ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা, আঘাত হানতে পারে যেখানে

সারাদেশ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৩ ১৮:৪৩:০৩
বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা, আঘাত হানতে পারে যেখানে

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি শক্তি বাড়িয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। প্রাথমিক পূর্বাভাসে এর সম্ভাব্য আঘাতস্থল হিসেবে ভারতের পূর্ব উপকূলকে বেশি সম্ভাবনাময় মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশে সরাসরি আঘাতের আশঙ্কা আপাতত কম থাকলেও, ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টি হতে পারে। এতে কৃষিকাজ ও সাগরে মাছ ধরার কার্যক্রমে সতর্কতা প্রয়োজন বলে পূর্বাভাসে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বেসরকারি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমের (বিডব্লিউওটি) পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় হওয়ার সম্ভাবনা

বিডব্লিউওটির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্য বঙ্গোপসাগরে থাকা লঘুচাপটি ধাপে ধাপে শক্তিশালী হতে পারে। আগামী ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এরপর পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লঘুচাপটি নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে।

তবে ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি, শক্তি বৃদ্ধি এবং গতিপথের বিষয়ে পূর্বাভাস এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে পরবর্তী সময়ে এর গতিপথ, শক্তি ও সম্ভাব্য আঘাতের সময় পরিবর্তিত হতে পারে।

ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাতের সম্ভাব্য সময়

বিডব্লিউওটির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি আগামী ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে ২৮ অক্টোবর সকালের মধ্যে ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

এ মুহূর্তে বাংলাদেশে সরাসরি আঘাতের আশঙ্কা তুলনামূলক কম বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। এ কারণে পরিস্থিতির পরবর্তী পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।

২৭ অক্টোবর থেকে বাড়তে পারে বৃষ্টির প্রবণতা

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাংলাদেশে বৃষ্টিবলয় সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৭ ও ২৮ অক্টোবর থেকে ১ ও ২ নভেম্বরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী বৃষ্টিবলয় তৈরি হতে পারে।

এর ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত হতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী কোথাও কোথাও বৃষ্টির পরিমাণ ভারি থেকে অতিভারি পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়টি সরাসরি বাংলাদেশে আঘাত না করলেও এর প্রভাবে সৃষ্ট বৃষ্টিপাত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে।

উত্তাল হতে পারে উত্তর বঙ্গোপসাগর, জেলেদের সতর্কতা

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় ও বৃষ্টিবলয়ের কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে ওঠার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে গভীর সাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাগরের আবহাওয়া পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে মাছ ধরার কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট নৌযানগুলোকে সতর্ক থাকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

কৃষকদের জন্য বিশেষ পরামর্শ

সম্ভাব্য ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষি খাতে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যেসব জমির ধান ইতিমধ্যে পেকে গেছে, সেগুলো আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে কেটে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, যারা শীতকালীন সবজি চাষ কিংবা বীজতলা তৈরির পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের বৃষ্টি না থামা পর্যন্ত এসব কাজ স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাসে এখনই কী জানা জরুরি?

ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য গতিপথ ও আঘাতের সময় সম্পর্কে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তা এখনো প্রাথমিক পূর্বাভাস। তাই সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে পরবর্তী আবহাওয়া বুলেটিনের দিকে নজর রাখা জরুরি।

একই সঙ্গে সাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার এবং কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পূর্বাভাস অনুযায়ী সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পাকা ধান কেটে নিরাপদে রাখা এবং বৃষ্টির মধ্যে নতুন চাষাবাদ বা বীজতলা তৈরির কাজ স্থগিত রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. বঙ্গোপসাগরে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় কখন তৈরি হতে পারে?

বিডব্লিউওটির প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টায় লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হতে পারে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপ এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২. সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি কোথায় আঘাত হানতে পারে?

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এটি ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে ২৮ অক্টোবর সকালের মধ্যে ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে পূর্বাভাস পরিবর্তিত হতে পারে।

৩. বাংলাদেশে কি ঘূর্ণিঝড়টি সরাসরি আঘাত হানতে পারে?

প্রদত্ত পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাংলাদেশে সরাসরি আঘাতের আশঙ্কা আপাতত কম। তবে এর প্রভাবে দেশে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টি হতে পারে।

৪. বাংলাদেশে কখন বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে?

প্রাথমিক পূর্বাভাসে ২৭ ও ২৮ অক্টোবর থেকে ১ ও ২ নভেম্বরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী বৃষ্টিবলয় সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা জানানো হয়েছে।

৫. ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় কৃষকদের কী পরামর্শ দেওয়া হয়েছে?

যেসব জমির ধান পেকে গেছে, সেগুলো ২৬ অক্টোবরের মধ্যে কেটে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বৃষ্টি না থামা পর্যন্ত শীতকালীন সবজি চাষ ও বীজতলা তৈরির কাজ স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: