Md Razib Ali
Senior Reporter
শেয়ার কিনবেন? আগে এই ৭ ভুল থেকে দূরে থাকুন
শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রলোভন হলো দ্রুত লাভের প্রত্যাশা। একটি শেয়ার কিনে অল্প সময়ে বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়ার গল্প শুনে অনেকেই বাজারে প্রবেশ করেন। কিন্তু বিনিয়োগের আগে নিজের আর্থিক সামর্থ্য, ঝুঁকি নেওয়ার সক্ষমতা এবং যে কোম্পানিতে অর্থ দেওয়া হচ্ছে সে সম্পর্কে ধারণা না থাকলে সেই সিদ্ধান্তই পরে লোকসানের কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই শেয়ারবাজারে প্রবেশের আগে লাভের সম্ভাবনার চেয়ে প্রস্তুতির বিষয়গুলো বোঝা বেশি জরুরি।
বাজারে বিনিয়োগের জন্য কয়েকটি মৌলিক নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে জরুরি অর্থ আলাদা রাখা, ধার না করে নিজের অর্থ ব্যবহার, বিনিয়োগ ছড়িয়ে দেওয়া, অল্প দিয়ে শুরু করা এবং অন্যের কথায় সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজে যাচাই করা।
বিনিয়োগের টাকা কি সত্যিই অতিরিক্ত?
শেয়ারবাজারে অর্থ দেওয়ার আগে প্রথমেই দেখতে হবে, সেই টাকা হারিয়ে গেলে দৈনন্দিন জীবনে কোনো বড় সমস্যা তৈরি হবে কি না। বিনিয়োগের অর্থ এমন হওয়া দরকার, যার ক্ষতি হলেও সংসারের প্রয়োজনীয় খরচ চালাতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হবে না।
এ কারণে বিনিয়োগের আগে একটি জরুরি তহবিল থাকা গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে অন্তত তিন থেকে ছয় মাসের সংসার খরচের সমপরিমাণ অর্থ রাখা উচিত।
ধরা যাক, বাজারে শেয়ারের দাম কমে গেল এবং একই সময়ে জরুরি কোনো প্রয়োজনে অর্থ দরকার হলো। হাতে আলাদা সঞ্চয় না থাকলে তখন লোকসান মেনেই শেয়ার বিক্রি করতে হতে পারে। জরুরি তহবিল থাকলে সেই চাপ থাকে না; বিনিয়োগকারী বাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার জন্য অপেক্ষা করার সুযোগ পান।
তাই জরুরি তহবিল তৈরি না থাকলে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ শুরু না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
ঋণ নিয়ে বাজারে নামলে ঝুঁকি দ্বিগুণ হতে পারে
বিনিয়োগের জন্য ধার করা অর্থ ব্যবহার করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বিশেষ করে ঋণ বা ক্রেডিট কার্ডের টাকা দিয়ে শেয়ার কেনা ঝুঁকিপূর্ণ।
কারণ বাজারে দরপতন হলে বিনিয়োগের মূল্য কমে যাবে, কিন্তু ধার করা অর্থ ফেরত দেওয়ার দায় থেকে যাবে। ফলে একই সঙ্গে বিনিয়োগের ক্ষতি এবং ঋণের চাপ সামলাতে হবে।
এই কারণে বিনিয়োগের একটি সহজ নীতি হতে পারে—যে অর্থ হারালেও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বড় ধরনের সমস্যা হবে না, কেবল সেই অর্থই বাজারে ব্যবহার করা।
একটি শেয়ার দিয়ে পুরো বিনিয়োগের ভাগ্য নির্ধারণ নয়
শেয়ারবাজারে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অর্থ এক জায়গায় না রাখা। পুরো বিনিয়োগ যদি একটি কোম্পানির ওপর নির্ভর করে, তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানে কোনো সমস্যা দেখা দিলে পুরো অর্থই ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন কোম্পানি ও খাতে অর্থ ভাগ করে রাখা যায়। এতে একটি বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত ফল না এলেও অন্য জায়গার বিনিয়োগ কিছুটা হলেও সেই ক্ষতির ভারসাম্য তৈরি করতে পারে।
বিনিয়োগের এই পদ্ধতিই ডাইভার্সিফিকেশন নামে পরিচিত। নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য এই কৌশল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথম বিনিয়োগেই বড় অঙ্কের প্রয়োজন নেই
বাজার শেখার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ নিয়ে শুরু করার প্রয়োজন নেই। বরং ছোট পরিমাণ দিয়ে বিনিয়োগ শুরু করলে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়।
শুরুতে ভুল সিদ্ধান্ত হলেও ছোট অঙ্কের কারণে ক্ষতির মাত্রা তুলনামূলক কম থাকতে পারে। একই সঙ্গে বাজারের ওঠানামা, বিনিয়োগের প্রক্রিয়া এবং নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা তৈরি হয়।
অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ার পর ধীরে ধীরে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।
শেয়ার মানে একটি ব্যবসায় অংশ নেওয়া
অনেকের কাছে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের অর্থ হয়ে দাঁড়ায় কোনো শেয়ারের দাম কখন বাড়বে আর কখন কমবে—এই হিসাব করা। কিন্তু শেয়ারের পেছনে থাকা কোম্পানির ব্যবসা সম্পর্কে না জানলে বিনিয়োগের ভিত্তি দুর্বল থেকে যায়।
একটি শেয়ার কেনার আগে কোম্পানিটি কী ধরনের ব্যবসা করে, তার আয়-ব্যয়ের অবস্থা কেমন এবং ভবিষ্যতে ব্যবসা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা কতটা—এসব বিষয় সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন।
কারণ শেয়ার কেনার অর্থ হলো ওই কোম্পানির আংশিক মালিকানায় যুক্ত হওয়া। শুধু বাজারে কোনো শেয়ারের দাম বাড়ছে দেখে সেটি কেনা এবং কোম্পানির ব্যবসা বুঝে বিনিয়োগ করা এক নয়। কোম্পানি সম্পর্কে কোনো ধারণা ছাড়াই শুধু দামের ওঠানামা অনুসরণ করলে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত জুয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কয়েক সপ্তাহের লাভের লক্ষ্য কতটা বাস্তবসম্মত?
বাজারের দাম প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। এই ওঠানামা স্বাভাবিক হলেও স্বল্পমেয়াদে ঠিক কোন দিকে বাজার যাবে, তা অনুমান করা কঠিন।
যারা কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে লাভ করার লক্ষ্য নিয়ে বিনিয়োগ করেন, তারা বাজারের স্বল্পমেয়াদি পরিবর্তনের কারণে হতাশ হতে পারেন। বিপরীতে কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগ ধরে রাখার মানসিকতা থাকলে সাময়িক ওঠানামা সামলে অপেক্ষা করার সুযোগ তৈরি হয়।
ইতিহাস বলছে, দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্য নিয়ে বিনিয়োগ ধরে রাখতে পারলে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই শেয়ারবাজারে প্রবেশের সময় তাৎক্ষণিক লাভের চিন্তার পরিবর্তে বছরের পর বছর ধরে রাখার পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরামর্শই বিনিয়োগের ভিত্তি নয়
শেয়ারবাজারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজস্ব যাচাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো শেয়ারের বিষয়ে পরামর্শ পাওয়া কিংবা পরিচিত কারও কাছ থেকে কোনো কোম্পানির নাম শোনার পর সরাসরি অর্থ বিনিয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
কোনো পরামর্শ সামনে এলে আগে নিজের মতো করে অন্তত মৌলিক বিষয়গুলো যাচাই করা দরকার। কোম্পানিটি কী করে, এত দিন তার কার্যক্রম কেমন ছিল এবং দেওয়া পরামর্শের পেছনে বাস্তবসম্মত যুক্তি রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে দেখা প্রয়োজন।
অন্যের মতামত তথ্যের একটি উৎস হতে পারে, কিন্তু নিজের বোঝাপড়া ছাড়া সেই মতামতের ওপর পুরো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নির্ভর করা উচিত নয়।
বাজারকে ভয় পাওয়ার আগে প্রস্তুতির ঘাটতি দেখুন
শেয়ারবাজারে লোকসান হলে অনেক সময় পুরো বাজারকেই অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়। কিন্তু প্রস্তুতি ছাড়া বিনিয়োগের বিষয়টিও সেখানে গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি অর্থ আলাদা না রেখে বাজারে টাকা দেওয়া, ধার করে শেয়ার কেনা, একটি কোম্পানিতে সব অর্থ রাখা, দ্রুত লাভের প্রত্যাশা করা কিংবা যাচাই ছাড়া অন্যের পরামর্শ অনুসরণ করা—এসব সিদ্ধান্ত ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
অন্যদিকে বিনিয়োগের আগে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিজের অর্থ ব্যবহার করা, কোম্পানি সম্পর্কে বোঝার চেষ্টা করা, দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করা, বিভিন্ন জায়গায় অর্থ ভাগ করে রাখা এবং ছোট অঙ্ক দিয়ে অভিজ্ঞতা নেওয়া বিনিয়োগের প্রস্তুতিকে শক্তিশালী করে।
শেষ পর্যন্ত শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের বিষয়টি শুধু কত দ্রুত লাভ করা যাবে, তার ওপর নির্ভর করে না। বাজার বোঝার জ্ঞান, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যাচাই এবং দীর্ঘ সময় ধৈর্য ধরে থাকার প্রস্তুতিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক প্রস্তুতি থাকলে শেয়ারবাজারকে শুধু ভয় বা দ্রুত লাভের জায়গা হিসেবে না দেখে সম্পদ তৈরির একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ব্যাংক শেয়ারে বিনিয়োগের নতুন নিয়ম জানাল বাংলাদেশ ব্যাংক, কী বদলাল?
- আইপিও আবেদনকারীদের জন্য বিএসইসির নতুন বার্তা
- ডিভিডেন্ড ঘোষণা করবে এপেক্স, ইপিএস প্রকাশ এসকে ট্রিমস
- একাদশ ভর্তি ২০২৬: জেনে নিননিশ্চায়নের জন্য কত টাকা ফি লাগবে
- ৩৪ বলে ১০৮! অভিষেকের তাণ্ডবে ভারতের ২২১ রান
- বন্ধ শিল্প ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকার স্কিম
- ২০২৬ সালে ২৫ হাজার টাকায় সেরা ৫ স্মার্টফোন, কোনটি নেবেন?
- ৮৯ লাখ শেয়ার হস্তান্তর
- ২০২৬ সালের সেরা ৫ বাইক, দাম ও মাইলেজ জানুন
- নবম পে-স্কেলের গেজেট আজই? সন্ধ্যার পর আসতে পারে সুখবর
- শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি, তবু সতর্কতায় বিনিয়োগকারীরা
- বিদেশি লিগে প্রথমবার আকবর, কোন দলে খেলবেন?
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬: শীর্ষে কেইন, মেসি কত নম্বরে?
- আজকের স্বর্ণের দাম: এক ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম কত
- আজ ৯/১৯/২০২৬ তারিখ: জানুন ১৮ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট, ২২ ক্যারেট সোনার দাম