ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ? নবায়নের খরচ ও নিয়ম
ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সেটি নবায়ন করতে হয়। বাংলাদেশে অপেশাদার ও পেশাদার লাইসেন্সের নবায়ন ফি এক নয়। এর সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণের সময়, ডাক খরচ ও অনলাইন পেমেন্ট চার্জের মতো বিষয়ও যুক্ত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নিজের লাইসেন্সের ধরন অনুযায়ী ফি যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা জরুরি।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অপেশাদার লাইসেন্স নবায়নের জন্য একটি নির্ধারিত ফি এবং পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে আরেকটি ফি উল্লেখ রয়েছে। তবে বিআরটিএর বিভিন্ন অনলাইন পাতায় নবায়ন ফির অঙ্কে পার্থক্য দেখা যায়। এ কারণে আবেদনকারীর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে নিজের আবেদন তৈরি করে সেখানে প্রদর্শিত প্রযোজ্য ফি দেখে টাকা জমা দেওয়া।
ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নে কত টাকা লাগে?
বিআরটিএর প্রকাশিত সেবা-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, নবায়নের খরচ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পেতে নিচের অঙ্কগুলো জানা যেতে পারে।
অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স: বিআরটিএর সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতিতে নবায়ন ফি ৪ হাজার ১৫২ টাকা উল্লেখ রয়েছে। এর সঙ্গে ৬০ টাকা ডাক খরচ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ হলে প্রতি বছরের জন্য ৫১৮ টাকা ফি প্রযোজ্য বলে জানানো হয়েছে।
পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স: একই সেবা-সংক্রান্ত তথ্যে নবায়ন ফি ২ হাজার ৪২৭ টাকা উল্লেখ রয়েছে। এর সঙ্গে ৬০ টাকা ডাক খরচ এবং মেয়াদোত্তীর্ণের ক্ষেত্রে প্রতি বছরের জন্য ৫১৮ টাকা ফি উল্লেখ করা হয়েছে।
অনলাইন পেমেন্ট চার্জ: অনলাইনে টাকা জমা দিলে পেমেন্ট গেটওয়ের চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।
তবে বিআরটিএর সার্ভিস পোর্টালের আরেকটি পাতায় নবায়ন ফির ভিন্ন অঙ্ক দেখা যাচ্ছে। ফলে উপরের অঙ্কগুলোকে সব আবেদনকারীর জন্য চূড়ান্ত ও হালনাগাদ ফি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। টাকা জমা দেওয়ার আগে নিজের আবেদন অনুযায়ী পোর্টালে প্রদর্শিত ফি যাচাই করতে হবে।
লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলে কি অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়?
মেয়াদ শেষ হওয়ার পর লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি বা জরিমানা প্রযোজ্য হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিআরটিএর বিভিন্ন প্রকাশিত পাতায় অঙ্কের পার্থক্য রয়েছে। কোথাও মেয়াদোত্তীর্ণের ১৫ দিনের মধ্যে নির্দিষ্ট ফি এবং এরপর প্রতি বছরের জন্য ৫১৮ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে; আবার সার্ভিস পোর্টালের অন্য পাতায় প্রতি বছরের জন্য ২০০ টাকা অতিরিক্ত অর্থের তথ্য রয়েছে।
তাই কত দিন আগে লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেই তথ্য দিয়ে আবেদন করার পর পোর্টালে যে অঙ্ক দেখানো হবে, সেটিই যাচাই করে পরিশোধ করা উচিত। পুরোনো কোনো ওয়েবপাতা বা অন্য ব্যক্তির অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ফি নির্ধারণ করবেন না।
ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের আবেদন করবেন যেভাবে
অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের নবায়নের জন্য বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল (বিএসপি) ব্যবহার করা যায়। অনলাইনে আবেদন করতে সাধারণত নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয়।
প্রথম ধাপ: বিএসপি পোর্টালে প্রবেশ করুন
বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালের ঠিকানা হলো https://bsp.brta.gov.bd/। সেখানে নিজের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করুন। অ্যাকাউন্ট না থাকলে পোর্টালে দেওয়া নির্দেশনা অনুসারে নিবন্ধন সম্পন্ন করুন।
দ্বিতীয় ধাপ: নবায়নের আবেদন নির্বাচন করুন
অ্যাকাউন্টে প্রবেশের পর ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের অপশন নির্বাচন করুন। লাইসেন্সের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য দিন এবং পোর্টালে চাওয়া কাগজপত্র সংযুক্ত করুন।
তৃতীয় ধাপ: নির্ধারিত ফি যাচাই করুন
আবেদনের তথ্য দেওয়ার পর পোর্টালে প্রদর্শিত ফি ও প্রযোজ্য অতিরিক্ত চার্জ যাচাই করুন। ফি নিশ্চিত হওয়ার পর পোর্টালে অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতিতে টাকা জমা দিন এবং রসিদ সংরক্ষণ করুন।
চতুর্থ ধাপ: পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করুন
আবেদন জমা দেওয়ার পর পোর্টাল বা বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিস থেকে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করুন। প্রয়োজন হলে নির্ধারিত অফিসে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়াসহ পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নে কী নিয়ম?
পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে শুধু ফি জমা দিলেই প্রক্রিয়া শেষ হয় না। বিআরটিএর প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, পেশাদার লাইসেন্সধারীকে পুনরায় ব্যবহারিক বা ড্রাইভিং দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় অংশ নিতে হতে পারে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর নির্ধারিত ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নবায়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
পেশাদার লাইসেন্সের জন্য মেডিকেল সার্টিফিকেটসহ অতিরিক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সেবা নির্দেশনায় ডোপ টেস্টের প্রতিবেদনও চাওয়া হয়েছে। কোন নথি কখন জমা দিতে হবে, তা আবেদন করার সময় পোর্টালের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ সার্কেল অফিস থেকে নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।
নবায়নের জন্য কী কী কাগজপত্র লাগতে পারে?
লাইসেন্সের ধরন ও আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী কাগজপত্রের চাহিদা আলাদা হতে পারে। সাধারণভাবে প্রস্তুত রাখতে পারেন—
বর্তমান বা আগের ড্রাইভিং লাইসেন্সের কপি
জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
নির্ধারিত আবেদনসংক্রান্ত তথ্য ও প্রয়োজনীয় ফরম
ফি জমার রসিদ
পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে মেডিকেল সার্টিফিকেট
প্রযোজ্য হলে ডোপ টেস্টের প্রতিবেদন এবং দক্ষতা যাচাই পরীক্ষার প্রমাণ
বিআরটিএ চাইলে অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি
সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রতিটি কাগজপত্র একইভাবে প্রযোজ্য হবে—এমন নয়। আবেদন জমা দেওয়ার আগে বিএসপি পোর্টালে দেখানো তালিকা মিলিয়ে নিন।
নবায়ন শেষ হতে কত দিন লাগে?
নবায়নের সময় নির্ভর করতে পারে আবেদন যাচাই, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, বায়োমেট্রিক তথ্য গ্রহণ এবং স্মার্ট কার্ড প্রস্তুতের ওপর। বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদন ও কাগজপত্র ঠিক থাকলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া হয়। স্মার্ট কার্ড প্রস্তুত হলে গ্রাহককে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হতে পারে।
তাই আবেদন করার পর শুধু নির্দিষ্ট কয়েক দিনের মধ্যে কার্ড হাতে পাওয়া যাবে ধরে না নিয়ে পোর্টাল বা এসএমএসে দেওয়া হালনাগাদ নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়ন করা ভালো
ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নবায়ন করতে গেলে অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হতে পারে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের জন্যও সময় লাগতে পারে। তাই লাইসেন্সের মেয়াদ নিয়মিত দেখে আগেভাগে নবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া ভালো।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফি সম্পর্কে অনলাইনে পাওয়া তথ্য যাচাই না করে টাকা জমা না দেওয়া। বিআরটিএর বিভিন্ন পাতায় অঙ্কের পার্থক্য থাকায় আবেদনকারীর নিজের বিএসপি অ্যাকাউন্টে প্রদর্শিত ফি এবং সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসের নির্দেশনা অনুসরণ করাই নিরাপদ।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. বাংলাদেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে কত টাকা লাগে?
বিআরটিএর প্রকাশিত সেবা-তথ্যে অপেশাদার লাইসেন্সের জন্য ৪ হাজার ১৫২ টাকা এবং পেশাদার লাইসেন্সের জন্য ২ হাজার ৪২৭ টাকা উল্লেখ রয়েছে। তবে বিভিন্ন সরকারি অনলাইন পাতায় ফির অঙ্কে পার্থক্য দেখা যায়। তাই আবেদনের সময় বিএসপি পোর্টালে প্রদর্শিত ফি যাচাই করা জরুরি।
২. মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করা যাবে?
হ্যাঁ, নবায়নের আবেদন করা যায়। তবে মেয়াদোত্তীর্ণের সময় অনুযায়ী অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হতে পারে। সঠিক অঙ্ক জানতে নিজের আবেদন অনুযায়ী বিআরটিএ পোর্টালের ফি যাচাই করুন।
৩. ড্রাইভিং লাইসেন্স কি অনলাইনে নবায়ন করা যায়?
অপেশাদার লাইসেন্সের নবায়নের জন্য বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে অনলাইনে আবেদন করার ব্যবস্থা রয়েছে। আবেদনকারীর লাইসেন্সের ধরন অনুযায়ী পরবর্তী ধাপে অফিসে উপস্থিত হওয়া বা অন্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রয়োজন হতে পারে।
৪. পেশাদার লাইসেন্স নবায়নে কি আবার পরীক্ষা দিতে হয়?
বিআরটিএর প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, পেশাদার লাইসেন্সধারীদের পুনরায় ব্যবহারিক বা দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা যাচাই করুন।
৫. ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নে কী কী কাগজ লাগে?
সাধারণত আগের লাইসেন্সের কপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও ফি জমার রসিদ প্রয়োজন হতে পারে। পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে মেডিকেল সার্টিফিকেট, ডোপ টেস্টের প্রতিবেদন বা দক্ষতা যাচাইয়ের প্রমাণও লাগতে পারে। চূড়ান্ত তালিকা বিএসপি পোর্টাল থেকে দেখে নিন।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আজকের স্বর্ণের দাম কত: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনার দাম
- OnePlus Turbo 7 Pro-তে ১৮৫Hz ডিসপ্লে, ১০,০০০mAh ব্যাটারি?
- জমি রেজিস্ট্রির সময় কী কী দেখে স্বাক্ষর করবেন? জেনে নিন
- আজ প্রতি ভরি ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনার দাম কত
- আজকের টাকার রেট কত:বেড়েছে২টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নে কত টাকা লাগে, দেরি হলে কত জরিমানা
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ দিনের ছুটি, তারিখ জেনে নিন