Md Razib Ali
Senior Reporter
পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও কি অলস লাগে? শরীরে এই ৫ সমস্যা নেই তো?
ঘড়ির কাঁটায় ঠিক আট ঘণ্টা পার হয়েছে, অ্যালার্মের শব্দে চোখও খুলেছে—অথচ শরীর যেন বিছানা ছাড়তেই চাইছে না। মন ভারি, হাত-পায়ে ক্লান্তি আর সারাদিনের জন্য শক্তির অভাব। অনেকেরই প্রতিদিনের চিত্র এটি। পর্যাপ্ত সময় বিছানায় কাটানোর পরেও কেন সকালে সতেজ অনুভূত হয় না? চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির কারণ কেবল ঘুমের অভাব নয়, বরং এটি শরীরের ভেতরকার কোনো সমস্যার সংকেত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম আদর্শ। কিন্তু অনেক সময় এই সময়সীমা মেনে চলার পরেও শরীর পুনরুজ্জীবিত হতে পারে না। গবেষকরা বলছেন, ঘুমের পরিমাণের চেয়েও অনেক সময় ঘুমের মান (Quality) এবং শারীরিক সুস্থতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।
কেন দীর্ঘ ঘুমের পরও ক্লান্তি পিছু ছাড়ে না? চলুন দেখে নেওয়া যাক এর মূল কারণগুলো:
১. থাইরয়েড ও হরমোনের জটিলতা
আমাদের ঘাড়ের কাছে অবস্থিত প্রজাপতি আকৃতির থাইরয়েড গ্রন্থিটি শরীরের ‘পাওয়ার হাউজ’ হিসেবে পরিচিত। এটি শরীরের শক্তি ব্যবহারের প্রক্রিয়া বা বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে। হাইপোথাইরয়েডিজম বা থাইরয়েডের অকার্যকারিতা দেখা দিলে মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়। মার্কিন প্রতিষ্ঠান NIDDK-এর গবেষণা অনুযায়ী, থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতা শরীরকে অস্বাভাবিকভাবে ক্লান্ত করে তোলে, যা দীর্ঘ সময় ঘুমালেও দূর হয় না।
২. ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের ঘাটতি
শরীর খাবার থেকে শক্তি উৎপাদন করবে কি না, তা নির্ভর করে নির্দিষ্ট কিছু পুষ্টি উপাদানের ওপর। রক্তে আয়রন, ভিটামিন ডি কিংবা ভিটামিন বি-১২ এর মাত্রা কমে গেলে টিস্যুগুলোতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না। ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সারারাত বিশ্রামের পরেও অবসাদগ্রস্ত লাগে।
৩. শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা বা স্লিপ অ্যাপনিয়া
অনেকেই ঘুমের মধ্যে নিজের অজান্তেই শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যায় ভোগেন, যাকে ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ বলা হয়। এতে ঘুমের মাঝে বারবার শ্বাস থেমে যায় এবং মস্তিষ্ক সজাগ হয়ে ওঠে। যদিও এটি মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য হয়, কিন্তু এর ফলে শরীর ‘ডিপ স্লিপ’ বা গভীর ঘুমে পৌঁছাতে পারে না। ফলস্বরূপ, পর্যাপ্ত সময় ঘুমানোর পরেও সকালে শরীর সতেজ লাগে না।
৪. মানসিক চাপ ও কর্টিসোলের প্রভাব
শরীর যখন বিছানায় বিশ্রাম নেয়, মন তখনো উদ্বেগের সাগরে ডুব দিয়ে থাকতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের কারণে শরীরে স্ট্রেস হরমোন ‘কর্টিসোল’ এর মাত্রা বেড়ে যায়। এতে মস্তিষ্ক ঘুমের মধ্যেও অতি-সতর্ক অবস্থায় থাকে। এই খণ্ডিত ও হালকা ঘুমের কারণে শরীর শারীরিকভাবে বিশ্রাম পেলেও মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি পায় না।
৫. রক্তে শর্করার ভারসাম্যহীনতা
খাদ্যাভ্যাস এবং রক্তে শর্করার মাত্রার ওঠা-নামাও সকালের এনার্জি লেভেলের ওপর প্রভাব ফেলে। যদি রক্তে শর্করার সঠিক ভারসাম্য না থাকে, তবে তা শরীরকে নিস্তেজ করে দেয়।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
চিকিৎসকরা মনে করেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্লান্তির মূল কারণটি শোবার ঘরের পরিবেশের চেয়ে শরীরের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার সাথে বেশি জড়িত। যদি নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও আপনি ক্লান্ত বোধ করেন, তবে বিষয়টিকে কেবল অলসতা হিসেবে না দেখে শারীরিক চেকআপ করা জরুরি।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- মুনাফায় শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি, দ্বিতীয় প্রান্তিকে দুই কোম্পানির ইপিএস
- সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য সুখবর, ডিএসই আনল নতুন সুবিধা
- কেয়া কসমেটিকস কাণ্ডে নতুন মোড়, ব্যাংকিং অনিয়ম নাকি জালিয়াতি?
- ব্যাংক-বিমা খাতে সুখবর, তিন প্রতিষ্ঠানের মুনাফায় বড় উল্লম্ফন
- SSC Result 2026: এক ক্লিকেই যেভাবে দেখবেন রেজাল্ট
- শেয়ারবাজারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত! বিএসইসির কাছে ১১ দফা দাবি
- সৌদিতে এই ৬ ভুলে হতে পারে জেল-জরিমানা, সাবধান!
- এসএসসি ফল ২০২৬: অনলাইনে ও মোবাইলে দ্রুত ফল জানার উপায়
- আজকের মুদ্রা বিনিময় হার (২৮ জুলাই ২০২৬): সকল দেশের রেট
- বড় ধাক্কা সান্তোসে! নিষিদ্ধ হলেন নেইমার
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে নতুন জল্পনা, সম্ভাব্যদের তালিকায় ড. ইউনূস
- এবার বাংলাদেশের যে দুই দেশের দরজা বন্ধ হলো
- বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বের নতুন বার্তা
- ২৭ জুলাই আজ থেকে কার্যকর নতুন স্বর্ণের দাম
- সৌরজগতের কাছেই মিলল লুকিয়ে থাকা ৪ নতুন নক্ষত্র