MD. Razib Ali
Senior Reporter
শবে বরাত ২০২৬: জানুন নামাজের নিয়ম ও বিশেষ দোয়া
মুসলিম উম্মাহর নিকট অত্যন্ত মহিমান্বিত একটি রাত ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বা পবিত্র শবে বরাত। রহমত ও ঐশী ক্ষমা লাভের আশায় সারাবিশ্বের মুসলমানরা এই রাতটি ইবাদত-বন্দেগিতে কাটিয়ে দেন। হিজরি সনের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য দয়ার দুয়ার উন্মুক্ত করে দেন।
শবে বরাতের তাৎপর্য ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপট
পবিত্র কুরআনের সূরা আদ-দুখানের ১-৩ আয়াতে একটি ‘বরকতময় রজনী’র উল্লেখ রয়েছে। অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে এটি লাইলাতুল কদর হলেও, অনেকে একে শবে বরাতের দিকেও ইঙ্গিত করেছেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) এই রাতের বিশেষ গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন। সুনানে ইবনে মাজাহ’র ১৩৮৮ নম্বর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, শাবানের পনেরতম রাতে আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আকাশে অবতীর্ণ হন এবং সূর্যাস্ত থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত বান্দাদের ক্ষমা, রিজিক ও বিপদ মুক্তির জন্য আহ্বান করতে থাকেন। হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণিত অন্য একটি হাদীসে বলা হয়েছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা বনু কালব গোত্রের ভেড়ার পশমের চেয়েও বেশি সংখ্যক মানুষকে ক্ষমা করে দেন।
যেভাবে আদায় করবেন শবে বরাতের নামাজ
শবে বরাতের জন্য শরীয়তে আলাদা কোনো ধরাবাঁধা নামাজের পদ্ধতি নেই। এটি মূলত নফল ইবাদতের রাত।
১. নামাজের পদ্ধতি: সাধারণ নফল নামাজের মতোই দুই রাকাত করে এই নামাজ পড়তে হয়। মনে মনে কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়ত করাই যথেষ্ট।
২. রাকাত সংখ্যা: এই রাতে কত রাকাত পড়তে হবে তার নির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই। সামর্থ্য অনুযায়ী ৮, ১২ বা ২০ রাকাত কিংবা তার বেশি পড়া যেতে পারে।
৩. কিরাত ও সূরা: সূরা ফাতিহার পর যে কোনো সূরা দিয়েই এই নামাজ আদায় করা যায়। তবে দীর্ঘ তিলাওয়াত করা অধিক সওয়াবের কাজ।
৪. অন্যান্য ইবাদত: নামাজের পাশাপাশি কুরআন তিলাওয়াত, জিকির এবং কান্নাকাটি করে নিজের ও পরকালের জন্য দোয়া করা এই রাতের মূল কাজ।
দোয়া ও রোজা
এই রাতে নির্দিষ্ট কোনো দোয়া নেই, তবে বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফার (আস্তাগফিরুল্লাহ...) পাঠ করা উত্তম। এছাড়া নবীজির (সা.) ওপর দুরুদ পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। শবে বরাতের পরের দিন (১৫ই শাবান) রোজা রাখা মুস্তাহাব। সেই সাথে চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের সুন্নত (আইয়ামে বীজ) রোজাও রাখা যেতে পারে।
২০২৬ সালের গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি দিবসগুলোর সম্ভাব্য তারিখ
জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের ইসলামি পঞ্জিকার গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো নিচে তুলে ধরা হলো (চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল):
শবে মেরাজ: ১৬ জানুয়ারি (শুক্রবার দিবাগত রাত)।
শবে বরাত: ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার দিবাগত রাত)।
পবিত্র রমজান শুরু: ১৮ ফেব্রুয়ারি।
শবে কদর: ১৫ মার্চ (রবিবার দিবাগত রাত)।
ঈদুল ফিতর: ১৯ বা ২০ মার্চ।
হজ পালন শুরু: ১৪ মে।
ঈদুল আজহা: ১৬ মে (শনিবার)।
আশুরা: ২৫ জুন (বৃহস্পতিবার)।
ঈদে মিলাদুন্নবী: ২৫ আগস্ট (মঙ্গলবার)।
জীবনদর্শনে ইসলাম: ইবাদত ও জীবিকার ভারসাম্য
ইসলাম কেবল একটি আনুষ্ঠানিক ধর্ম নয়, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। পবিত্র কুরআনের সূরা জুমআ’র ১০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন যে, নামাজ শেষ হওয়ার পর তোমরা জীবিকা অন্বেষণের জন্য পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়। অর্থাৎ, শুধু ইবাদতে মগ্ন থেকে কর্মবিমুখ হওয়া ইসলাম সমর্থন করে না।
একইভাবে উৎসবের ক্ষেত্রেও ইসলাম ভারসাম্য বজায় রাখে। জাহেলি যুগের অপসংস্কৃতি দূর করে রাসূলুল্লাহ (সা.) মুসলমানদের জন্য ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা নামক দুটি পবিত্র ও মার্জিত উৎসব উপহার দিয়েছেন (আবু দাউদ)।
সতর্কবার্তা:
শবে বরাতের মতো পবিত্র রাতে আতশবাজি ফোটানো বা অতিরিক্ত আলোকসজ্জার মতো অনর্থক কাজে লিপ্ত হওয়া উচিত নয়। এটি মূলত আত্মশুদ্ধি ও তওবার রাত। তাই যাবতীয় অপচয় ও কুসংস্কার পরিহার করে ইবাদতে মগ্ন হওয়াই মুমিনের প্রকৃত কাজ।
শবে বরাত ও ২০২৬ সালের ইসলামি পঞ্জিকা: সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
প্রশ্ন ১: ২০২৬ সালের শবে বরাত কবে বা কত তারিখে?
উত্তর: ২০২৬ সালের ইসলামি পঞ্জিকা অনুযায়ী, পবিত্র শবে বরাত বা ১৪ই শাবান দিবাগত রাতটি সম্ভাব্য ৪ ফেব্রুয়ারি, বুধবার দিবাগত রাতে পালিত হবে। তবে চূড়ান্ত তারিখটি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল।
প্রশ্ন ২: শবে বরাতের নামাজ কত রাকাত এবং পড়ার নিয়ম কী?
উত্তর: শবে বরাতের নামাজের কোনো নির্দিষ্ট রাকাত সংখ্যা হাদীসে বর্ণিত নেই। এই রাতে ২ রাকাত করে যত খুশি নফল নামাজ আদায় করা যায়। সাধারণত অনেকে ৮, ১২ বা ২০ রাকাত নামাজ পড়েন। সাধারণ নফল নামাজের নিয়মেই সূরা ফাতিহার পর অন্য যেকোনো সূরা মিলিয়ে এই নামাজ পড়তে হয়।
প্রশ্ন ৩: শবে বরাতের নামাজের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সূরা আছে কি?
উত্তর: না, শবে বরাতের নামাজের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সূরা নেই। আপনি পবিত্র কুরআনের যেকোনো সূরা দিয়ে এই নামাজ পড়তে পারেন। তবে দীর্ঘ কিরাত বা অধিক তিলাওয়াত করা সওয়াবের কাজ।
প্রশ্ন ৪: শবে বরাতের রোজা কবে রাখতে হয়?
উত্তর: হাদীস অনুযায়ী শাবান মাসের ১৫ তারিখে (শবে বরাতের পরের দিন) রোজা রাখা মুস্তাহাব বা সওয়াবের কাজ। ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এটি ৫ ফেব্রুয়ারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ (আইয়ামে বিজ) রোজা রাখাও সুন্নত।
প্রশ্ন ৫: শবে বরাতের বিশেষ দোয়া কোনটি?
উত্তর: শবে বরাতের জন্য বিশেষ কোনো নির্দিষ্ট দোয়া নেই। তবে এই রাতে তওবা-ইস্তিগফার (আস্তাগফিরুল্লাহ...) এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
প্রশ্ন ৬: ২০২৬ সালের পবিত্র রমজান মাস কবে শুরু হবে?
উত্তর: জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পবিত্র রমজান মাস ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এটি রমজানের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করবে।
প্রশ্ন ৭: শবে বরাতে আতশবাজি বা আলোকসজ্জা করা কি জায়েজ?
উত্তর: ইসলাম শবে বরাতকে কেন্দ্র করে আতশবাজি, পটকা ফোটানো বা অতিরিক্ত আলোকসজ্জা করা সমর্থন করে না। এটি ইবাদত ও তওবা-ইস্তিগফারের রাত, তাই যাবতীয় অপচয় ও বাড়াবাড়ি পরিহার করে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন হওয়া উচিত।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফিরছে বাংলাদেশ ইঙ্গিত দিল আইসিসি
- শবে বরাতের নামাজের নিয়ম, দোয়া ও ২০২৬ সালের গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক তারিখ
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফিরছে বাংলাদেশ!
- ভারত থেকে সরে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ!
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ:বাংলাদেশকে নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিল আইসিসি
- আইসিসির বৈঠকে চিৎকার বিসিবি সভাপতির বুলবুলের
- বিনিয়োগকারীদের চাহিদার শীর্ষে ৯ কোম্পানির শেয়ার
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: পাকিস্তানের সামনে তিন পথ
- আজ ৮ কোম্পানির বোর্ড সভা: আসছে ইপিএস
- টানা ৪ দিনের লম্বা ছুটির ঘোষণা, প্রজ্ঞাপন জারি
- আর্জেন্টিনার ম্যাচ কবে কখন? জানুন ম্যাচের সময়সূচি
- সাবধান! আপনার এই ৮টি ভুলেই কি দ্রুত টাক পড়ে যাচ্ছে? আজই জানুন
- আজকের স্বর্ণের দাম: (মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬)
- সোনার দামে ইতিহাস, ভাঙল সব রেকর্ড
- উসমানিয়া গ্লাসের EPS প্রকাশ