ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ কত বছর? জেনে নিন নিয়ম
বাংলাদেশে নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে চাইলে প্রথমেই জানা দরকার, লাইসেন্সটি কত বছর মেয়াদি এবং আবেদন করতে কী কী যোগ্যতা প্রয়োজন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ ১০ বছর এবং পেশাদার লাইসেন্সের মেয়াদ পাঁচ বছর। তবে লাইসেন্সের ধরন অনুযায়ী বয়স, যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত আলাদা হতে পারে।
নতুন আবেদনকারীদের সাধারণত প্রথমে শিক্ষানবিশ বা লার্নার লাইসেন্স নিতে হয়। এরপর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা যাচাই পরীক্ষার ধাপ সম্পন্ন করে মূল লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হয়। তাই আবেদন করার আগে লাইসেন্সের মেয়াদ, বয়সের শর্ত, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং নবায়নের নিয়ম সম্পর্কে ধারণা রাখা জরুরি।
ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ কত বছর?
বিআরটিএর প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশে অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ ১০ বছর। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মোটরসাইকেল বা মোটরগাড়ি চালানোর জন্য সাধারণত এ ধরনের লাইসেন্স নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, পেশা হিসেবে গাড়ি চালানোর জন্য প্রয়োজন হয় পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স। এ লাইসেন্সের সাধারণ মেয়াদ পাঁচ বছর। তবে কোন শ্রেণির যানবাহন চালানো হবে, তার ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত যোগ্যতা বা শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে।
লাইসেন্স হাতে পাওয়ার পর তাতে উল্লেখ করা মেয়াদ ও শেষ তারিখ দেখে নেওয়া উচিত। কারণ নবায়নের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে লাইসেন্সে থাকা তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে বয়স কত লাগে?
নতুন লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীর ন্যূনতম বয়স নির্ধারিত রয়েছে। বিআরটিএর প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য কমপক্ষে ১৮ বছর এবং পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য কমপক্ষে ২১ বছর বয়স প্রয়োজন।
এ ছাড়া আবেদনকারীকে কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। নিরাপদে গাড়ি চালানোর উপযোগী শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতাও থাকতে হবে।
পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে যানবাহনের শ্রেণি অনুযায়ী অতিরিক্ত বয়স, অভিজ্ঞতা বা অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সের সর্বশেষ যোগ্যতার শর্ত বিআরটিএর সরকারি ওয়েবসাইট থেকে যাচাই করা উচিত।
নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কী কী ধাপ অনুসরণ করবেন?
প্রথমে লার্নার লাইসেন্সের জন্য আবেদন
নতুন আবেদনকারীকে সাধারণত প্রথমে শিক্ষানবিশ বা লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে হয়। বিআরটিএর সার্ভিস পোর্টালে আবেদন করে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য ও নথি জমা দিতে হয়। আবেদন করার সময় নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া জরুরি।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা
আবেদনের সময় পরিচয় ও বয়সের প্রমাণ, শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি, নির্ধারিত চিকিৎসা সনদ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগতে পারে। কোন নথি কীভাবে জমা দিতে হবে, তা আবেদনপদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে।
প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা
লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পর গাড়ি চালানোর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিতে হয়। এরপর বিআরটিএর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। পরীক্ষার সময়সূচি ও পদ্ধতি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারে নির্ধারিত হয়।
মূল লাইসেন্সের জন্য আবেদন
দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে প্রয়োজনীয় নথি ও নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে মূল ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হয়। কর্তৃপক্ষের যাচাই ও অনুমোদন শেষে লাইসেন্স ইস্যুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
আবেদনের নিয়ম, ফি ও প্রয়োজনীয় নথি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে বিআরটিএর সরকারি ওয়েবসাইট অথবা বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল থেকে সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নিন।
ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলে কী করবেন?
লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া ভালো। মেয়াদ শেষ হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নবায়নের আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে লাইসেন্সের তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং নির্ধারিত ফি লাগতে পারে।
পেশাদার লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী দক্ষতা যাচাই বা অতিরিক্ত শর্ত থাকতে পারে। তাই নবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সের জন্য কী কী প্রয়োজন, তা বিআরটিএ থেকে জেনে নেওয়া উচিত।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স দিয়ে জনসাধারণের চলাচলের স্থানে মোটরযান চালানো আইনসম্মত নয়। সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮-এর ৪ ধারা অনুযায়ী, বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া এ ধরনের স্থানে মোটরযান চালানো নিষিদ্ধ। তাই লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে নবায়ন না করা পর্যন্ত গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকা উচিত।
আবেদনকারীরা যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন
ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করার সময় ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে প্রক্রিয়ায় দেরি হতে পারে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে পরিচয়পত্রের সঙ্গে নাম ও জন্মতারিখ মিলিয়ে নিন। প্রয়োজনীয় নথি স্পষ্টভাবে জমা দিন এবং যে শ্রেণির যানবাহন চালাতে চান, তার উপযোগী লাইসেন্সের জন্য আবেদন করুন।
আরও পড়ুন:
এনআইডি ও পাসপোর্টে নামের মিল নেই? কী করবেন জেনে নিন
ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে কী কী কাগজ লাগে?
এ ছাড়া পুরোনো তথ্য দেখে ফি জমা দেওয়া কিংবা অননুমোদিত মধ্যস্থতাকারীর ওপর নির্ভর করাও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আবেদন ও অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে বিআরটিএর সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন এবং জমা দেওয়া আবেদনের রসিদ সংরক্ষণ করুন।
বাংলাদেশে অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ ১০ বছর এবং পেশাদার লাইসেন্সের মেয়াদ পাঁচ বছর। নতুন আবেদনকারীদের প্রথমে লার্নার লাইসেন্স নিতে হয়, এরপর প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা যাচাই পরীক্ষার ধাপ সম্পন্ন করে মূল লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হয়। বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত পূরণের পাশাপাশি লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। আবেদন করার আগে বিআরটিএর সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করলে ভুল তথ্য ও অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
প্রাসঙ্গিক FAQ,
১. বাংলাদেশে অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ কত বছর?
বিআরটিএর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ ১০ বছর।
২. পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স কত বছর মেয়াদি?
পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের সাধারণ মেয়াদ পাঁচ বছর। নবায়নের সময় প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করতে হয়।
৩. নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে ন্যূনতম বয়স কত?
বিআরটিএর প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, অপেশাদার লাইসেন্সের জন্য কমপক্ষে ১৮ বছর এবং পেশাদার লাইসেন্সের জন্য কমপক্ষে ২১ বছর বয়স প্রয়োজন।
৪. ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কি আগে লার্নার লাইসেন্স নিতে হয়?
হ্যাঁ। সাধারণ প্রক্রিয়ায় প্রথমে শিক্ষানবিশ বা লার্নার লাইসেন্স নিতে হয়। এরপর প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা যাচাই পরীক্ষার ধাপ সম্পন্ন করে মূল লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হয়।
৫. মেয়াদোত্তীর্ণ ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে কি গাড়ি চালানো যায়?
না। বৈধ লাইসেন্স ছাড়া জনসাধারণের চলাচলের স্থানে মোটরযান চালানো আইনসম্মত নয়। মেয়াদ শেষ হলে নবায়নের নিয়ম অনুসরণ করুন।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- দলিল রেজিস্ট্রি হয়েছে কি না যাচাই করবেন যেভাবে
- ওয়ানডে দলে ফিরবেন মুশফিক-রিয়াদ? ব্যাটিং কোচ হচ্ছেন ডি ভিলিয়ার্স?
- জমির দাগ, খতিয়ান ও নকশা যাচাইয়ের সহজ নিয়ম
- টেক্সটাইল খাতে সংকট, বন্ধ ১৪ কোম্পানির কারখানা,বিপাকে বিনিয়োগকারীরা
- আজকের টাকার রেট কত: কমেছে ৯টি দেশের টাকার মান
- জমির দলিল হারালে নকল তুলতে কত টাকা খরচ হবে?
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ৬টি দেশের টাকার মান
- আজকের মালয়েশিয়ান রিংগিত রেট কত (২৩ অক্টোবর ২০২৬)