ঢাকা, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

এনআইডিতে জন্মতারিখ ভুল? সংশোধনে লাগবে যেসব কাগজ

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৪ ২০:০৬:২৮
এনআইডিতে জন্মতারিখ ভুল? সংশোধনে লাগবে যেসব কাগজ

জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) জন্মতারিখ ভুল থাকলে তা সংশোধনের জন্য শুধু একটি আবেদন করলেই হবে না; সঠিক জন্মতারিখের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণও জমা দিতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা সমমান হলে সংশ্লিষ্ট সনদ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়। পাশাপাশি অনলাইন জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, চাকরির নথি, পারিবারিক তথ্যসহ অন্যান্য দলিলও প্রয়োজন অনুযায়ী চাওয়া হতে পারে। ভুলের ধরন ও বয়সের পার্থক্য অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন অতিরিক্ত কাগজপত্র, শুনানি কিংবা তদন্তের ব্যবস্থা করতে পারে।

জন্মতারিখ এনআইডির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হওয়ায় এ ধরনের সংশোধন সাধারণ বানান সংশোধনের মতো নয়। বিশেষ করে শিক্ষাগত সনদ, জন্মনিবন্ধন ও অন্যান্য সরকারি নথিতে আলাদা আলাদা তারিখ থাকলে আবেদন করার আগে সেগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য আছে কি না যাচাই করা জরুরি। নির্বাচন কমিশনের নিয়মে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির পদ্ধতিতেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তন এসেছে।

জন্মতারিখ সংশোধনে যেসব কাগজপত্র লাগতে পারে

কোনো একটি নির্দিষ্ট তালিকার সব কাগজ প্রত্যেক আবেদনকারীর জন্য বাধ্যতামূলক নয়। আবেদনকারীর বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, পারিবারিক অবস্থা এবং সংশোধনের পরিমাণ অনুযায়ী প্রমাণপত্র চাওয়া হয়। সাধারণভাবে নিচের নথিগুলো প্রস্তুত রাখা যেতে পারে।

১. শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ

আবেদনকারীর এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার সনদ থাকলে সেটি জন্মতারিখের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়। নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সংশোধনসংক্রান্ত নির্দেশনায় শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তার বেশি হলে সংশ্লিষ্ট সনদকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রয়োজনে নিচের নথিগুলো জমা দিতে হতে পারে—

এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার সনদ;

জেএসসি বা পিইসি পরীক্ষার সনদ, যদি প্রযোজ্য হয়;

পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কার্ড;

প্রবেশপত্র বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রমাণপত্র।

অনলাইনে যাচাই করা যায়—এমন জেএসসি, এসএসসি বা সমমানের সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও ক্ষমতা দিয়েছে।

২. অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ

জন্মতারিখ প্রমাণের জন্য অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক দলিল। এতে উল্লেখ করা জন্মতারিখ এনআইডিতে থাকা তারিখের সঙ্গে না মিললে কেন অমিল হয়েছে, তা আবেদনে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে।

জন্মনিবন্ধনের তথ্যও ভুল থাকলে আগে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ে সেটি যাচাই ও প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন করা উচিত। ভুল তথ্যের একাধিক সরকারি নথি জমা দিলে আবেদন যাচাইয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

৩. পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স

এনআইডি ইস্যুর আগেই তৈরি করা পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স জন্মতারিখের পক্ষে সহায়ক প্রমাণ হতে পারে। এসব নথিতে থাকা তথ্যের সঙ্গে অন্য দলিলের সামঞ্জস্যও যাচাই করা হতে পারে।

তাই আবেদনকারীর কাছে পুরোনো পাসপোর্ট বা বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলে তার কপি প্রস্তুত রাখা ভালো।

৪. চাকরিজীবীদের জন্য চাকরিসংক্রান্ত নথি

চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে জন্মতারিখ প্রমাণে চাকরির রেকর্ডও প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য নিচের নথিগুলো প্রাসঙ্গিক—

সার্ভিস বুক বা চাকরির বিবরণী;

এমপিও সংক্রান্ত কাগজপত্র, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে;

প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র;

নিয়োগকারী বা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র;

প্রয়োজন অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুপারিশ।

চাকরির নথিতে জন্মতারিখ কীভাবে উল্লেখ আছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অন্য সরকারি নথির সঙ্গে অমিল থাকলে তার ব্যাখ্যা দিতে হতে পারে।

৫. পিতা-মাতা ও ভাই-বোনের পরিচয়সংক্রান্ত নথি

জন্মতারিখের বিষয়ে সন্দেহ বা পারিবারিক তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশন পিতা-মাতা ও ভাই-বোনের পরিচয়সংক্রান্ত দলিল চাইতে পারে।

এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্তুত রাখতে পারেন—

পিতা ও মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি;

তাঁদের জন্মনিবন্ধন বা পাসপোর্ট;

ভাই-বোনের জাতীয় পরিচয়পত্র;

ভাই-বোনের জন্মনিবন্ধন বা শিক্ষাগত সনদ;

পরিবারের সদস্যদের জন্মক্রম উল্লেখ করা ওয়ারিশ বা পারিবারিক সনদ।

পারিবারিক সনদে সদস্যদের নাম, জন্মক্রম, বয়স এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এনআইডি নম্বর উল্লেখ থাকা প্রয়োজন হতে পারে।

৬. বিবাহিত হলে কাবিননামা ও স্বামী-স্ত্রীর নথি

আবেদনকারী বিবাহিত হলে বয়স ও পারিবারিক তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনে রেজিস্টার্ড কাজি কর্তৃক দেওয়া কাবিননামা বা বিবাহের সনদ চাওয়া হতে পারে। পাশাপাশি স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি, জন্মনিবন্ধন কিংবা পাসপোর্টের কপিও প্রয়োজন হতে পারে।

সন্তান থাকলে সন্তানের জন্মনিবন্ধন বা শিক্ষাগত সনদও পারিবারিক তথ্য যাচাইয়ের সহায়ক দলিল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

৭. বয়স নির্ধারণের মেডিকেল প্রতিবেদন

কিছু ক্ষেত্রে জমা দেওয়া কাগজপত্র দিয়ে প্রকৃত বয়স নিশ্চিত করা কঠিন হলে সিভিল সার্জন কর্তৃক বয়স নির্ধারণের রেডিওলজিক্যাল টেস্ট রিপোর্ট চাওয়া হতে পারে। এটি প্রত্যেক আবেদনকারীর জন্য বাধ্যতামূলক নয়; প্রয়োজন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন এমন প্রতিবেদন চাইতে পারে।

৮. পেনশনভোগী ও মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নথি

পেনশনভোগী বা অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পেনশন বইয়ের সত্যায়িত কপি, অবসরসংক্রান্ত নথি কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন প্রয়োজন হতে পারে।

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় বা সংশ্লিষ্ট সুবিধার তথ্য জন্মতারিখ যাচাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত হলে মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও প্রাসঙ্গিক ভাতার কাগজপত্রও চাওয়া হতে পারে।

এসএসসি সনদ না থাকলে কী করবেন?

সবার শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পর্যন্ত নয়। কারও এসএসসি সনদ না থাকলে শুধু এ কারণে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন করা যাবে না—এমন নয়। তবে সঠিক জন্মতারিখ প্রমাণের জন্য বিকল্প গ্রহণযোগ্য দলিল জমা দিতে হবে।

এ ক্ষেত্রে অনলাইন জন্মনিবন্ধন, এনআইডি ইস্যুর আগের পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, চাকরির সার্ভিস বুক, এমপিও সংক্রান্ত নথি, নিকাহনামা এবং পারিবারিক তথ্যের মতো প্রমাণ প্রয়োজন অনুযায়ী বিবেচিত হতে পারে।

কোন দলিল গ্রহণযোগ্য হবে, তা আবেদনকারীর পরিস্থিতি ও নির্বাচন কমিশনের যাচাইয়ের ওপর নির্ভর করবে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে নিজের কাগজপত্র দেখিয়ে নেওয়া ভালো।

এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন করবেন যেভাবে

জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের অনলাইন এনআইডি সেবা ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিস থেকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাওয়া যাবে।

আবেদনের সাধারণ ধাপগুলো হলো—

১. প্রথমে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টালে প্রবেশ করুন: services.nidw.gov.bd।

২. নিজের অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। অ্যাকাউন্ট না থাকলে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করুন।

৩. ব্যক্তিগত তথ্যের অংশে গিয়ে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন নির্বাচন করুন।

৪. সঠিক জন্মতারিখ উল্লেখ করে সংশোধনের কারণ লিখুন।

৫. প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রের স্ক্যান কপি বা ছবি নির্ধারিত নিয়মে আপলোড করুন।

৬. আবেদন জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য ও সংযুক্ত নথি ভালোভাবে যাচাই করুন।

৭. নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধ করে আবেদন সম্পন্ন করুন এবং আবেদনসংক্রান্ত প্রাপ্তিস্বীকার বা ট্র্যাকিং তথ্য সংরক্ষণ করুন।

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে মূল কাগজপত্রসহ উপস্থিত হতে হতে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার পর অনলাইনে বা সংশ্লিষ্ট অফিসের মাধ্যমে অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ রাখা উচিত।

জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন কে নিষ্পত্তি করেন?

জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে কোন কর্মকর্তা আবেদন নিষ্পত্তি করবেন, তা জমা দেওয়া প্রমাণপত্র ও সংশোধনের ধরনের ওপর নির্ভর করে।

নির্বাচন কমিশনের ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখের নির্দেশনা অনুযায়ী, অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি, এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের কিছু আবেদন ‘ক’ ক্যাটাগরিতে মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিষ্পত্তি করতে পারবেন। এর মধ্যে উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা, সিনিয়র জেলা বা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং এনআইডি উইংয়ের নির্দিষ্ট পর্যায়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন।

তবে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধন এবং জন্মতারিখের সঙ্গে নিজের নাম ও পিতা-মাতার নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তনের আবেদন মহাপরিচালক পর্যায়ে নিষ্পত্তি করতে হবে।

অর্থাৎ, সব ধরনের জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন একই কর্মকর্তার কাছে যায় না। আবেদনকারীর প্রমাণপত্র ও সংশোধনের ধরন অনুযায়ী প্রক্রিয়া নির্ধারিত হয়।

জন্মতারিখ একবার সংশোধনের পর আবার পরিবর্তন করা যাবে?

জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন কঠোর নিয়ম অনুসরণ করে। ২০২৬ সালের নির্দেশনায় জন্মতারিখ, নিজের নাম এবং পিতা-মাতার নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একই তথ্যের দ্বিতীয়বার সংশোধনের ওপর নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে।

তাই প্রথমবার আবেদন করার সময়ই প্রকৃত জন্মতারিখের পক্ষে সব গ্রহণযোগ্য প্রমাণ জমা দেওয়া জরুরি। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে আবেদন করলে পরবর্তী সময়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

আবেদন করার আগে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন

জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন দ্রুত ও সঠিকভাবে যাচাইয়ের জন্য কয়েকটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন—

জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ ও পাসপোর্টে জন্মতারিখ মিলিয়ে দেখুন।

সংশোধনের কারণ স্পষ্টভাবে লিখুন।

মূল কাগজপত্র ও পরিষ্কার কপি প্রস্তুত রাখুন।

অনলাইনে আপলোড করা নথির লেখা যেন স্পষ্ট দেখা যায়।

কোনো তথ্য গোপন বা জাল কাগজপত্র জমা দেবেন না।

আবেদন জমার পর রসিদ ও ট্র্যাকিং তথ্য সংরক্ষণ করুন।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে শুনানি বা তদন্ত হলে সহযোগিতা করুন।

জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মতারিখ ভুল থাকলে সংশোধনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক জন্মতারিখের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দেখানো। এসএসসি বা সমমানের সনদ থাকলে সেটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। পাশাপাশি অনলাইন জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, চাকরির নথি ও পারিবারিক দলিল প্রয়োজন অনুযায়ী জমা দিতে হতে পারে।

তবে সবার জন্য একই কাগজপত্রের তালিকা প্রযোজ্য নয়। বয়সের পার্থক্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সংশোধনের ধরন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন অতিরিক্ত নথি চাইতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

FAQ

১. এনআইডিতে জন্মতারিখ সংশোধন করতে প্রধানত কোন কাগজ লাগে?

এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত সনদ থাকলে সেটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। পাশাপাশি অনলাইন জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নথি প্রয়োজন অনুযায়ী জমা দিতে হতে পারে।

২. এসএসসি সনদ না থাকলে কি এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধন করা যাবে?

হ্যাঁ, আবেদন করা যায়। তবে জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, চাকরির নথি বা অন্যান্য গ্রহণযোগ্য দলিল দিয়ে সঠিক জন্মতারিখ প্রমাণ করতে হবে।

৩. এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধনে কি মেডিকেল রিপোর্ট লাগে?

সব ক্ষেত্রে নয়। বয়স যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজন মনে করলে নির্বাচন কমিশন সিভিল সার্জন কর্তৃক বয়স নির্ধারণের রেডিওলজিক্যাল টেস্ট রিপোর্ট চাইতে পারে।

৪. অনলাইনে কি এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন করা যায়?

হ্যাঁ। নির্বাচন কমিশনের services.nidw.gov.bd পোর্টালে অ্যাকাউন্টে লগইন করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণপত্র দিয়ে আবেদন করা যায়।

৫. এনআইডির জন্মতারিখ কি দ্বিতীয়বার সংশোধন করা যায়?

নির্বাচন কমিশনের ২০২৬ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী, জন্মতারিখের সম্পূর্ণ পরিবর্তন একবার করা হলে একই তথ্যের দ্বিতীয়বার সংশোধন করা যাবে না। তাই প্রথম আবেদনেই সঠিক প্রমাণপত্র দেওয়া জরুরি।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: