ট্রেড লাইসেন্সে ৪ পরিবর্তনের পরিকল্পনা, কী সুবিধা পাবেন ব্যবসায়ীরা?
ব্যবসা শুরু করা কিংবা চালু ব্যবসার প্রয়োজনীয় লাইসেন্স সংগ্রহে প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে নতুন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের আলাদা ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি অনলাইন পোর্টাল থেকে সব ধরনের ট্রেড লাইসেন্স নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানো, নাম বদলানো এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার পরিদর্শন একসঙ্গে সম্পন্ন করার প্রস্তাবও বিবেচনা করা হচ্ছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব উদ্যোগের কথা জানানো হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘ডিরেগুলেশন অ্যান্ড বিজনেস ফ্যাসিলিটেশন-সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স’-এর প্রথম বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোর বিষয়ে কথা বলেন।
ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আর আলাদা দপ্তরে যেতে হবে না?
বর্তমানে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের তিনটি পৃথক কাঠামো—ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন—নিজ নিজ ব্যবস্থায় ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করে। এই ব্যবস্থাগুলোকে একটি অভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে সরকার।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত পোর্টালে প্রবেশ করে ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে পারবেন। অর্থাৎ, পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে অনলাইনে এসব কাজ সম্পন্ন করে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হবে।
তবে পোর্টালটি কবে চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানো ও নাম বদলের প্রস্তাব
ট্রেড লাইসেন্সের আবেদনপ্রক্রিয়ার পাশাপাশি এর প্রচলিত কাঠামোতেও পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে সরকার। লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান নামের পরিবর্তে ‘বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট’ অথবা একই ধরনের অন্য কোনো নাম ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগগুলোর উদ্দেশ্য হলো লাইসেন্স সংগ্রহ ও নবায়নের পেছনে ব্যবসায়ীদের সময় এবং অর্থ ব্যয় কমানো। তবে মেয়াদ কত দিন করা হবে কিংবা নতুন নামের কোনটি চূড়ান্ত হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।
এক দিনেই হতে পারে একাধিক সরকারি পরিদর্শন
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কাছে পৃথকভাবে পরিদর্শন করাতে হয়। এতে একই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিষয় যাচাইয়ের জন্য একাধিকবার সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। এই পুনরাবৃত্তি কমানোর বিকল্প হিসেবে যৌথ পরিদর্শন পদ্ধতি বিবেচনা করছে সরকার।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ভবনের নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং পরিবেশগত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো একই দিনে যাচাই করবে। এই সমন্বিত কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’-এর।
এদিকে ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন, অনুমতিপত্র এবং লাইসেন্স পেতে দীর্ঘসূত্রতা কমানোর লক্ষ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাঁচটি খাত চিহ্নিত করা হয়েছে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদেশি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নেও নজর
বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা ছাড়পত্র ও ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের প্রক্রিয়াও বৈঠকে আলোচনায় আসে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, এসব বিদেশি কর্মী বৈধ প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন এবং নিয়মিত কর পরিশোধ করেন।
তাঁদের কাজের অনুমতি ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়ন আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং কার্যকর করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
কেন নেওয়া হচ্ছে এসব উদ্যোগ?
ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রশাসনিক হয়রানি কমানো, নিয়ম মানার খরচ হ্রাস এবং বিনিয়োগ আকর্ষণকে সামনে রেখে গত আগস্টে ২১ সদস্যের জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করে সরকার। এতে শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের আগে প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং দেশের ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোও এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
টাস্কফোর্সের প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং সংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।
নতুন নিয়ম কবে চালু হবে?
ট্রেড লাইসেন্সের একক অনলাইন পোর্টাল, মেয়াদ বৃদ্ধি, নাম পরিবর্তন এবং যৌথ পরিদর্শন—কোনোটিরই চূড়ান্ত বাস্তবায়ন-সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে নতুন পদ্ধতিতে কবে থেকে লাইসেন্স পাওয়া যাবে, কতটা মেয়াদ বাড়বে কিংবা পরিবর্তিত ব্যবস্থার বিস্তারিত নিয়ম কী হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
বর্তমানে এসব উদ্যোগ পরিকল্পনা ও বিবেচনার পর্যায়ে রয়েছে। প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে লাইসেন্স সংগ্রহের প্রক্রিয়া এবং সরকারি পরিদর্শনের ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: ট্রেড লাইসেন্সের নিয়মে কী কী পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে?
উত্তর: একক অনলাইন পোর্টাল চালু, লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানো, নাম পরিবর্তন এবং সরকারি সংস্থাগুলোর যৌথ পরিদর্শন চালুর প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রশ্ন ২: অনলাইনে ট্রেড লাইসেন্স কীভাবে পাওয়া যাবে?
উত্তর: প্রস্তাবিত পোর্টাল চালু হলে লগইন করে প্রয়োজনীয় নথি আপলোড এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে লাইসেন্স সংগ্রহ করা যাবে।
প্রশ্ন ৩: ট্রেড লাইসেন্সের নতুন নাম কী হতে পারে?
উত্তর: ‘বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট’ অথবা এ ধরনের অন্য কোনো নাম দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। চূড়ান্ত নাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
প্রশ্ন ৪: যৌথ পরিদর্শনে কোন বিষয়গুলো যাচাই করা হবে?
উত্তর: প্রস্তাব অনুযায়ী, ভবনের নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিবেশসংক্রান্ত বিষয় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো একই দিনে পরিদর্শন করবে। এই কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’-এর।
প্রশ্ন ৫: নতুন ট্রেড লাইসেন্স ব্যবস্থা কবে চালু হবে?
উত্তর: বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো জানানো হয়নি। অনলাইন পোর্টাল, লাইসেন্সের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং যৌথ পরিদর্শন ব্যবস্থা এখনো পরিকল্পনা ও বিবেচনার পর্যায়ে রয়েছে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- অন্যের নামে জমি রেকর্ড হয়ে গেলে নিজের নামে করবেন কীভাবে?
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি দাম কত
- vivo-এর সেরা ৫ গেমিং ফোন, কোনটার দাম কত?
- Honor Win RT 2: ১২,০৭০mAh ব্যাটারি, দাম ও স্পেসিফিকেশন
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ৬টি দেশের টাকার মান
- আজকের টাকার রেট কত: কমেছে১৬টি দেশের টাকার মান
- দলিল, খতিয়ান ও নামজারি: জমির মালিকানা কীভাবে বুঝবেন?
- বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে ম্যাচ আজ, কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ২০টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে: টসের পর দুই দলের চূড়ান্ত একাদশ
- Honor Win RT2: ১২,০৭০mAh ব্যাটারির গেমিং ফোন
- OnePlus Ace 7: ১৮৫Hz ডিসপ্লে ও ৯০০০mAh ব্যাটারি!
- বর্তমানে সেরা ৫টি বাইক: দাম ও মাইলেজ জানুন