ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

সংসদ ভবনে আব্দুল হাইয়ের জানাজা, থাকবেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১২:৩০:০২
সংসদ ভবনে আব্দুল হাইয়ের জানাজা, থাকবেন প্রধানমন্ত্রী

পাঁচবারের সংসদ সদস্য, সাবেক উপমন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই আর নেই। ৭৭ বছর বয়সে ঢাকার ধানমন্ডির একটি হাসপাতালের আইসিইউতে তাঁর জীবনাবসান হয়েছে। বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও জাতীয় সংসদের সাবেক প্যানেল স্পিকার এই নেতার প্রয়াণে মুন্সীগঞ্জ জুড়ে নেমেছে শোক।

বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

জানাজা ও দাফনের কর্মসূচি

পরিবার জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আব্দুল হাইয়ের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেখানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর মুন্সীগঞ্জে হবে দ্বিতীয় জানাজা। সেটি শেষে তাঁকে দাফন করা হবে।

দলমতের ভেদাভেদ ছাপিয়ে পরিচিতি

রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় থাকলেও আব্দুল হাইয়ের পরিচিতি শুধু দলীয় পরিচয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। নীতিতে অটল থাকা, ব্যক্তিগত নৈতিকতা, সাদামাটা জীবনযাপন আর সহজ কথাবার্তার কারণে এলাকায় দলমত-নির্বিশেষে তিনি ছিলেন জনপ্রিয়। তাঁর চলে যাওয়ায় সহকর্মী, অনুসারী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

সংসদের পথে পাঁচ দফা জয়

আব্দুল হাইয়ের সংসদীয় যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৯ সালে, দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে। এরপর তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন ১৯৯১ সালে, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, একই বছরের ১২ জুন এবং ২০০১ সালে। মোট পাঁচবার সংসদ সদস্য হয়েছেন তিনি। তৎকালীন মুন্সীগঞ্জ-৪ আসনে ছিল তাঁর প্রতিনিধিত্ব। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের তথ্যে বিভিন্ন সময়ে ঢাকা-৮ ও মুন্সীগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ার কথাও পাওয়া যায়।

মন্ত্রিত্ব ও সংসদের আসনে

১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে আব্দুল হাই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। জাতীয় রাজনীতিতে এটিই ছিল তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদে তিনি প্যানেল স্পিকার নির্বাচিত হন। সংসদ ও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের পাশাপাশি বিএনপির সাংগঠনিক কাজেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।

দলের ভেতরে: জেলা থেকে কেন্দ্র

বিএনপিতে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন তিনি, আর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কোষাধ্যক্ষসহ নানা পদে কাজ করেছেন। স্থানীয় রাজনীতি থেকে জাতীয় পরিসরে এই দীর্ঘ যাত্রা তাঁকে মুন্সীগঞ্জের রাজনীতিতে সুপরিচিত মুখ করে তুলেছিল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে সংসদ সদস্য, উপমন্ত্রী ও প্যানেল স্পিকার, তাঁর এই পথচলা মুন্সীগঞ্জের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। তাঁর মৃত্যুতে জেলার রাজনীতিতে একজন প্রবীণ নেতার অধ্যায়ের অবসান ঘটল।

শিকড়ের কথা

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী গ্রামে ১৯৪৯ সালের ৫ জানুয়ারি জন্ম আব্দুল হাইয়ের। বাবা মনির উদ্দিন ছিলেন ব্যবসায়ী। মুন্সীগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করার পর মুন্সীগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও বিএ ডিগ্রি নেন তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে ভূমিকা রাখেন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিতি পান।

স্ত্রী জামিলা খাতুন, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন তিনি। তাঁর বড় ভাই মহিউদ্দিন আহমেদ জেলা বিএনপির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. আব্দুল হাই কখন মারা গেছেন?

বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৭ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।

২. আব্দুল হাইয়ের জানাজা কোথায় হবে?

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে প্রথম জানাজা হওয়ার কথা। পরে মুন্সীগঞ্জে দ্বিতীয় জানাজা শেষে দাফন হবে।

৩. আব্দুল হাই কতবার সংসদ সদস্য হয়েছিলেন?

পাঁচবার। তিনি ১৯৭৯, ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, একই বছরের ১২ জুন এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হন।

৪. তিনি কোন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ছিলেন?

১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী নিযুক্ত হন।

৫. বিএনপিতে তাঁর দায়িত্ব কী ছিল?

তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কোষাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: