কৃষি পণ্যের যাকাত: কখন, কতটুকু এবং এর ইসলামী বিধান
ইসলামে যাকাত একটি ফরয ইবাদত যা শুধু স্বর্ণ, রৌপ্য বা ব্যবসায়িক পণ্যের ওপরই নয়, বরং জমিতে উৎপাদিত ফসলের ওপরও প্রযোজ্য। ভিডিওতে বক্তা এই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতটির প্রতি সাধারণ মানুষের অবহেলা এবং জ্ঞানের ঘাটতির কথা তুলে ধরেছেন, বিশেষ করে কৃষি সম্পদের যাকাত বা "উশর" (Oshor) সম্পর্কে। অতীতে সুলতানি আমলে উশর আদায়ের প্রচলন থাকলেও, ব্রিটিশ শাসনকালে তা ব্যাহত হয় এবং বর্তমানে এ বিষয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বাক্বারাহ (২:২৬৭) এবং সূরা আল-আন'আম (৬:১৪১) আয়াতে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, হালাল উপার্জনের পাশাপাশি জমি থেকে যা উৎপাদিত হয়, তা থেকেও যাকাত আদায় করতে হবে।
ফসলের যাকাতের (উশর) গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ও নিসাব (ন্যূনতম সীমা):
কৃষি পণ্যের ওপর যাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়, যার মধ্যে নিসাব বা ন্যূনতম পরিমাণ অন্যতম।
১. ফসলের পরিমাণ:
যাকাত দিতে হবে যদি ফসলের পরিমাণ নিসাব পরিমাণ হয়।
নিসাব (ন্যূনতম সীমা): শরীয়তের বিধান অনুযায়ী, ফসলের নিসাব হলো ৫ ওয়াসাক (Five Wasak)।
স্থানীয় পরিমাপে নিসাব: এক ওয়াসাক (Wasak) সমান ৬০ সা’ (Sa’a)। সা' (Sa'a) এর পরিমাপ নিয়ে আলেমদের মধ্যে কিছুটা মতভেদ থাকলেও, হানাফী মাযহাবের মতে (যা বক্তা উল্লেখ করেছেন) ইরাকের সা’ অনুযায়ী ৫ ওয়াসাক বা নিসাব পরিমাণের ফসলের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৫ মণ।
সিদ্ধান্ত: যদি আপনার উৎপাদিত ফসলের পরিমাণ ২৫ মণ বা তার বেশি হয়, তবেই সেই ফসলের ওপর যাকাত (উশর) দেওয়া ফরয হবে।
২. ফসলের প্রকারভেদ:
যেসব ফসল গুদামজাত করা যায়, অর্থাৎ সহজে পচনশীল নয় এবং দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় (যেমন ধান, গম, ভুট্টা, ডাল ইত্যাদি), সেগুলোর ওপর যাকাত দিতে হয়।
পচনশীল খাদ্যদ্রব্য, যেমন শাক-সবজি, কলা, পেঁপে, আম ইত্যাদি, যা দ্রুত পচে যায়, সেগুলোর ওপর উশর প্রযোজ্য নয়, তবে যদি কেউ এগুলো ব্যবসার উদ্দেশ্যে চাষ করে, তবে তার ওপর ব্যবসায়িক পণ্যের যাকাতের নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
৩. সময়সীমা:
সম্পদের যাকাতের মতো ফসলের যাকাতের ক্ষেত্রে এক বছর পূর্ণ হওয়ার শর্ত নেই। আল্লাহ্ তা'আলা সূরা আল-আন'আমের ১৪১ নম্বর আয়াতে বলেছেন, "তোমরা যেদিন ফসল কাটবে, সেদিন তার হক আদায় করে দাও (অর্থাৎ যাকাত দিয়ে দাও)।" তাই ফসল কেটে ঘরে তোলার দিনই যাকাত দিতে হবে।
যাকাত আদায়ের হার (Oshor ও Nisf Oshor):
কৃষি পণ্যের যাকাত আদায়ের হার নির্ভর করে চাষাবাদে সেচ এবং খরচের ওপর। এখানে দুটি প্রধান নিয়ম রয়েছে:
১. উশর (Oshor) - ১০%:
যদি কোনো জমিতে চাষাবাদে সেচের জন্য বা অন্য কোনো কারণে খরচ করতে না হয় (যেমন বৃষ্টির পানি বা নদীর পানি দ্বারা চাষ হয়), তবে সেই ফসলের ওপর ১০% যাকাত দিতে হবে। (বক্তা এটিকে 'কস্ট-ফ্রি কালটিভেশন' হিসেবে উল্লেখ করেছেন)।
২. নিসফে উশর (Nisf Oshor) - ৫%:
যদি কোনো জমিতে চাষাবাদে খরচ করতে হয় (যেমন সেচের পানি কিনে আনা, শ্রমিক খাটানো, সার ব্যবহার করা ইত্যাদি), তবে সেই ফসলের ওপর ৫% যাকাত দিতে হবে। (বক্তা এটিকে 'কস্ট-বেইজড কালটিভেশন' হিসেবে উল্লেখ করেছেন)।
৩. মাঝামাঝি হার - ৭.৫%:
যদি কোনো চাষাবাদে প্রাকৃতিক (বৃষ্টির পানি) এবং কৃত্রিম (সেচের পানি) উভয় পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, অর্থাৎ কিছু খরচ লাগে আবার কিছু খরচ লাগে না, তখন মাঝামাঝি হার হিসেবে ৭.৫% যাকাত দিতে হবে।
সারসংক্ষেপ ও বিবেচ্য বিষয়:
ফসলের যাকাত ফরয হওয়ার জন্য ন্যূনতম পরিমাণ ২৫ মণ হতে হবে এবং তা অবশ্যই গুদামজাত করার উপযোগী ফসল হতে হবে।
যাকাত দিতে হবে ফসল ঘরে তোলার দিনই, এক বছর অপেক্ষার প্রয়োজন নেই।
ইসলামের যাকাত ব্যবস্থায় আল্লাহর রহমতের সামঞ্জস্য রয়েছে: যে চাষে কষ্ট কম, সেখানে যাকাতের হার বেশি (১০%); আর যেখানে কষ্ট ও খরচ বেশি, সেখানে হার কম (৫%), যা ইসলামী অর্থনীতির ভারসাম্যতাকে প্রমাণ করে।
কৃষক ভাই-বোনদেরকে এই বিধানগুলো মেনে চলে কৃষি সম্পদের যাকাত সঠিকভাবে আদায়ের মাধ্যমে তাদের ওপর অর্পিত ফরয ইবাদতটি পালনের জন্য বক্তা আহ্বান জানিয়েছেন।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ডিএসইতে একসঙ্গে ৭ অনুমোদিত প্রতিনিধি প্রত্যাহার
- মেঘনা কনডেন্সডের শেয়ার নিয়ে ডিএসইর ‘বাই-ইন’ ঘোষণা
- মাত্র ১ পয়সা ডিভিডেন্ড, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ
- তাপস পালের নেতৃত্বে মার্কেন্টাইল ব্যাংকে ১২০০ কোটি টাকা আত্মসাত
- বিনা সুদে ১০ হাজার টাকা ঋণ! কারা পাবেন, কীভাবে নিতে হবে
- বদলে গেল পরিস্থিতি, বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ব্যবস্থা ভারতে
- দেশের বাজারে আজকের সোনার দাম
- আপনার মাথায় কত টাকার সরকারি ঋণ? সংসদে মিলল সুনির্দিষ্ট হিসাব
- মূল আমানত ফেরত দেবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক, জেনে নিন নিয়ম
- আবারও বাড়ল সোনার দাম, আজকের বাজারদর জেনে নিন
- তাপমাত্রা নিয়ে যা বলছে আবহাওয়া অফিস
- গোসল ফরজ হলে দুধ পান করানো নিয়ে ইসলামের বিধান
- সোনা ও রুপার গহনার নতুন দাম নির্ধারণ