শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ শেখাতে বিএসইসির বড় পরিকল্পনা
শেয়ারবাজার সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের জ্ঞান ও সচেতনতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের পরিধি আরও বড় করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সেমিনার, কর্মশালা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ২১ হাজার ৭৩২ জনকে বিনিয়োগ শিক্ষা দেওয়ার পর এবার অনলাইনভিত্তিক প্রশিক্ষণ আরও নিয়মিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগে শুধু সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণই নয়, শেয়ারবাজারের বিভিন্ন অংশীজন প্রতিষ্ঠানের কর্মী এবং তরুণ উদ্যোক্তাদেরও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ যাতে রাজধানীতে না এসেও বিনিয়োগ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই অনলাইন মাধ্যমকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এক বছরে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন ২১ হাজারের বেশি মানুষ
বিএসইসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে মোট ২১ হাজার ৭৩২ জন বিনিয়োগ শিক্ষা পেয়েছেন।
এর মধ্যে কমিশনের ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি ডিভিশনের আয়োজিত প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন ৪ হাজার ৬৬০ জন। প্রশিক্ষণ নেওয়া এই অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১ হাজার ৮৯৬ জন সাধারণ বিনিয়োগকারী এবং ১ হাজার ১৯৪ জন ছিলেন বিভিন্ন বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মী।
শেয়ারবাজার নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে তথ্যভিত্তিক উপস্থাপনাকে গুরুত্ব দিয়ে ৫২ জন সাংবাদিককেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এই পরিসংখ্যানের ধারাবাহিকতায় এখন অনলাইন কার্যক্রমকে আরও নিয়মিত ও বিস্তৃত করার দিকে এগোচ্ছে বিএসইসি।
কেন অনলাইন প্রশিক্ষণে জোর বিএসইসির
বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমের সুযোগ মূলত আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই নতুন উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা বিনিয়োগকারীদের জন্য রাজধানীতে বিএসইসি ভবনে সরাসরি উপস্থিত হয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনতে অনলাইন ব্যবস্থাকে কাজে লাগাতে চায় কমিশন।
এর ফলে একই কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকার বিনিয়োগকারী এবং বাজারের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।
সম্প্রতি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিএসইসির ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি ডিভিশনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিনিয়োগের আগে কী জানতে হবে, প্রশিক্ষণে থাকছে সেসব বিষয়
শেয়ারবাজারে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় মৌলিক জ্ঞান তৈরির বিষয়টিকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমান কর্মসূচিতে শেয়ারবাজারের আইন ও বিধিবিধান থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারীর অধিকার ও দায়িত্ব পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় শেখানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিনিয়োগের ঝুঁকি, সম্ভাব্য মুনাফা, বিনিয়োগ পরিকল্পনা, সিকিউরিটিজ বিশ্লেষণ এবং পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনাও প্রশিক্ষণের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কর্মদিবসে নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
নতুন পরিকল্পনায় এই প্রশিক্ষণগুলো অনলাইনে আরও নিয়মিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিএসইসির মুখপাত্র যা বললেন
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা ও আর্থিক জ্ঞান বাড়ানোর লক্ষ্যেই বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও সহজলভ্য করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে অনলাইনভিত্তিক বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি শেয়ারবাজারের বিভিন্ন অংশীজন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও নিয়মিত প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
সরকারের ১৮০ দিনের রোডম্যাপেও রয়েছে বিনিয়োগ শিক্ষা
বিএসইসির এই উদ্যোগের সঙ্গে সরকারের ১৮০ দিনের বিশেষ রোডম্যাপেও বিনিয়োগ শিক্ষা ও আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টি রাখা হয়েছে।
শেয়ারবাজারে আস্থা বাড়ানোর লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় এই রোডম্যাপ তৈরি করেছে। নির্বাচনী ইশতেহার ও সরকারের নির্দেশনার ভিত্তিতে তৈরি রোডম্যাপে তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ পরিকল্পনায় প্রশিক্ষণের জন্য অনলাইন এবং সরাসরি উপস্থিতি—দুই ধরনের ব্যবস্থাই রাখার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি শেয়ারবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে এই কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রোডম্যাপের অগ্রগতি পরিমাপের ক্ষেত্রেও তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। কতজন তরুণ উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে, সেটিকে অন্যতম ফলাফল নির্দেশক হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
তরুণ উদ্যোক্তাদের কেন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে
শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের উদ্যোক্তাদেরও এই বাজার সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বিএসইসি।
কমিশনের বিবেচনায়, তরুণ উদ্যোক্তারা শেয়ারবাজারের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা পেলে ভবিষ্যতে বাজারের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহের সুযোগ সম্পর্কেও তাদের জ্ঞান বাড়বে।
অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমের পরিধি বাড়লে সচেতন ও দক্ষ বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে বিএসইসি।
এই লক্ষ্য সামনে রেখেই অনলাইন প্রশিক্ষণকে আরও বিস্তৃত ও নিয়মিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিনিয়োগকারী, বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মী এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের একই ধারার বিনিয়োগ শিক্ষার আওতায় আনার মাধ্যমে কার্যক্রমটির পরিসর আরও বাড়াতে চায় কমিশন।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ব্যাংক শেয়ারে বিনিয়োগের নতুন নিয়ম জানাল বাংলাদেশ ব্যাংক, কী বদলাল?
- ৩৪ বলে ১০৮! অভিষেকের তাণ্ডবে ভারতের ২২১ রান
- বন্ধ শিল্প ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকার স্কিম
- ২০২৬ সালের সেরা ৫ বাইক, দাম ও মাইলেজ জানুন
- ডিএসইতে স্বস্তি, কোন খাতে কত রিটার্ন মিলল?
- আর্জেন্টিনার পরবর্তী ৩ ম্যাচ কবে, কার বিপক্ষে? জানুন সময়সূচি
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬: শীর্ষে কেইন, মেসি কত নম্বরে?
- নতুন পে স্কেলে বকেয়া পাবেন যেভাবে, কার্যকর ১ জুলাই
- বিদেশি লিগে প্রথমবার আকবর, কোন দলে খেলবেন?
- আজ ৯/১৯/২০২৬ তারিখ: জানুন ১৮ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট, ২২ ক্যারেট সোনার দাম
- আজকের স্বর্ণের দাম: এক ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম কত
- বাংলাদেশ থেকে ইতালি যাওয়ার সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে
- পে স্কেল: নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি, কে কত পাবেন
- আজকের সোনার দাম ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট কত?
- আজ ৯/১৯/২০২৬ তারিখ: জানুন ১৮ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট, ২২ ক্যারেট সোনার দাম