Alamin Islam
Senior Reporter
বিশ্ববাজারে নজিরবিহীন ভাবে বাড়লো স্বর্ণের দাম
আন্তর্জাতিক অর্থবাজারে স্বর্ণের দাম আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। মার্কিন ডলারের দুর্বল অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত স্বাধীনতা নিয়ে বাড়তে থাকা সংশয়ের মধ্যে হলুদ ধাতুটির মূল্য নতুন রেকর্ড স্পর্শ করেছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স স্বর্ণের দর ৫ হাজার ৩০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দর ১.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ২৫৫.৯৫ ডলারে। লেনদেন চলাকালে এক পর্যায়ে মূল্য উঠে যায় ৫ হাজার ৩১১.৩১ ডলারে, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ। এর আগের সেশনেও ৩ শতাংশের বেশি মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। একই সময়ে ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার ৩.৩ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ২৫০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ খাত থেকে সরে গিয়ে নিরাপদ সম্পদে অর্থ রাখছেন। ফলে স্বর্ণের প্রতি চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এক্সএস ডট কমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক লিন ট্রানের মতে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা ও রাজস্ব ব্যবস্থার ওপর আস্থা কমে যাওয়াই এই চাহিদা বৃদ্ধির মূল কারণ।
এদিকে মার্কিন ডলার চার বছরের সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি থাকায় বিদেশি ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ডলারের সাম্প্রতিক দুর্বলতাকে তেমন গুরুত্ব দেননি। একইসঙ্গে তিনি নতুন ফেড চেয়ারম্যান নিয়োগের ঘোষণা শিগগিরই আসতে পারে বলে জানিয়েছেন। তার প্রত্যাশা, নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর সুদের হার কমানো হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সুদের হার কমলে স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। কারণ এই ধাতুতে বিনিয়োগ করলে সুদ পাওয়া যায় না, তাই কম সুদের পরিবেশে স্বর্ণে বিনিয়োগের প্রবণতা বেড়ে যায়।
বর্তমান জানুয়ারির মুদ্রানীতি বৈঠকে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে বলে ধারণা করা হলেও ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে বাজারে নানা জল্পনা রয়েছে।
চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ২০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ডয়েচে ব্যাংকের বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বিনিয়োগের ধারা অব্যাহত থাকলে এ বছর আউন্সপ্রতি স্বর্ণের মূল্য ৬ হাজার ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।
রেকর্ড দামের মধ্যেও সাংহাই ও হংকংয়ের খুচরা বাজারে স্বর্ণের চাহিদা শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তবে উচ্চমূল্যের কারণে গয়নার বাজারে কিছুটা চাপ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারে অবশ্য ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ১.১ শতাংশ কমে ১১১.৭৪ ডলারে নেমেছে, যদিও চলতি বছরে রুপার মূল্য প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। প্লাটিনাম ০.৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬২৪.৩১ ডলারে। অন্যদিকে প্যালাডিয়াম ০.৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯৪৪.৭১ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সুদের হার সংক্রান্ত প্রত্যাশাই এখন স্বর্ণবাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখছে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সিদ্ধান্তে শেয়ার বাজারে বড় পতন
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফিরছে বাংলাদেশ ইঙ্গিত দিল আইসিসি
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফিরছে বাংলাদেশ!
- ভারত থেকে সরে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ!
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ:বাংলাদেশকে নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিল আইসিসি
- বিনিয়োগকারীদের চাহিদার শীর্ষে ৯ কোম্পানির শেয়ার
- ৫ কোম্পানির দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ, কার লাভ, কার লোকসান
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টিকিট পেল বাংলাদেশ
- সোনার দামে ইতিহাস, ভাঙল সব রেকর্ড
- আজকের স্বর্ণের দাম: (মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬)
- উসমানিয়া গ্লাসের EPS প্রকাশ
- ডিএসই-সিএসই বিলুপ্ত হচ্ছে, গঠিত হবে একক স্টক এক্সচেঞ্জ
- এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দারুন সুখবর: নীতিমালা জারি
- বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ধের পথে ৬ এনবিএফআই, ৩টিকে সময় দিলো
- iPhone 18 Pro Leak: লুকে বড় চমক নিয়ে আসছে অ্যাপলের নতুন আইফোন