ঢাকা, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

জমির মালিক কে, দাগ নম্বর দিয়ে অনলাইনে জানবেন যেভাবে

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৬ ১৩:৪৭:০৯
জমির মালিক কে, দাগ নম্বর দিয়ে অনলাইনে জানবেন যেভাবে

জমি কেনা, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তির তথ্য যাচাই কিংবা কোনো জমির মালিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে দাগ নম্বর গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য। এই নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনেই সংশ্লিষ্ট জমির খতিয়ান খুঁজে বের করা এবং সেখানে রেকর্ডভুক্ত মালিকের নাম দেখা সম্ভব। এ জন্য ভূমি অফিসে যাওয়ার আগে ঘরে বসেই ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইটে অনুসন্ধান করতে পারেন।

তবে অনুসন্ধানের সময় শুধু দাগ নম্বর লিখলেই ফল পাওয়া যাবে না। জমিটি কোন জেলা, উপজেলা ও মৌজায় অবস্থিত, সেই সঙ্গে কোন জরিপের অধীনে রেকর্ড করা হয়েছে—এসব তথ্য সঠিকভাবে নির্বাচন করতে হবে। কারণ একই এলাকায় পুরোনো ও নতুন জরিপে দাগ নম্বর আলাদা হতে পারে। তাই অনলাইনে পাওয়া তথ্য যাচাই করে তবেই জমি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

দাগ নম্বর দিয়ে জমির মালিকের নাম জানার সরকারি ওয়েবসাইট

জমির খতিয়ান অনুসন্ধানের জন্য ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যায়। এ সেবার মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকার খতিয়ান খুঁজে মালিকের নাম, দাগ নম্বরসহ রেকর্ডে থাকা বিভিন্ন তথ্য দেখা সম্ভব।

অনুসন্ধানের জন্য ওয়েবসাইটের ঠিকানা:

https://settlement.gov.bd/Khatian/

এখানে বিভাগ, জেলা, জরিপ, উপজেলা বা থানা এবং মৌজা নির্বাচন করার ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান দাগ, সাবেক দাগ ও সিএস দাগ নম্বর দিয়ে অনুসন্ধানের ঘরও রয়েছে।

দাগ নম্বর দিয়ে মালিকের নাম বের করার নিয়ম

অনলাইনে জমির রেকর্ড খুঁজতে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে।

প্রথম ধাপ: সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন

প্রথমে মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারের ব্রাউজার থেকে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের খতিয়ান অনুসন্ধান পেজে প্রবেশ করুন। ঠিকানা হলো settlement.gov.bd/Khatian।

দ্বিতীয় ধাপ: জমির অবস্থান নির্বাচন করুন

ওয়েবসাইটে প্রবেশের পর জমিটি যে এলাকায় অবস্থিত, সে অনুযায়ী বিভাগ, জেলা, উপজেলা বা থানা নির্বাচন করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট মৌজা বেছে নিন।

মৌজার নাম সঠিকভাবে নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই জেলার বিভিন্ন এলাকায় একই নামের মৌজা থাকতে পারে। তাই জমির দলিল, পুরোনো খতিয়ান বা অন্যান্য কাগজপত্র দেখে মৌজার তথ্য মিলিয়ে নেওয়া ভালো।

তৃতীয় ধাপ: জরিপের ধরন নির্বাচন করুন

এরপর জমিটি কোন জরিপের আওতায় রেকর্ড করা হয়েছে, সেটি নির্বাচন করতে হবে। জমির অবস্থান ও রেকর্ডের সময় অনুযায়ী সিএস, এসএ, আরএস, বিএস বা সংশ্লিষ্ট অন্য জরিপের তথ্য প্রযোজ্য হতে পারে।

পুরোনো দলিলে থাকা দাগ নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করলে সেই দাগ কোন জরিপের, তা আগে নিশ্চিত হওয়া দরকার। ভুল জরিপ নির্বাচন করলে সঠিক তথ্য না-ও পাওয়া যেতে পারে।

চতুর্থ ধাপ: দাগ নম্বর লিখে অনুসন্ধান করুন

এ পর্যায়ে অনুসন্ধান ফরমে দাগ নম্বর দিতে হবে। সরকারি পোর্টালে বর্তমান দাগ, সাবেক দাগ এবং সিএস দাগের জন্য আলাদা ঘর রয়েছে। আপনার কাছে যে জরিপের দাগ নম্বর আছে, সেটি সংশ্লিষ্ট ঘরে লিখুন।

এরপর অনুসন্ধান করুন। তথ্য মিলে গেলে সংশ্লিষ্ট খতিয়ানের তালিকা দেখা যাবে।

পঞ্চম ধাপ: খতিয়ান থেকে মালিকের নাম যাচাই করুন

অনুসন্ধানের ফলাফলে পাওয়া খতিয়ানের নম্বর, দাগ নম্বর ও মালিকের নাম মিলিয়ে দেখুন। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট খতিয়ান খুলে জমির পরিমাণ, মালিকের অংশ এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করুন।

একই দাগের সঙ্গে একাধিক খতিয়ান বা একাধিক মালিকের তথ্য যুক্ত থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে শুধু একটি নাম দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে পুরো রেকর্ড পরীক্ষা করা উচিত।

দাগ নম্বর দিয়ে জমি খুঁজতে কী কী তথ্য প্রয়োজন?

অনুসন্ধান সহজ করতে আগে থেকেই কয়েকটি তথ্য সংগ্রহ করে রাখা ভালো।

জমির বিভাগ ও জেলার নাম

উপজেলা বা থানার নাম

মৌজার নাম অথবা জে এল নম্বর

জমিটি কোন জরিপের অধীনে রেকর্ড হয়েছে

বর্তমান, সাবেক অথবা সিএস দাগ নম্বর

সব তথ্য জানা না থাকলেও অনুসন্ধান শুরু করা যায়। তবে জমির অবস্থান ও জরিপের ধরন যত নির্ভুলভাবে নির্বাচন করা যাবে, কাঙ্ক্ষিত খতিয়ান খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা তত বাড়বে।

অনলাইনে দাগ নম্বর দিয়ে তথ্য না পেলে কী করবেন?

দাগ নম্বর লিখেও যদি কোনো খতিয়ান না পাওয়া যায়, তাহলে প্রথমেই তথ্যগুলো আবার যাচাই করুন। বিশেষ করে মৌজার নাম, জরিপের ধরন এবং দাগ নম্বর ঠিক আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে হবে।

অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো জরিপের দাগ নম্বর পরবর্তী জরিপে পরিবর্তিত বা পুনর্বিন্যস্ত হতে পারে। সে কারণে বর্তমান দাগ দিয়ে খুঁজে না পেলে সাবেক দাগ বা সিএস দাগের ঘরে নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করে দেখতে পারেন।

এরপরও তথ্য না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস বা ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা যেতে পারে। প্রয়োজনে পুরোনো খতিয়ান, দলিল বা জমির অন্যান্য কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে।

খতিয়ানে নাম থাকলেই কি বর্তমান মালিকানা নিশ্চিত হয়?

এখানেই সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। অনলাইনে খতিয়ানে কোনো ব্যক্তির নাম পাওয়া মানেই তিনি বর্তমানে জমিটির একমাত্র মালিক—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

খতিয়ান মূলত নির্দিষ্ট জরিপ বা হালনাগাদ রেকর্ডে জমির মালিক হিসেবে কার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, সেই তথ্য তুলে ধরে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে জমি বিক্রি, হেবা, উত্তরাধিকার, বণ্টন বা অন্য কোনো কারণে মালিকানা পরিবর্তিত হতে পারে। সেই পরিবর্তন অনুযায়ী নামজারি বা রেকর্ড হালনাগাদ হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা দরকার।

জমি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে থাকা দলিল, পূর্ববর্তী মালিকানার ধারাবাহিকতা, নামজারি খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন করের তথ্য এবং জমির দখলসংক্রান্ত বিষয় যাচাই করা উচিত। কোনো বিরোধ বা অসামঞ্জস্য থাকলে আইনজীবী কিংবা সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।

অনলাইনে খতিয়ান দেখা ও সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ এক নয়

সরকারি ওয়েবসাইটে অনুসন্ধান করে খতিয়ানের তথ্য দেখা এবং আইনগত বা দাপ্তরিক কাজে ব্যবহারের জন্য সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ আলাদা বিষয়। প্রয়োজন হলে সরকারি পোর্টালের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় খতিয়ানের কপির জন্য আবেদন করতে হবে।

আরও পড়ুন:

একই জমির দাগ নম্বর দুই কাগজে আলাদা, কোনটি ঠিক?

ওয়ারিশ সনদ দিয়ে জমি নামজারি করার নিয়ম, জানুন বিস্তারিত

জমির মালিকের নাম দিয়ে খতিয়ান খুঁজবেন যেভাবে

অতএব, দাগ নম্বর দিয়ে জমির রেকর্ডভুক্ত মালিকের নাম জানা এখন অনলাইনেই সম্ভব। তবে জমি কেনাবেচা বা মালিকানা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে খতিয়ানের পাশাপাশি দলিল ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. দাগ নম্বর দিয়ে কি অনলাইনে জমির মালিকের নাম জানা যায়?

হ্যাঁ। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট এলাকার তথ্য নির্বাচন করে দাগ নম্বর দিয়ে খতিয়ান অনুসন্ধান করা যায়। পাওয়া খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত মালিকের নাম দেখা সম্ভব।

২. শুধু দাগ নম্বর জানলেই কি জমির মালিক খুঁজে পাওয়া যাবে?

না। দাগ নম্বরের পাশাপাশি জমির জেলা, উপজেলা, মৌজা এবং সংশ্লিষ্ট জরিপের ধরন জানা প্রয়োজন। এসব তথ্য ভুল হলে সঠিক খতিয়ান পাওয়া কঠিন হতে পারে।

৩. পুরোনো দাগ নম্বর দিয়ে কি জমির তথ্য পাওয়া সম্ভব?

হ্যাঁ। সরকারি খতিয়ান অনুসন্ধান পোর্টালে সাবেক দাগ ও সিএস দাগ নম্বর দেওয়ার আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সঠিক মৌজা ও জরিপ নির্বাচন করতে হবে।

৪. অনলাইনে পাওয়া খতিয়ানের নামই কি জমির বর্তমান মালিকের নাম?

সব সময় নয়। খতিয়ানে জরিপ বা রেকর্ডের সময়কার মালিকের তথ্য থাকতে পারে। পরে জমি হস্তান্তর বা উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা পরিবর্তিত হলে তা আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।

৫. অনলাইনে খতিয়ান না পাওয়া গেলে কোথায় যোগাযোগ করব?

প্রথমে মৌজা, জরিপ ও দাগ নম্বর আবার যাচাই করুন। এরপরও তথ্য না পেলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিস বা ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ