পাসপোর্টে জন্মতারিখ ভুল? সংশোধনের নিয়ম জানুন
পাসপোর্টে জন্মতারিখ ভুল থাকলে বিদেশযাত্রা, ভিসার আবেদন কিংবা পরিচয় যাচাইয়ের সময় জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য শুধু পাসপোর্ট অফিসে আবেদন করলেই হবে না; জন্মতারিখের সঠিক প্রমাণ হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। সংশোধনের আবেদন যাচাই করতে গিয়ে কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত নথি চাইতে পারে, এমনকি প্রয়োজন হলে পুলিশি যাচাইও হতে পারে।
বাংলাদেশে পাসপোর্টে জন্মতারিখ সংশোধনের নিয়ম নির্ভর করে আবেদনকারী প্রাপ্তবয়স্ক নাকি অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাঁর পরিচয়পত্রে কোন জন্মতারিখ রয়েছে এবং ভুলটি নতুন আবেদনে নাকি আগে ইস্যু হওয়া পাসপোর্টে—এসব বিষয়ের ওপর। তাই আবেদন করার আগে মূল নথিগুলোর তথ্য মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।
পাসপোর্টে জন্মতারিখ সংশোধনের আগে যা করবেন
প্রথমেই নিজের পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্মনিবন্ধন সনদে থাকা জন্মতারিখ মিলিয়ে দেখুন। কোন নথিতে সঠিক তথ্য রয়েছে, তা নিশ্চিত না হয়ে পাসপোর্ট সংশোধনের আবেদন করবেন না।
প্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মৌলিক তথ্য সংশোধনে এনআইডির তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই এনআইডিতেই জন্মতারিখ ভুল থাকলে আগে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় তা সংশোধন করতে হতে পারে।
অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হতে পারে। ই-পাসপোর্টের আবেদন পূরণের সময় সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী এনআইডি অথবা অনলাইন জন্মনিবন্ধনের তথ্য ব্যবহার করতে হয়।
পাসপোর্টে জন্মতারিখ ভুল হলে সংশোধন করবেন যেভাবে
১. পরিচয়পত্রের তথ্য ঠিক আছে কি না যাচাই করুন
পাসপোর্টে ভুল জন্মতারিখ থাকলেও এনআইডি বা জন্মনিবন্ধনে তথ্য সঠিক থাকলে সেই নথির ভিত্তিতে সংশোধনের আবেদন প্রস্তুত করুন। আর মূল পরিচয়পত্রেও ভুল থাকলে আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সেটি সংশোধনের উদ্যোগ নিন।
একাধিক নথিতে জন্মতারিখের অমিল থাকলে কোন নথির তথ্য অনুসরণ করতে হবে, তা পাসপোর্ট অফিসের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া ভালো।
২. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করুন
সংশোধনের আবেদন করার আগে সাধারণভাবে নিচের নথিগুলো প্রস্তুত রাখতে পারেন—
বর্তমান পাসপোর্টের মূল কপি ও ফটোকপি
জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, যদি প্রযোজ্য হয়
অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ, বিশেষ করে এনআইডি না থাকা অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে
জন্মতারিখের সঠিকতা প্রমাণে প্রয়োজনীয় অন্যান্য সরকারি নথি
অনলাইনে আবেদন করে থাকলে আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি বা অ্যাপ্লিকেশন সামারি
পাসপোর্ট অফিস চাইলে অতিরিক্ত প্রমাণপত্র বা সংশোধনী অঙ্গীকারনামা
সব আবেদনকারীর জন্য একই নথির তালিকা প্রযোজ্য নয়। বয়স, আবেদনের ধরন এবং তথ্যের অমিল অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে।
৩. সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন
ইতিমধ্যে ইস্যু হওয়া পাসপোর্টে জন্মতারিখ ভুল থাকলে সংশোধনের প্রক্রিয়া জানতে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তথ্য সংশোধন বা রি-ইস্যুর আবেদন করতে হবে।
আবেদন করার সময় পাসপোর্টে বর্তমানে যে জন্মতারিখ রয়েছে এবং সংশোধন করে যে তারিখ দিতে চান, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন। সঠিক জন্মতারিখের পক্ষে প্রয়োজনীয় সরকারি নথি জমা দিন।
জন্মতারিখের মতো মৌলিক তথ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ আবেদনটি আরও বিস্তারিতভাবে যাচাই করতে পারে। তাই সব নথিতে একই তথ্য থাকা এবং তথ্যের সত্যতা প্রমাণ করতে পারা গুরুত্বপূর্ণ।
৪. আবেদন জমা দিয়ে পরবর্তী যাচাই সম্পন্ন করুন
আবেদন জমা দেওয়ার পর পাসপোর্ট অফিসের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। জন্মতারিখ পরিবর্তনের আবেদন অতিরিক্ত তদন্তের জন্য পাঠানো হলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে।
বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পাসপোর্টে জন্মতারিখের মতো মৌলিক তথ্য পরিবর্তন করে আবেদন করলে পুলিশি যাচাই প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী অতিরিক্ত নথি বা তথ্য দিতে হতে পারে।
ই-পাসপোর্টের আবেদন জমা দেওয়ার পর ভুল ধরা পড়লে কী করবেন?
আপনি যদি ই-পাসপোর্টের আবেদন জমা দেওয়ার পর জন্মতারিখ ভুল দেখতে পান, তাহলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন। ই-পাসপোর্টের সরকারি পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদন জমা হয়ে যাওয়ার পর তথ্য ভুল ধরা পড়লে আবেদনপত্রের প্রিন্ট করা ‘অ্যাপ্লিকেশন সামারি’ নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে।
সঙ্গে সঠিক তথ্যের প্রমাণ হিসেবে এনআইডি বা জন্মনিবন্ধন সনদ এবং আগের পাসপোর্ট থাকলে সেটিও নিয়ে যান। পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আবেদন যাচাই করে ভুল তথ্য সংশোধনের ব্যবস্থা নিতে পারেন।
তবে আবেদন জমা হওয়ার পর তথ্য সংশোধন এবং ইতিমধ্যে ইস্যু হওয়া পাসপোর্টের জন্মতারিখ পরিবর্তন এক বিষয় নয়। পাসপোর্ট ইস্যু হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী আলাদা সংশোধন বা রি-ইস্যু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
জন্মতারিখ সংশোধনে কত টাকা লাগে?
পাসপোর্টে জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একটি নির্দিষ্ট ফি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। আবেদনটি কোন পর্যায়ে রয়েছে, নতুন পাসপোর্টের জন্য রি-ইস্যু প্রয়োজন কি না এবং কোন ধরনের সেবা নেওয়া হচ্ছে—এসবের ওপর খরচ নির্ভর করতে পারে।
তাই টাকা জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিস অথবা ই-পাসপোর্টের সরকারি পোর্টাল থেকে প্রযোজ্য ফি ও পেমেন্ট পদ্ধতি নিশ্চিত করুন। শুধু তথ্য সংশোধনের নামে কোনো ব্যক্তি বা দালালকে অতিরিক্ত অর্থ দেবেন না। ই-পাসপোর্টের সরকারি পোর্টালে তথ্য সংশোধন বা সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যক্তিগতভাবে কাউকে অর্থ না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
জন্মতারিখ সংশোধনে কত দিন সময় লাগে?
সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট কত দিন লাগবে, তা সব ক্ষেত্রে এক নয়। আবেদন যাচাই, নথির গ্রহণযোগ্যতা, অতিরিক্ত তদন্ত এবং পুলিশি যাচাইয়ের প্রয়োজন আছে কি না—এসবের ওপর সময় নির্ভর করতে পারে।
জন্মতারিখের মতো মৌলিক তথ্য পরিবর্তনের আবেদন অতিরিক্ত যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হলে প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ হতে পারে। তাই বিদেশযাত্রা বা ভিসার আবেদনের শেষ সময় ঘনিয়ে এলে যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করা উচিত।
পাসপোর্টে জন্মতারিখ ভুল থাকলে যে ভুলগুলো করবেন না
প্রথমত, পাসপোর্টে ভুল থাকলেও এনআইডি বা জন্মনিবন্ধনের তথ্য যাচাই না করে নতুন আবেদন করবেন না। দ্বিতীয়ত, সঠিক তথ্যের পক্ষে প্রমাণ ছাড়া ইচ্ছামতো জন্মতারিখ পরিবর্তনের চেষ্টা করবেন না। তৃতীয়ত, সংশোধন দ্রুত করিয়ে দেওয়ার আশ্বাসে অননুমোদিত ব্যক্তি বা দালালের হাতে টাকা কিংবা ব্যক্তিগত নথি তুলে দেবেন না।
সবশেষে, পাসপোর্টে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে সরকারি নথির সঙ্গে তথ্যের সামঞ্জস্য এবং প্রমাণপত্রের গ্রহণযোগ্যতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সংশোধনের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসের নির্দেশনা অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. পাসপোর্টে জন্মতারিখ ভুল হলে কি সংশোধন করা যায়?
সংশোধনের আবেদন করা যায়। তবে জন্মতারিখের সঠিকতা প্রমাণে এনআইডি, অনলাইন জন্মনিবন্ধন বা অন্যান্য গ্রহণযোগ্য সরকারি নথি প্রয়োজন হতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের ওপর নির্ভর করে।
২. এনআইডিতে জন্মতারিখ ভুল থাকলে কী করতে হবে?
প্রথমে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় এনআইডির তথ্য সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে। এরপর সংশোধিত তথ্যের ভিত্তিতে পাসপোর্টের সংশোধন বা রি-ইস্যুর বিষয়ে পাসপোর্ট অফিসের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
৩. ই-পাসপোর্টের আবেদন জমা দেওয়ার পর জন্মতারিখের ভুল ধরা পড়লে কী করবেন?
আবেদনপত্রের প্রিন্ট করা অ্যাপ্লিকেশন সামারি এবং সঠিক তথ্যের প্রমাণপত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন। আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে, তার ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪. জন্মতারিখ সংশোধনে কি পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়?
জন্মতারিখের মতো মৌলিক তথ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই বা পুলিশি যাচাই প্রয়োজন হতে পারে। তবে প্রতিটি আবেদনের প্রক্রিয়া এক নয়।
৫. পাসপোর্টে জন্মতারিখ সংশোধনে কত টাকা লাগে?
খরচ নির্ভর করে আবেদনের ধরন ও প্রযোজ্য সেবার ওপর। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিস বা সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টাল থেকে ফি নিশ্চিত করুন।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আজকের স্বর্ণের দাম কত: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনার দাম
- OnePlus Turbo 7 Pro-তে ১৮৫Hz ডিসপ্লে, ১০,০০০mAh ব্যাটারি?
- জমি রেজিস্ট্রির সময় কী কী দেখে স্বাক্ষর করবেন? জেনে নিন
- আজ প্রতি ভরি ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনার দাম কত
- আজকের টাকার রেট কত:বেড়েছে২টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নে কত টাকা লাগে, দেরি হলে কত জরিমানা
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ দিনের ছুটি, তারিখ জেনে নিন