ঢাকা, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

আইএফআইসি ব্যাংকের ঋণ নিয়ে অর্থ সরানোর অভিযোগ, আসামি ২৫

অর্থনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১১ ১৯:১৫:০৭
আইএফআইসি ব্যাংকের ঋণ নিয়ে অর্থ সরানোর অভিযোগ, আসামি ২৫

আপনার চাওয়া অনুযায়ী এবার প্রতিবেদনটি শুধু শব্দ বদলে নয়, তথ্য উপস্থাপনের সম্পূর্ণ নতুন কাঠামোয় সাজানো হয়েছে। শুরুতে ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের পাওনা ও অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ, এরপর ঋণ অনুমোদনের ধারাবাহিকতা, জামানত, আসামিদের পরিচয় এবং দুদকের বক্তব্য রাখা হয়েছে। সব সংখ্যা, তারিখ, নাম ও অভিযোগের অর্থ আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাখা হয়েছে।

আইএফআইসি ব্যাংকের ৬০৪ কোটি টাকা আটকে, সালমানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আইএফআইসি ব্যাংক থেকে স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের নামে অনুমোদিত ৫৪৫ কোটি টাকার ঋণের বিপরীতে পাওনা দাঁড়িয়েছে ৬০৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকার বেশি। ঋণের অর্থ প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার না করে অন্য প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, তাঁর ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, তিন দফায় ঋণ অনুমোদনের পর বিতরণ বা উত্তোলন করা হয় ৫৩৮ কোটি ১৬ লাখ ২৪ হাজার ৪৮২ টাকা। অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ব্যাংকিং আইন ও বিধিবিধান উপেক্ষা করে এক দিনে সর্বোচ্চ ২৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করা হয়েছিল। দুদকের দাবি, ঋণের অর্থ পরে সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বা তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং বেক্সিমকো গ্রুপের একাধিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।

সুদ ও অন্যান্য চার্জ যুক্ত হওয়ার পর ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই পর্যন্ত স্কাইমার্কের ঋণস্থিতি দাঁড়ায় ৬০৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭৬ টাকা। ঋণ অনুমোদন থেকে অর্থ উত্তোলন এবং পরবর্তী স্থানান্তর—পুরো প্রক্রিয়ায় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্যের যোগসাজশের অভিযোগও এনেছে দুদক।

প্রথমে ৯০ কোটি, পরে ঋণসীমা ৫৪৫ কোটি টাকা

দুদকের নথি অনুযায়ী, স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের নামে ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট। ওই দিন প্রতিষ্ঠানটির জন্য ৯০ কোটি টাকার ওভারড্রাফট (ওডি) ঋণ অনুমোদন করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের ১০ জানুয়ারি ঋণসীমা বাড়িয়ে ১৪৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।

দুদকের অভিযোগ, আগের ঋণের অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল, প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন কেমন ছিল, ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা কতটুকু এবং ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য রয়েছে কি না—এসব বিষয় যথাযথভাবে যাচাই না করেই ঋণসীমা বাড়ানোর সুপারিশ ও অনুমোদন দেওয়া হয়।

ঋণসীমা ১৪৫ কোটি টাকায় উন্নীত হওয়ার পর একই বছরের জানুয়ারিতে বড় অঙ্কের নগদ উত্তোলন হয়। ১২, ১৫ ও ১৭ জানুয়ারি—এই তিন দিনে স্কাইমার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকের যৌথ স্বাক্ষর করা চেকের মাধ্যমে ৫২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা তোলা হয় বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তোলিত অর্থ স্কাইমার্কের ব্যবসায়িক কাজে ব্যয় করা হয়নি। বরং আইএফআইসি ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে তোলা অর্থের প্রায় পুরোটাই ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখায় সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, বেক্সিমকো লিমিটেডসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের চলতি, ঋণ ও অন্যান্য হিসাবে জমা করা হয়।

৪০০ কোটি টাকা বাড়ানোর পর চার কার্যদিবসেই উত্তোলন

স্কাইমার্কের ঋণসীমা বাড়ানোর পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসে ২০২৪ সালে। ওই বছরের ২৫ জুন আইএফআইসি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৮৮৯তম সভায় ঋণসীমা ১৪৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৪৫ কোটি টাকা করার অনুমোদন দেওয়া হয়।

দুদকের অভিযোগ, ঋণসীমা বাড়ানোর সময়ও প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সক্ষমতা, আগের ঋণের ব্যবহার, ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য এবং পর্যাপ্ত জামানত রয়েছে কি না, তা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি।

এরপর চার কার্যদিবসের মধ্যে বাড়তি ৪০০ কোটি টাকার প্রায় পুরোটাই উত্তোলন করা হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ২০২৪ সালের ২৭ ও ৩০ জুন এবং ৩ ও ৭ জুলাই স্কাইমার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকের যৌথ স্বাক্ষরিত চেকের মাধ্যমে নগদে তোলা হয় ৩৯৪ কোটি টাকা।

এর বাইরে ট্রান্সফার চেকের বিপরীতে পে-অর্ডার ব্যবহার করে উত্তোলন করা হয় আরও ১ কোটি ৫৬ লাখ ৮৯ হাজার ৮৮২ টাকা। সব মিলিয়ে ওই চার কার্যদিবসে বিতরণ বা উত্তোলনের অঙ্ক ছিল ৩৯৫ কোটি ৫৬ লাখ ৮৯ হাজার ৮৮২ টাকা।

দুদকের অভিযোগ, নগদে তোলা ৩৯৪ কোটি টাকা সালমান এফ রহমানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেক্সিমকো লিমিটেডসহ গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং অন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে আইএফআইসি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় পরিচালিত চলতি, ঋণ ও অন্যান্য হিসাবে জমা করা হয়।

যেসব প্রতিষ্ঠানের হিসাবে অর্থ যাওয়ার কথা বলছে দুদক

মামলার নথিতে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগে একাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সটেক্স লিমিটেড, বেক্সিমকো ফ্যাশন লিমিটেড, অ্যাপট্রিন ট্রেডিং লিমিটেড, টিখ বিল্ড কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড, ব্রাইটস্টার লিমিটেড, এক্সিস বিজনেস লিমিটেড, সানস্টার বিজনেস লিমিটেড, ফারইস্ট বিজনেস লিমিটেড, আলফা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড, নর্থস্টোন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড, আর অ্যান্ড আর হোল্ডিংস লিমিটেড, ক্রিস্টাল কনস্ট্রাকশন ও সেন্ট্রাল ল্যান্ড। এ ছাড়া আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম নথিতে রয়েছে।

দুদকের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থের উৎস, প্রকৃতি এবং গন্তব্য আড়াল করা হয়েছে। এ কারণে মামলায় মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নথিতে ঋণের অর্থ বিতরণের হিসাবও আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নগদে ৫৩৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে ২ কোটি ২৮ লাখ ২৪ হাজার ৪৮২ টাকা বিতরণ করা হয়। এই দুই অঙ্ক মিলিয়ে বিতরণ বা উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৩৮ কোটি ১৬ লাখ ২৪ হাজার ৪৮২ টাকা।

ঋণের বিপরীতে জমি ও শেয়ার জামানত নিয়েও প্রশ্ন

শুধু ঋণ অনুমোদন ও অর্থ স্থানান্তর নয়, জামানত ব্যবস্থাপনা নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ করেছে দুদক। নথি অনুযায়ী, ৫৪৫ কোটি টাকার ওভারড্রাফট ঋণের বিপরীতে নতুন করে ৬৫০ শতাংশ জমি জামানত দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু ওই জমির মালিকানা ও তফসিলসংক্রান্ত পরিচয় স্পষ্ট ছিল না।

দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, ডেফারেল মর্টগেজ রেখে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করা হলেও পরে সংশ্লিষ্ট জমির বন্ধক গ্রহণ করা হয়নি। সংস্থাটির অভিযোগ, এ ধরনের অনিয়মের কারণে ব্যাংকের ঋণ আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া ঋণের বিপরীতে তৃতীয় পক্ষের মালিকানাধীন বেক্সিমকো লিমিটেডের ১ কোটি ৩৫ লাখ শেয়ার লিয়েন রাখার তথ্যও রয়েছে মামলার নথিতে। ২০২৬ সালের ২ আগস্টের বাজারমূল্য অনুসারে, ওই শেয়ারগুলোর মূল্য ছিল ৩১ কোটি ২০ লাখ টাকা।

ব্যাংকের কোন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে

গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ সংস্থাটির উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মামলাটি করেন।

সালমান এফ রহমান ও তাঁর ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমানের পাশাপাশি স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ আল-মনজুর এবং পরিচালক ইশরাত জাহান লাইজুকে আসামি করা হয়েছে।

আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক পরিচালক সুধাংশু শেখর বিশ্বাস, শাহ মনজুরুল হক, এ আর এম নজমুস ছাকিব, কামরুন নাহার আহমেদ, মো. গোলাম মোস্তফা, মো. জাফর ইকবাল ও রাবেয়া জামালীও মামলার আসামি।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের মধ্যে আছেন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) সৈয়দ মনসুর মোস্তফা, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহ আলম সারোয়ার, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, তৎকালীন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুরুল হাসনাত এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিতুর রহমান।

এ ছাড়া আসামি করা হয়েছে হেড অব ট্রেজারি মোহাম্মদ শাহিন উদ্দিন, হেড অব ক্রেডিট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সৈয়দ হাসানুজ্জামান, সাবেক হেড অব অপারেশন হেলাল আহমেদ, সাবেক ডিএমডি, সিসিও ও সিআরও ইকবাল পারভেজ চৌধুরী এবং সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ মো. মঈনউদ্দিনকে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন তৎকালীন চিফ ম্যানেজার হোসাইন শাহ আলী ও মো. জুলফিকার আলী চাকদার, রিলেশনশিপ ম্যানেজার তাসলিমা আক্তার এবং তৎকালীন রিলেশনশিপ ম্যানেজার সালমান মাহবুব।

দণ্ডবিধি ও মানিলন্ডারিং আইনে অভিযোগ

দুদকের মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে স্কাইমার্কের ব্যবস্থাপনা এবং আইএফআইসি ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা, প্রধান কার্যালয়ের ঋণসংক্রান্ত কমিটি, ব্যাংক ব্যবস্থাপনা, নির্বাহী কমিটি ও পরিচালনা পর্ষদের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে যোগসাজশের অভিযোগ উঠে এসেছে। পাশাপাশি প্রতারণা, জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগও করা হয়েছে।

সংস্থাটির দাবি, ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক অস্তিত্ব, পূর্ববর্তী ঋণের অর্থের ব্যবহার, আর্থিক সক্ষমতা, জামানত এবং ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য যথাযথভাবে যাচাই না করেই ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করা হয়েছিল।

দুদকের কর্মকর্তার বক্তব্য

দুদকের কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান খান জানিয়েছেন, স্কাইমার্কের নামে তিন দফায় ৫৪৫ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করা হয়েছিল। এর বিপরীতে ৫৩৮ কোটি ১৬ লাখ ২৪ হাজার ৪৮২ টাকা বিতরণ করা হয়। সুদ ও অন্যান্য চার্জসহ ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই পর্যন্ত আইএফআইসি ব্যাংকের পাওনা ছিল ৬০৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭৬ টাকা।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঋণের অর্থ বিতরণের পর এক দিনে সর্বোচ্চ ২৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করা হয়, যা ব্যাংকিং আইনবিরোধী বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

মো. সাইদুর রহমান খানের ভাষ্য, সালমান এফ রহমান স্কাইমার্ক নামে একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠান গঠন করে তিন দফায় ঋণ অনুমোদনের ব্যবস্থা করেন। বিতরণ করা অর্থ আত্মসাৎ করে তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ঋণ অনুমোদন, বিতরণ ও অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিকা এবং আইএফআইসি ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হয়েছে।

FAQ

১. আইএফআইসি ব্যাংকের কাছে স্কাইমার্কের মোট পাওনা কত?

দুদকের নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই পর্যন্ত সুদ ও অন্যান্য চার্জসহ পাওনার পরিমাণ ছিল ৬০৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭৬ টাকা।

২. স্কাইমার্কের নামে কত টাকার ঋণ অনুমোদন করা হয়েছিল?

তিন দফায় ৫৪৫ কোটি টাকার ওভারড্রাফট ঋণ অনুমোদন করা হয়। এর বিপরীতে ৫৩৮ কোটি ১৬ লাখ ২৪ হাজার ৪৮২ টাকা বিতরণ বা উত্তোলন করা হয়েছিল।

৩. দুদকের মামলায় মোট কতজন আসামি?

মামলায় সালমান এফ রহমান, তাঁর ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান এবং স্কাইমার্ক ও আইএফআইসি ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

৪. ঋণের অর্থ কোথায় সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে?

দুদকের অভিযোগ, অর্থের বড় অংশ সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বা তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং বেক্সিমকো গ্রুপের একাধিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।

৫. কোন আইনে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে?

দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ