ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

পাসপোর্টে জন্মতারিখ ভুল? সংশোধনের নিয়ম জেনে নিন

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২২ ১৩:২৬:৫৩
পাসপোর্টে জন্মতারিখ ভুল? সংশোধনের নিয়ম জেনে নিন

পাসপোর্টে জন্মতারিখ ভুল থাকলে তা সংশোধন করা সম্ভব, তবে এর জন্য সঠিক তথ্যের পক্ষে সরকারি নথি দেখাতে হবে। বাংলাদেশের ই-পাসপোর্টের নিয়ম অনুযায়ী, জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন যাচাইয়ের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ এবং আগের পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। আবেদনকারীর বয়স, নথিতে থাকা তথ্য এবং সংশোধনের ধরন অনুযায়ী আবেদন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত যাচাইও হতে পারে।

বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে পাসপোর্টে জন্মতারিখ সংশোধন করতে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই পাসপোর্টে ভুল দেখার পর সরাসরি সংশোধনের আবেদন না করে আগে NID ও জন্মনিবন্ধনের তথ্য মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ, মূল পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে পাসপোর্টের তথ্যের অমিল থাকলে আবেদন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

পাসপোর্টে জন্মতারিখ সংশোধনের নিয়ম কী?

বাংলাদেশের ই-পাসপোর্ট পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী, পাসপোর্টের জন্মতারিখ, নাম, জন্মস্থান কিংবা বাবা-মায়ের নামের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তন করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি জমা দিতে হয়। এসব তথ্য পাসপোর্ট অফিসে যাচাই করা হয় এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অতিরিক্ত তদন্ত করা হতে পারে।

জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রথমে নির্ধারণ করতে হবে ভুলটি কোথায় রয়েছে। যদি জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধনে জন্মতারিখ সঠিক থাকে, কিন্তু পাসপোর্টে ভুল থাকে, তাহলে সঠিক নথিগুলো দেখিয়ে পাসপোর্ট সংশোধনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

অন্যদিকে, NID বা জন্মনিবন্ধনেও জন্মতারিখ ভুল থাকলে আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মূল নথির ভুল সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। পাসপোর্ট আবেদনে পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সরকারি নথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া জরুরি।

জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য কোন কাগজপত্র লাগবে?

পাসপোর্টে জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় নথি আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। সাধারণভাবে নিচের কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা উপকারী।

জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): প্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীর জন্মতারিখ যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথি।

অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (BRC): বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক।

আগের পাসপোর্ট: পুরোনো পাসপোর্টে ভুল জন্মতারিখ কীভাবে এসেছে, তা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজন হতে পারে।

সংশোধিত সরকারি নথি: NID বা জন্মনিবন্ধনে আগে সংশোধন করা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট হালনাগাদ নথি।

অন্যান্য প্রমাণপত্র: পাসপোর্ট অফিস চাইলে জন্মতারিখের পক্ষে অতিরিক্ত সরকারি কাগজপত্র দিতে হতে পারে।

এটি সবার জন্য একই রকম বাধ্যতামূলক কাগজপত্রের তালিকা নয়। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসের কাছে নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথির তালিকা নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।

পাসপোর্টে জন্মতারিখ ভুল থাকলে যেভাবে আবেদন করবেন

১. NID ও জন্মনিবন্ধনের তথ্য যাচাই করুন

প্রথমে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন সনদ এবং পুরোনো পাসপোর্টে জন্মতারিখ মিলিয়ে দেখুন। কোন নথিতে সঠিক তথ্য রয়েছে এবং কোথায় ভুল হয়েছে, তা নিশ্চিত করুন।

প্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে পাসপোর্টের জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য বাংলাদেশি NID গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। শুধু জন্মনিবন্ধনে সংশোধন করলেই প্রাপ্তবয়স্কের পাসপোর্টের জন্মতারিখ পরিবর্তন নিশ্চিত হবে—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

২. প্রয়োজনীয় সরকারি নথি প্রস্তুত করুন

জন্মতারিখের সঠিক তথ্য প্রমাণ করে এমন নথি সংগ্রহ করুন। NID বা জন্মনিবন্ধনে ভুল থাকলে আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সেই ভুল সংশোধন করতে হতে পারে।

সব নথিতে জন্মতারিখের অমিল থাকলে পাসপোর্ট অফিস অতিরিক্ত ব্যাখ্যা বা প্রমাণ চাইতে পারে। তাই আবেদনের আগে তথ্যের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

৩. পাসপোর্ট রি-ইস্যুর আবেদন করুন

আগে পাসপোর্ট ইস্যু হয়ে থাকলে তথ্য সংশোধনের জন্য সাধারণত রি-ইস্যুর প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। ই-পাসপোর্টের সরকারি পোর্টালে আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনা দেখে ফরম পূরণ করতে হবে।

সরকারি পোর্টাল: https://www.epassport.gov.bd/

আবেদনপত্রে সঠিক তথ্য দিতে হবে এবং সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী প্রমাণপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

৪. নির্ধারিত দিনে পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন

আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হয়ে কাগজপত্র দেখাতে হতে পারে। সঙ্গে আবেদনসংক্রান্ত কাগজপত্র, আগের পাসপোর্ট এবং সঠিক জন্মতারিখের পক্ষে প্রাসঙ্গিক নথি রাখুন।

জন্মতারিখের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আবেদন যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। প্রয়োজন হলে পুলিশ ভেরিফিকেশন বা অন্য ধরনের তদন্তও হতে পারে।

৫. আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করুন

আবেদন জমা দেওয়ার পর ই-পাসপোর্ট পোর্টালের মাধ্যমে আবেদনের অবস্থা দেখা যায়। এ জন্য আবেদনপত্রের Application ID অথবা Online Registration ID প্রয়োজন হতে পারে।

আবেদনের অবস্থা যাচাইয়ের লিংক:

https://www.epassport.gov.bd/authorization/application-status

আবেদন দীর্ঘ সময় আটকে থাকলে স্ট্যাটাস অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। পুলিশ ভেরিফিকেশন চলমান থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

১৮ বছরের বেশি বয়সীদের জন্মতারিখ সংশোধনে কী নিয়ম?

প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশি মিশনের প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের আগের পাসপোর্টের জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে NID দিয়ে সঠিক তথ্য সমর্থন করতে হবে। শুধু সংশোধিত ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন সনদের ভিত্তিতে এ ধরনের আবেদন গ্রহণ করা নাও হতে পারে।

আরও পড়ুন:

পাসপোর্টে নামের বানান ভুল? সংশোধনের নিয়ম জানুন

নতুন ভোটার হতে লাগবে যেসব কাগজ, জানুন আবেদন পদ্ধতি

স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্ট্যাটাস দেখবেন যেভাবে

তবে আবেদন গ্রহণ ও সংশোধন অনুমোদন এক বিষয় নয়। পাসপোর্ট অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত তদন্তের প্রয়োজন হতে পারে।

১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে কী হবে?

অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাসপোর্টের জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদনেও জন্মনিবন্ধনের তথ্য যাচাই করা হতে পারে।

তবে আবেদনকারীর বয়স, আগের পাসপোর্টের তথ্য এবং জন্মনিবন্ধনের অবস্থার ওপর নির্ভর করে অতিরিক্ত কাগজপত্র বা যাচাই প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসের নির্দেশনা জেনে নেওয়া উচিত।

জন্মতারিখ সংশোধনে কত টাকা লাগে?

পাসপোর্টে জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য মোট কত টাকা লাগবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। কারণ, সংশোধনের ক্ষেত্রে সাধারণত রি-ইস্যুর আবেদন করতে হয় এবং পাসপোর্টের ধরন, পৃষ্ঠা, মেয়াদ ও ডেলিভারি ক্যাটাগরির ওপর ফি নির্ভর করতে পারে।

আবেদন করার আগে সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালে প্রদর্শিত ফি ও অনুমোদিত পরিশোধপদ্ধতি যাচাই করুন। কোনো দালাল বা অননুমোদিত ব্যক্তিকে তথ্য সংশোধনের নিশ্চয়তা দিয়ে টাকা দেবেন না। ই-পাসপোর্ট পোর্টালে তথ্য সংশোধন বা সমস্যা সমাধানের জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অর্থ না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

জন্মতারিখ সংশোধন করতে কত দিন লাগবে?

জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময় সবার ক্ষেত্রে এক নয়। কাগজপত্র যাচাই, তথ্যের অমিল, অতিরিক্ত তদন্ত কিংবা পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন হলে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি লাগতে পারে।

তাই জরুরি ভ্রমণ বা ভিসার আবেদন থাকলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা ভালো। আবেদন জমা দেওয়ার পর নিয়মিত অনলাইনে স্ট্যাটাস পরীক্ষা করুন।

পাসপোর্টে জন্মতারিখ ভুল থাকলে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

জন্মতারিখ সংশোধনের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক তথ্য ও প্রমাণপত্র দেওয়া। ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করলে আবেদন আটকে যেতে পারে এবং আইনগত জটিলতাও তৈরি হতে পারে।

আবেদন করার আগে মনে রাখুন:

NID ও জন্মনিবন্ধনের জন্মতারিখ মিলিয়ে নিন।

প্রাপ্তবয়স্ক হলে সংশোধনের পক্ষে NID প্রস্তুত রাখুন।

আগের পাসপোর্ট ও প্রাসঙ্গিক সরকারি নথি সঙ্গে রাখুন।

আবেদন জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করুন।

সরকারি ফি ছাড়া তথ্য সংশোধনের নামে কাউকে টাকা দেবেন না।

আবেদন আটকে গেলে অনানুষ্ঠানিক মধ্যস্থতাকারীর পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন।

সব মিলিয়ে, পাসপোর্টে জন্মতারিখ ভুল থাকলে সংশোধনের সুযোগ থাকলেও তা স্বয়ংক্রিয় নয়। সঠিক সরকারি নথি, যথাযথ আবেদন এবং প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের মাধ্যমে সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। তাই প্রথমেই NID ও জন্মনিবন্ধনের তথ্য যাচাই করে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী এগোনোই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

পাঠকের সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

১. পাসপোর্টে জন্মতারিখ ভুল হলে কি সংশোধন করা যায়?

সংশোধনের আবেদন করা যায়। তবে সঠিক জন্মতারিখের পক্ষে প্রয়োজনীয় সরকারি নথি দিতে হয় এবং সংশোধন অনুমোদন নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের ওপর।

২. জন্মতারিখ সংশোধনে NID লাগবে কি?

প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি NID গুরুত্বপূর্ণ নথি। অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

৩. পাসপোর্টে জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য কোথায় আবেদন করব?

ই-পাসপোর্টের সরকারি পোর্টাল https://www.epassport.gov.bd/ থেকে আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন।

৪. পাসপোর্টে জন্মতারিখ সংশোধন করতে কত দিন লাগে?

সবার ক্ষেত্রে একই সময় লাগে না। কাগজপত্র যাচাই ও অতিরিক্ত তদন্তের প্রয়োজন হলে প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে।

৫. জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য দালালকে টাকা দিতে হবে কি?

না। সরকারি পোর্টালে তথ্য সংশোধন বা সমস্যা সমাধানের জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে টাকা না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। অনুমোদিত সরকারি ফি ও পরিশোধপদ্ধতি অনুসরণ করুন।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: