।
বাজারে বর্তমানে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ২০৫ থেকে ২০৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে খোলা পাম তেলের দাম প্রতি লিটার ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা।
ফলে ক্রেতাদের সামনে তৈরি হয়েছে দুই ধরনের সমস্যা। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রয়োজনমতো পাওয়া যাচ্ছে না, আবার বিকল্প হিসেবে খোলা সয়াবিন তেল কিনতে গেলে দিতে হচ্ছে ২০৫ থেকে ২০৮ টাকা।
স্বাভাবিক সরবরাহই এখন মূল প্রত্যাশা
খুচরা বিক্রেতাদের মতে, বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়ানো ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিশেষ করে আধা লিটার ও এক লিটারের বোতল নিয়মিত পাওয়া না গেলে ছোট পরিমাণে তেল কিনতে চাওয়া ক্রেতাদের ভোগান্তি অব্যাহত থাকবে।
এখন ব্যবসায়ী ও ক্রেতা—দুই পক্ষেরই প্রত্যাশা, কোম্পানিগুলো বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে বোতলজাত সয়াবিন তেল ছাড়বে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে তেলের সংকট এবং দোকান থেকে দোকানে ঘোরার সমস্যাও কমবে বলে আশা করছেন বিক্রেতারা।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- অনলাইনে নামজারি আবেদন করবেন যেভাবে, লাগবে যেসব কাগজ
- বাংলাদেশ বনাম ভুটান ম্যাচ: ৯০ মিনিটের খেলা শেষ, জানুন ফলাফল
- Hero Xtreme 250R: দাম, মাইলেজ ও সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন
- বাংলাদেশ বনাম ভুটান ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, জানুন ফলাফল
- HONOR 700 Pro: পেছনের ডিসপ্লে ও ৯০০০mAh ব্যাটারির চমক
- বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভিযানে নিহত সৈনিক, উদ্ধার ৫৭ জিম্মি
- ১০ হাজার mAh ব্যাটারি নিয়ে আসছে iQOO Z12 Series?