ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

নতুন পে স্কেলেও সুবিধা পাবেন না যেসব চাকরিজীবী

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৯ ১৭:৩২:২৫
নতুন পে স্কেলেও সুবিধা পাবেন না যেসব চাকরিজীবী

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হলেও সব সরকারি কর্মচারীর বেতন এই কাঠামোয় পরিবর্তন হবে না। জাতীয় বেতন স্কেল, ২০২৬-এর গেজেটে বেশ কয়েকটি শ্রেণির কর্মীকে স্পষ্টভাবে এর বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে নিয়োজিত হওয়াই নতুন পে স্কেলের সুবিধা পাওয়ার একমাত্র শর্ত নয়।

১ জুলাই ২০২৬ থেকে জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫-এর পরিবর্তে নতুন বেতন স্কেল কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস, পুলিশ, বিজিবি, প্রতিরক্ষা সার্ভিসের নির্দিষ্ট কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণির কর্মী এই কাঠামোর সুবিধা পাবেন না।

কোন কোন কর্মী বাদ পড়ছেন

নতুন বেতন কাঠামোর আওতা নির্ধারণ করতে গিয়ে গেজেটে কয়েকটি শ্রেণিকে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে কর্মরত ব্যক্তিরা।

প্রতিরক্ষা সার্ভিসে নিয়োজিত কর্মচারীরাও এই আদেশের বাইরে থাকবেন। তবে প্রতিরক্ষা প্রাক্কলন থেকে বেতন পাওয়া বেসামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই বাদ দেওয়ার বিধান প্রযোজ্য নয়।

এ ছাড়া পুলিশ বাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কর্মচারীদের জন্যও জাতীয় বেতন স্কেল, ২০২৬ প্রযোজ্য হবে না।

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট শ্রেণির শ্রমিক, শিক্ষানবিশ এবং প্রশিক্ষণার্থীদেরও নতুন বেতন কাঠামোর বাইরে রাখা হয়েছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও আরও কয়েক ধরনের নিয়োগের ক্ষেত্রে এই পে স্কেলের সুবিধা মিলবে না। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তি, দৈনিক ভিত্তিতে নিয়োজিত সাময়িক শ্রমিক, চুক্তিভিত্তিক কর্মী এবং খণ্ডকালীন কর্মীরা এই তালিকায় রয়েছেন।

অর্থাৎ গেজেটে নির্ধারিত এসব শ্রেণির কর্মীদের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল, ২০২৬ কার্যকর হবে না।

যে আইনের ভিত্তিতে নতুন আদেশ

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ১৫ ধারায় দেওয়া ক্ষমতা ব্যবহার করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ ক্ষমতাবলে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে।

এই আদেশের মাধ্যমেই ১ জুলাই ২০২৬ থেকে জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫-এর পরিবর্তে জাতীয় বেতন স্কেল, ২০২৬ কার্যকর করা হয়েছে।

তবে কার্যকর হওয়ার অর্থ এই নয় যে প্রথম দিন থেকেই পুরো বেতন নতুন কাঠামো অনুযায়ী দেওয়া হচ্ছে। নতুন বেতন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পুরো বেতন একবারে নয়, তিন ধাপে বাস্তবায়ন

নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের আলাদা হারে অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রথম পর্যায় ধরা হয়েছে ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। এই সময় নতুন বেতনস্কেলে নির্ধারিত বেতন এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত বা প্রাপ্য বর্তমান বেতনের মধ্যে যে পার্থক্য থাকবে, তার ভিত্তিতেই বাড়তি অর্থ নির্ধারণ করা হবে।

এই ব্যবধানের ৪০ শতাংশ পাবেন ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মচারীরা। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ শতাংশ।

পরের ছয় মাসে অর্থাৎ ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত এই হার আরও বাড়বে। তখন ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্বদের জন্য পার্থক্যের ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য ৭৫ শতাংশ কার্যকর হবে।

পূর্ণ বাস্তবায়নের সময় আসবে ১ জুলাই ২০২৭। ওই তারিখ থেকে জাতীয় বেতন স্কেল, ২০২৬ অনুযায়ী বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টসহ মূল বেতন শতভাগ কার্যকর হবে।

গেজেট প্রকাশের আগের সময়ের বেতনও হিসাব হবে

নতুন পে স্কেলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এর কার্যকারিতার তারিখ ও গেজেট প্রকাশের তারিখের ব্যবধান। বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও গেজেট প্রকাশ হয়েছে ১৯ সেপ্টেম্বর।

এই ব্যবধানের কারণে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে গেজেট প্রকাশের আগ পর্যন্ত সময়ের বেতন বকেয়া হিসেবে পাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

তবে ওই সময়ের পাওনা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আগে পাওয়া বিশেষ সুবিধার অর্থ বাদ দিয়ে সমন্বয় করা হবে। গেজেট অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে গেজেট প্রকাশের আগ পর্যন্ত নতুন বেতনস্কেলের সঙ্গে সমন্বয় করে যে অর্থ দেওয়া হবে, তার সঙ্গে কর্মচারীরা আগে পাওয়া বিশেষ সুবিধার অর্থ সমন্বয় করা হবে।

পেনশনেও ধাপে ধাপে বাড়তি অর্থ

নতুন কাঠামোর সুবিধা শুধু কর্মরত কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত নয়। পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও নতুন হারে নিট পেনশন দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

যাদের বিদ্যমান নিট পেনশন ২০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি, তারা ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী নিট পেনশন বৃদ্ধির ৪০ শতাংশ পাবেন।

আর বিদ্যমান নিট পেনশন ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে একই সময়ে বৃদ্ধির ৫০ শতাংশ দেওয়ার বিধান রয়েছে।

এরপর ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপে এই দুই শ্রেণির ক্ষেত্রে হার হবে যথাক্রমে ৭০ শতাংশ ও ৭৫ শতাংশ।

পূর্ণ হারে নিট পেনশন কার্যকর হবে ১ জুলাই ২০২৭ থেকে। ওই সময় জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ অনুযায়ী পূর্ণ হারে নিট পেনশন দেওয়া হবে।

বকেয়া পাবেন অবসরপ্রাপ্ত ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীরাও

নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়ার সময় থেকে গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত পেনশনের ক্ষেত্রেও বকেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত এবং আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীরা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে গেজেট প্রকাশের তারিখ পর্যন্ত সময়ের নিট পেনশনের বকেয়া অর্থ পাবেন।

ফলে নতুন পে স্কেলের ক্ষেত্রে একদিকে যেমন নির্দিষ্ট কয়েকটি শ্রেণির সরকারি কর্মচারী পুরো কাঠামোর বাইরে থাকছেন, অন্যদিকে আওতাভুক্ত কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য সুবিধা বাস্তবায়নের আলাদা ধাপও নির্ধারণ করা হয়েছে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ