ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

লঁসের মাঠে ৯ গোল, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইতিহাস গড়ল কোমো

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৫ ১০:২০:২১
লঁসের মাঠে ৯ গোল, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইতিহাস গড়ল কোমো

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অভিষেক মৌসুমেই নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিচ্ছে ইতালির কোমো। এবার ফরাসি ক্লাব লঁসের মাঠে গিয়ে এমন এক জয় তুলে নিয়েছে সেস ফাব্রেগাসের দল, যা ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতার ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে। স্বাগতিকদের ৯-১ গোলে হারিয়ে প্রতিপক্ষের মাঠে এক ম্যাচে ৯ গোল করা প্রথম দল হয়েছে কোমো। আট গোলের ব্যবধানে পাওয়া এই জয় আবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে যৌথভাবে সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ডেও জায়গা করে নিয়েছে।

কোমোর এই সাফল্যকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে তাদের অভিষেক মৌসুমের পারফরম্যান্স। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পাশাপাশি ইতালিয়ান লিগেও ভালো ছন্দে রয়েছে দলটি। লঁসের বিপক্ষে বিশাল ব্যবধানের জয়টি চলতি প্রতিযোগিতায় চার ম্যাচে তাদের তৃতীয় জয়। এর ফলে লিগ পর্বের পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে ইতালিয়ান ক্লাবটি।

গোলের বন্যায় পুরোনো রেকর্ড পেছনে ফেলল কোমো

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রতিপক্ষের মাঠে কোনো দলের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এত দিন ছিল বায়ার্ন মিউনিখের। ২০২০ সালে লিসবনের নিরপেক্ষ ভেন্যুতে বার্সেলোনাকে ৮-২ গোলে হারিয়েছিল জার্মান ক্লাবটি। তবে এবার লঁসের মাঠে ৯ বার জাল খুঁজে নিয়ে সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে কোমো।

জয়ের ব্যবধানের হিসাবেও এই ম্যাচটি বিশেষ। ৯-১ গোলের ফলে আট গোলের ব্যবধানে জয় পেয়েছে কোমো। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এর আগে এমন ব্যবধানে জয়ের নজির ছিল লিভারপুল ও রিয়াল মাদ্রিদের। নিজেদের মাঠে বেসিকতাসকে ৮-০ গোলে হারিয়েছিল লিভারপুল, আর মালমোর বিপক্ষে একই ব্যবধানে জয় পেয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। এবার সেই তালিকায় জায়গা করে নিল কোমো।

চার ম্যাচে চারবার গোল, দুভিকাসের সংগ্রহ ছয়

লঁসের বিপক্ষে কোমোর গোল উৎসবে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন তাসোস দুভিকাস। এক ম্যাচেই তিনবার প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এই ফরোয়ার্ড। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোমোর হয়ে এখন পর্যন্ত খেলা চারটি ম্যাচের প্রতিটিতেই গোল করেছেন তিনি।

এই ধারাবাহিকতায় এবারের প্রতিযোগিতায় তার মোট গোল ছয়টি। ফলে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় সবার ওপরে রয়েছেন দুভিকাস।

গোলের পর নিকো পাজের অন্যরকম শ্রদ্ধা

ম্যাচে গোল করলেও নিকো পাজের উদ্‌যাপনের ধরন ছিল অন্যদের চেয়ে আলাদা। আর্জেন্টাইন তরুণ সতীর্থদের সঙ্গে আনন্দে যোগ না দিয়ে হাতে তুলে নেন তেনেরিফের ফরোয়ার্ড হেসুস দে মিগেলের ছবি দেওয়া একটি টি-শার্ট।

দে মিগেল প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকের সঙ্গে মাঠে সংঘর্ষের পর মারা গিয়েছিলেন। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তেনেরিফের যুব দলে খেলেছিলেন পাজ। সেই ক্লাবের সঙ্গে নিজের অতীতের যোগসূত্রের মধ্যে দিয়ে দে মিগেলের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান তিনি।

১৮ বছর বয়সেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গোল পাপাচ্চিওলির

কোমোর বড় জয়ে শুধু অভিজ্ঞ ও পরিচিত ফুটবলাররাই নন, অবদান রেখেছেন তরুণ খেলোয়াড়েরাও। লুকাস দা কুনহা, মার্ক-অলিভার কেম্পফ, মাত্তিয়া লিবেরালি, মার্তিনা বাতুরিনা ও মাত্তেও পাপাচ্চিওলি একটি করে গোল করেছেন।

এই পাঁচ গোলদাতার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন ১৮ বছর বয়সী পাপাচ্চিওলি। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামা এই ফুটবলার কোমোর যুব দলের সদস্য। এখনো ইতালির শীর্ষ লিগ সিরি আ-তে খেলার সুযোগ বা অভিজ্ঞতা হয়নি তার। অথচ ক্যারিয়ারের এই পর্যায়েই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো বড় আসরে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি।

লঁসের বিপক্ষে এই ফল শুধু কোমোর গোল করার সামর্থ্যই তুলে ধরেনি, দলটির তরুণ খেলোয়াড়দের অবদানও সামনে এনেছে। অভিষেক মৌসুমে চার ম্যাচের তিনটিতে জয় এবং লিগ পর্বে চতুর্থ অবস্থান—সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের উপস্থিতি বেশ জোরালোভাবেই জানান দিচ্ছে সেস ফাব্রেগাসের দল।

FAQ

১. কোমো ও লঁসের ম্যাচের ফলাফল কী ছিল?

কোমো ৯-১ গোলে ফরাসি ক্লাব লঁসকে হারিয়েছে।

২. চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোমো কী নতুন রেকর্ড গড়েছে?

প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে প্রতিপক্ষের মাঠে এক ম্যাচে ৯ গোল করা প্রথম দল হয়েছে কোমো।

৩. কোমোর হয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন কে?

তাসোস দুভিকাস। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চার ম্যাচেই গোল করে তার মোট গোলসংখ্যা হয়েছে ছয়।

৪. কোমোর হয়ে ১৮ বছর বয়সে গোল করেছেন কে?

মাত্তেও পাপাচ্চিওলি। তিনি দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমে গোল করেন।

৫. লঁসকে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকায় কত নম্বরে কোমো?

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বের পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠেছে কোমো।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: