নতুন পে স্কেলে আপনার বেতন কত, জানুন হিসাবের নিয়ম
নতুন জাতীয় বেতন স্কেল প্রকাশের পর সরকারি চাকরিজীবীদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—নিজের হাতে আসা নতুন মূল বেতন কত হবে? এর উত্তর শুধু নিজের গ্রেডের নতুন বেতন দেখলেই পাওয়া যাবে না। ৩০ জুন পর্যন্ত পাওয়া মূল বেতন, সংশ্লিষ্ট পুরোনো স্কেল এবং ২০২৬ সালের নতুন স্কেলের ধাপ—এই তিনটি বিষয় মিলিয়েই ঠিক হবে নতুন মূল বেতন।
জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপনে পুরোনো বেতন থেকে নতুন বেতন নির্ধারণের জন্য ‘পে ফিক্সেশন’-এর নিয়ম রাখা হয়েছে। নতুন কাঠামো কার্যকর হবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে। সেখানে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর প্রতিটি গ্রেডের বিপরীতে ২০২৬ সালের সংশ্লিষ্ট বেতন স্কেলও নির্ধারণ করা হয়েছে।
কতটা বেড়েছে মূল বেতন
নতুন কাঠামোয় আগের ২০টি গ্রেডই রাখা হয়েছে। তবে গ্রেড অনুযায়ী প্রারম্ভিক মূল বেতনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন বাড়ানোর হার ১০০ শতাংশ। আর ১২ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডে এই বৃদ্ধির হার ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ।
নতুন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। অন্যদিকে গ্রেড ১-এ সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এই হিসাবের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ, মুখ্য সচিব ও সিনিয়র সচিবরা অন্তর্ভুক্ত নন।
তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—কোনো গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন যতই নির্ধারণ করা হোক, ওই গ্রেডে থাকা প্রত্যেক চাকরিজীবীর নতুন বেতন সেই অঙ্ক হবে না।
কেন একই গ্রেডে থেকেও নতুন বেতন এক হবে না
একই গ্রেডে কর্মরত দুজন সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর মূল বেতন ভিন্ন হতে পারে। কারণ চাকরির মেয়াদ এবং পাওয়া বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের কারণে ৩০ জুনে তাঁদের মূল বেতন এক নয়।
প্রজ্ঞাপনে ‘বর্তমান বেতন’ বলতে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ৩০ জুন পর্যন্ত পাওয়া বেতনকে বোঝানো হয়েছে। তাই নতুন স্কেলে হিসাব করার সময় ওই দিনের মূল বেতনই গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
ধরা যাক, একই গ্রেডে দুজন কর্মকর্তা আছেন। একজন কয়েক বছর ধরে ওই গ্রেডে থেকে একাধিক বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পেয়েছেন। অন্যজন সম্প্রতি ওই গ্রেডে এসেছেন। গ্রেড একই হলেও তাঁদের ৩০ জুনের মূল বেতন আলাদা হতে পারে। ফলে ২০২৬ সালের নতুন স্কেলেও দুজনের বেতন একই অঙ্কে নির্ধারিত হওয়ার কথা নয়।
নতুন বেতন বের করতে আগে কী জানতে হবে
নিজের নতুন মূল বেতন হিসাব করতে একজন চাকরিজীবীর সামনে তিনটি তথ্য থাকা দরকার।
এক. ৩০ জুন পর্যন্ত তাঁর মূল বেতন কত ছিল।
দুই. তিনি কোন গ্রেডে ছিলেন।
তিন. ২০২৬ সালের নতুন স্কেলে সেই গ্রেডের বেতনক্রম কী।
এরপর ওই তথ্যের ভিত্তিতে প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত পে-ফিক্সেশনের নিয়ম প্রয়োগ করতে হবে। এই বেতন নির্ধারণের জন্য মূলত দুটি পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে।
পুরোনো স্কেলের শুরুতে থাকলে হিসাব সহজ
যদি কোনো কর্মচারীর ৩০ জুনের মূল বেতন তাঁর বর্তমান বেতন স্কেলের একেবারে প্রথম ধাপে থাকে, তাহলে নতুন স্কেলেও তাঁকে সংশ্লিষ্ট নতুন স্কেলের প্রথম ধাপে নেওয়া হবে।
এর একটি নির্দিষ্ট উদাহরণ রয়েছে।
একজন কর্মচারী ৩০ জুন পর্যন্ত ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা বেতন স্কেলের শুরুতে ছিলেন। অর্থাৎ তাঁর মূল বেতন ছিল ৯ হাজার ৩০০ টাকা। তিনি ১৬তম গ্রেডের কর্মচারী।
১ জুলাই থেকে ১৬তম গ্রেডের নতুন বেতন স্কেল নির্ধারিত হয়েছে ২১ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা।
ফলে ওই কর্মচারীর নতুন মূল বেতন হবে নতুন স্কেলের প্রথম ধাপের ২১ হাজার ৯০০ টাকা।
পুরোনো স্কেলের মাঝামাঝি ধাপে থাকলে কীভাবে হিসাব হবে
যে কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন পুরোনো স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপের চেয়ে বেশি, তাঁর ক্ষেত্রে সরাসরি নতুন স্কেলের প্রথম ধাপে বেতন বসানো হবে না।
এখানে পুরোনো ও নতুন স্কেলের মধ্যে বেতনের অবস্থান ধরে হিসাব করা হবে। প্রথমে ৩০ জুনের মূল বেতন থেকে পুরোনো স্কেলের শুরুতে থাকা বেতন বাদ দিতে হবে। পাওয়া পার্থক্যটি এরপর নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যোগ করতে হবে।
হিসাবের ফল যদি নতুন স্কেলের কোনো নির্দিষ্ট ধাপের সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে সেই ধাপেই বেতন নির্ধারিত হবে। আর ফলাফল যদি নতুন স্কেলের কোনো ধাপে না থাকে, তাহলে তার পরের উচ্চতর ধাপটি গ্রহণ করতে হবে।
১৩ হাজার ৭৯০ টাকার উদাহরণ
ধরা যাক, ৩০ জুন একজন কর্মচারীর ইনক্রিমেন্টসহ মূল বেতন ছিল ১৩ হাজার ৭৯০ টাকা। তাঁর পুরোনো বেতন স্কেল ছিল:
১২,৫০০-১৩,১৩০-১৩,৭৯০...৩০,২৩০ টাকা।
১ জুলাই থেকে তাঁর জন্য প্রযোজ্য নতুন অনুরূপ বেতন স্কেল:
২৫,০০০-২৬,৩০০...৬০,৫০০ টাকা।
এখন পুরোনো স্কেলের প্রথম ধাপ থেকে তাঁর বর্তমান বেতন কতটা ওপরে, সেটি বের করতে হবে।
১৩,৭৯০ - ১২,৫০০ = ১,২৯০ টাকা
অর্থাৎ পুরোনো স্কেলের শুরু থেকে তাঁর বেতন ১ হাজার ২৯০ টাকা বেশি।
এবার এই ব্যবধান নতুন স্কেলের প্রথম ধাপের সঙ্গে যোগ হবে:
২৫,০০০ + ১,২৯০ = ২৬,২৯০ টাকা
কিন্তু নতুন স্কেলে ২৬ হাজার ২৯০ টাকার কোনো ধাপ নেই। তাই সরাসরি ২৬ হাজার ২৯০ টাকা নির্ধারণ করা যাবে না। নিয়ম অনুযায়ী এর পরবর্তী উচ্চতর ধাপ নিতে হবে।
ফলে তাঁর নতুন মূল বেতন হবে ২৬ হাজার ৩০০ টাকা।
যেসব পদে এই দুই হিসাব চলবে না
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের মূল নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা। সিনিয়র সচিবের ক্ষেত্রে তা ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।
গ্রেড ১-এর মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। একই সঙ্গে সমমর্যাদার পদের কর্মকর্তাদের বেতনও নির্ধারিত।
এই কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ওপরের দুই পদ্ধতিতে বেতন নির্ধারণের নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। কারণ তাঁদের মূল বেতন নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এবং সেটি আর বাড়বে না।
প্রেষণে থাকা কর্মচারীর বেতন নির্ধারণ
কোনো কর্মচারী যদি নিজ দপ্তরের বাইরে অন্য দপ্তরে প্রেষণে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে তাঁর নতুন বেতন নির্ধারণের সময় প্রেষণে থাকা অবস্থার বিষয়টিকে সরাসরি ভিত্তি করা হবে না।
তিনি প্রেষণে না থাকলে নিজের মূল অফিস বা প্রতিষ্ঠানে যে বেতন পাওয়ার অধিকারী হতেন, সেই বেতনের ভিত্তিতেই তাঁর নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে।
নতুন প্রজ্ঞাপনে ছুটি, সাময়িক বরখাস্ত এবং অবসর-উত্তর ছুটিতে থাকা কর্মচারীদের জন্যও পৃথক বেতন নির্ধারণের নিয়ম রাখা হয়েছে।
১ জুলাই অবসর নিলে নতুন স্কেলের সুবিধা নেই
যেসব কর্মচারীর অবসর-উত্তর ছুটি ৩০ জুন শেষ হয়েছে এবং যাঁরা ১ জুলাই অবসর নিয়েছেন, তাঁরা ১ জুলাই থেকে কার্যকর জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের সুবিধা পাবেন না।
অর্থাৎ নতুন স্কেল কার্যকর হওয়ার তারিখ ১ জুলাই হলেও এই নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে থাকা কর্মচারীরা নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের সুবিধার আওতায় থাকবেন না।
একই পদে আট বছর পূর্ণ হলে উচ্চতর গ্রেড
নতুন প্রজ্ঞাপনে একই পদে দীর্ঘদিন কর্মরত স্থায়ী কর্মচারীদের বিষয়টিও নির্ধারণ করা হয়েছে।
কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়াই একই পদে আট বছর পূর্ণ করলে, এবং তাঁর চাকরি সন্তোষজনক হলে, নবম বছরে তিনি তাঁর পদের মূল স্কেলের পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাবেন।
তবে এই উচ্চতর গ্রেডকে পদোন্নতি হিসেবে গণ্য করা হবে না।
জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাই শুধু গ্রেডের পাশে লেখা নতুন অঙ্ক দেখলেই হবে না। একজন চাকরিজীবীর ৩০ জুনের মূল বেতন কোথায় ছিল, পুরোনো স্কেলের শুরু থেকে তাঁর বেতন কতটা বেশি ছিল এবং সেই ব্যবধান নতুন স্কেলে কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়—এসবের ওপরই নতুন মূল বেতনের ধাপ নির্ভর করবে।
আর হিসাবের ফল নতুন স্কেলের কোনো ধাপের সঙ্গে না মিললে পরবর্তী উচ্চতর ধাপেই বেতন নির্ধারিত হবে। এভাবেই প্রজ্ঞাপনে নতুন বেতন নির্ধারণের জন্য পে-ফিক্সেশনের নিয়মগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ব্যাংক শেয়ারে বিনিয়োগের নতুন নিয়ম জানাল বাংলাদেশ ব্যাংক, কী বদলাল?
- ৩৪ বলে ১০৮! অভিষেকের তাণ্ডবে ভারতের ২২১ রান
- বন্ধ শিল্প ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকার স্কিম
- ২০২৬ সালের সেরা ৫ বাইক, দাম ও মাইলেজ জানুন
- ডিএসইতে স্বস্তি, কোন খাতে কত রিটার্ন মিলল?
- আর্জেন্টিনার পরবর্তী ৩ ম্যাচ কবে, কার বিপক্ষে? জানুন সময়সূচি
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬: শীর্ষে কেইন, মেসি কত নম্বরে?
- বিদেশি লিগে প্রথমবার আকবর, কোন দলে খেলবেন?
- নতুন পে স্কেলে বকেয়া পাবেন যেভাবে, কার্যকর ১ জুলাই
- আজ ৯/১৯/২০২৬ তারিখ: জানুন ১৮ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট, ২২ ক্যারেট সোনার দাম
- আজকের স্বর্ণের দাম: এক ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম কত
- বাংলাদেশ থেকে ইতালি যাওয়ার সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে
- পে স্কেল: নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি, কে কত পাবেন
- আজকের সোনার দাম ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট কত?
- আজ ৯/১৯/২০২৬ তারিখ: জানুন ১৮ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট, ২২ ক্যারেট সোনার দাম