ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

Md Razib Ali

Senior Reporter

৪০-৪৫ হাজার টাকায় যে ৫ ফোন রাখতে পারেন তালিকায়

তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ১২:১৭:৫০
৪০-৪৫ হাজার টাকায় যে ৫ ফোন রাখতে পারেন তালিকায়

৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা—স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে এই বাজেট একসময় ফ্ল্যাগশিপ-কিলার ফোনের জন্য বেশ পরিচিত ছিল। এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। একই অর্থ খরচ করেও ক্রেতাকে তাই ঠিক করতে হচ্ছে, তিনি ক্যামেরা চান, গেমিং ও পারফরম্যান্সকে অগ্রাধিকার দেবেন, নাকি সব দিক মিলিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ডিভাইস খুঁজবেন।

বর্তমান বাজারে এই দামের আশপাশে কয়েকটি ফোন থাকলেও কোনটি কার জন্য উপযুক্ত, সেটিই মূল বিষয়। শুধু ব্র্যান্ডের নাম দেখে বা অনেক পুরোনো মডেল বেছে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিলে পছন্দের সঙ্গে প্রয়োজনের মিল নাও হতে পারে। সেই জায়গা থেকেই প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকার মধ্যে থাকা পাঁচটি স্মার্টফোনকে আলাদা আলাদা ব্যবহারের দিক থেকে দেখা যায়।

ক্যামেরা অগ্রাধিকার হলে সামনে আসবে ২০০ মেগাপিক্সেল

ক্যামেরাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলে Vivo V7F 5G নজরে রাখা যেতে পারে। ফোনটির ডিসপ্লেতে AMOLED প্যানেলের সঙ্গে 120Hz রিফ্রেশ রেট রয়েছে। প্রসেসর হিসেবে রয়েছে MediaTek Dimensity 7360 এবং স্টোরেজ প্রযুক্তি UFS 3.1।

তবে ক্যামেরা বিভাগেই ফোনটির বড় বৈশিষ্ট্যটি দেখা যায়। পেছনে 200 মেগাপিক্সেলের মেইন ক্যামেরার সঙ্গে 8 মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা রয়েছে। সামনে 32 মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে অবশ্য ফ্রন্ট ক্যামেরার রেজল্যুশন 50 মেগাপিক্সেল। ফলে ক্যামেরাকে কেন্দ্র করে ফোন বাছাই করলে Vivo V7F 5G একটি অপশন হতে পারে। তবে এতে টেলিফটো ক্যামেরা নেই।

ব্যাটারির দিক থেকেও ফোনটি বড় সক্ষমতার। 7000mAh ব্যাটারির পাশাপাশি বক্সে 90W চার্জিং সিস্টেম দেওয়া হচ্ছে।

বেশি গুরুত্ব পারফরম্যান্সে? দুটি ফোন আলাদা করে দেখুন

গেমিং কিংবা দ্রুত পারফরম্যান্সের প্রয়োজন হলে তালিকায় থাকা Redmi Turbo 4 Pro এবং iQOO Z10 Turbo Pro-কে অন্যভাবে বিবেচনা করা যায়।

প্রায় ৪৩ হাজার টাকার বাজেট থাকলে Redmi Turbo 4 Pro দেখা যেতে পারে। এতে AMOLED ডিসপ্লে, 120Hz রিফ্রেশ রেট এবং 1.5K রেজল্যুশন রয়েছে। প্রসেসর হিসেবে Snapdragon 8s Gen 4 এবং স্টোরেজে UFS 4.1 ব্যবহার করা হয়েছে।

ফোনটির ব্যাটারি 7550mAh, সঙ্গে রয়েছে 90W চার্জিং সিস্টেম। ক্যামেরায় 50 মেগাপিক্সেলের মেইন ক্যামেরা ও 8 মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা রয়েছে। ফ্রন্ট ক্যামেরা 20 মেগাপিক্সেলের।

অন্যদিকে প্রায় ৪৫ হাজার টাকার প্রাইস ব্র্যাকেটে iQOO Z10 Turbo Pro-ও পারফরম্যান্সনির্ভর ফোন হিসেবে দেখা যেতে পারে। AMOLED প্যানেলের সঙ্গে এতে 144Hz রিফ্রেশ রেট ও বিলিয়ন কালার সাপোর্ট রয়েছে। এখানেও Snapdragon 8s Gen 4 প্রসেসর এবং UFS 4.1 স্টোরেজ পাওয়া যাচ্ছে।

iQOO ফোনটির ব্যাটারি 7000mAh। চার্জিংয়ের ক্ষেত্রে 120W সিস্টেম রয়েছে এবং এর চার্জার আকারে বেশ বড়। ক্যামেরায় 50 মেগাপিক্সেলের মেইন, 8 মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড এবং 16 মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ, Redmi Turbo 4 Pro ও iQOO Z10 Turbo Pro—দুই ফোনেই একই প্রসেসর ও স্টোরেজ প্রযুক্তি থাকলেও ডিসপ্লের রিফ্রেশ রেটে পার্থক্য রয়েছে। iQOO মডেলটিতে 144Hz রিফ্রেশ রেট। এর দামও কিছুটা বেশি। তাই একই ধরনের পারফরম্যান্সকেন্দ্রিক ফোনের মধ্যে পছন্দ করার সুযোগ থাকছে।

ব্র্যান্ডের জায়গায় Samsung চাইলে রয়েছে Galaxy A57

সব ক্রেতার চাহিদা শুধু স্পেসিফিকেশন ঘিরে নয়; কারও কাছে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডও গুরুত্বপূর্ণ। Samsung পছন্দ করেন এমন ব্যবহারকারীদের জন্য এই তালিকায় রাখা হয়েছে Galaxy A57।

ফোনটির দাম প্রায় 43,500 টাকা। এতে Super AMOLED প্যানেল এবং 120Hz রিফ্রেশ রেট রয়েছে। স্ক্রিন সুরক্ষায় Corning Glass Victus Plus দেওয়া হয়েছে। প্রসেসর হিসেবে Exynos 1680 এবং স্টোরেজে UFS 3.1 ব্যবহার করা হয়েছে।

নিয়মিত কাজের ক্ষেত্রে এই প্রসেসর ভালোভাবে কাজ করতে পারে। তবে গেমিংয়ের সময় ফোন কিছুটা গরম হয়। তাই গেমিংকে প্রধান ব্যবহার হিসেবে যারা দেখছেন, তাদের জন্য এটি উপযুক্ত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

Galaxy A57-তে 5000mAh ব্যাটারি ও 45W চার্জিং সিস্টেম রয়েছে। ক্যামেরায় 50 মেগাপিক্সেলের মেইন সেন্সর, 12 মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড ও 5 মেগাপিক্সেলের ম্যাক্রো ক্যামেরা রয়েছে। সামনে পাওয়া যাচ্ছে 12 মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।

মেইন ক্যামেরাসহ সামগ্রিকভাবে ক্যামেরা ভালো বলা হয়েছে। তবে টেলিফটো ক্যামেরা না থাকায় সেই সুবিধাটি এখানে নেই। এই ফোনটিকে তালিকায় রাখার কারণ হিসেবে Samsung ব্যবহারকারীদের জন্য একটি অপশন রাখার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

সবকিছু কিছুটা মিলিয়ে চাইলে Nothing Phone 4

কেউ যদি একটি নির্দিষ্ট দিকের বদলে ক্যামেরা, নিয়মিত ব্যবহার ও পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে তুলনামূলক ব্যালান্সড প্যাকেজ খুঁজে থাকেন, তাহলে Nothing Phone 4 বিবেচনা করা যেতে পারে। ফোনটি 45,000 টাকার বেশি দামের মধ্যে পাওয়া যায়।

এর AMOLED ডিসপ্লেতে 120Hz রিফ্রেশ রেটের পাশাপাশি 4500 nits ব্রাইটনেস রয়েছে। ইউনিক ডিজাইনও ফোনটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

পারফরম্যান্সের জন্য Snapdragon 7s Gen 4 প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। এটি মোটামুটি ব্যালান্সড পারফরম্যান্স দিতে পারে। তবে গেমিংয়ের জন্য এটিকে সেরা কিছু বলা হচ্ছে না। তালিকায় এর চেয়ে ভালো GPU-র ডিভাইসও রয়েছে। অবশ্য নিয়মিত কাজের পাশাপাশি টুকটাক গেমিং সামলাতে পারে।

স্টোরেজ প্রযুক্তি UFS 3.1। ক্যামেরার জায়গায় ফোনটিতে রয়েছে 50 মেগাপিক্সেলের মেইন ক্যামেরা, 50 মেগাপিক্সেলের টেলিফটো এবং 8 মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড শুটার। টেলিফটো ক্যামেরায় 3.5x অপটিক্যাল জুম রয়েছে। ফলে ক্যামেরার বৈচিত্র্যের দিক থেকে এখানে আলাদা সুবিধা পাওয়া যায়। 32 মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরাও ভালো ফল দেয়।

ব্যাটারির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংস্করণে রয়েছে 5080mAh ব্যাটারি। ভারতীয় সংস্করণে 400mAh ব্যাটারি এবং 50W চার্জিং সিস্টেম রয়েছে। তবে ভারতীয় সংস্করণের চার্জার বক্সের সঙ্গে দেওয়া হয় না; সেটি আলাদাভাবে কিনতে হবে।

দাম ও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে কি না, আগে দেখে নেওয়া জরুরি

এই তালিকার ফোনগুলোর দাম প্রতিদিন একই থাকবে—এমন নয়। বাজার পরিস্থিতির কারণে কোনো মডেলের দাম কমতে পারে, আবার বাড়তেও পারে। একই সঙ্গে তালিকায় থাকা কোনো ফোন কেনার সময় সেটি বাজারে বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে কি না, সেটিও যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।

এসএমএস গ্যাজেটে এসব স্মার্টফোন পাওয়া যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য ভিডিওর ডেসক্রিপশনে উল্লেখ করা আছে।

তাই ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকার বাজেটে ফোন বাছাইয়ের ক্ষেত্রে একক কোনো বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর না করে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী তালিকাটি দেখা যায়। ক্যামেরার জন্য Vivo V7F 5G, পারফরম্যান্সকেন্দ্রিক ব্যবহারের জন্য Redmi Turbo 4 Pro ও iQOO Z10 Turbo Pro, Samsung ব্র্যান্ডের জন্য Galaxy A57 এবং তুলনামূলক ব্যালান্সড ব্যবহারের জন্য Nothing Phone 4—এই পাঁচটি ফোনই আলাদা কারণে তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ