ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২

MD. Razib Ali

Senior Reporter

শবে বরাতের রোজা কবে কখন? জানুন ২০২৬ সালের সঠিক তারিখ ও সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৯ ১১:৩৪:০৯
শবে বরাতের রোজা কবে কখন? জানুন ২০২৬ সালের সঠিক তারিখ ও সময়সূচি

পবিত্র রমজানের আগমনী বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত হতে যাচ্ছে শাবান মাস। এই মাসের ১৫ তারিখ বা শবে বরাতকে কেন্দ্র করে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাঝে ইবাদত-বন্দেগি ও নফল রোজা রাখার বিশেষ আগ্রহ দেখা যায়। তবে শবে বরাতের রোজা ঠিক কবে এবং এ নিয়ে ইসলামের সঠিক বিধান কী—তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে। ইংরেজি তারিখের সাথে মিলিয়ে জেনে নিন ২০২৬ সালের শবে বরাতের রোজার সময়সূচি ও নিয়ম।

শবে বরাতের রোজা কবে? (২০২৬)

ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি হলো শবে বরাত। সে হিসেবে ১৫ শাবান হলো শবে বরাতের দিন। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ২০২৬ সালে শবে বরাতের সম্ভাব্য তারিখ ও রোজার সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো:

শবে বরাত (১৪ শাবান দিবাগত রাত): ২ ফেব্রুয়ারি, সোমবার দিবাগত রাত।

শবে বরাতের নফল রোজা (১৫ শাবান): ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (মঙ্গলবার)।

তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসে আইয়ামে বিজের রোজা রাখার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই হিসেবে কেউ যদি পূর্ণ সওয়াব পেতে চান, তবে তিনি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ অর্থাৎ ১, ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি (রবিবার, সোমবার ও মঙ্গলবার) তিনটি রোজা রাখতে পারেন।

রাসুল (সা.)-এর শাবান মাসের আমল

হজরত উসামা ইবনে জায়েদ (রা.) একবার রাসুলকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি শাবান মাসে কেন এত বেশি রোজা রাখেন? উত্তরে রাসুল (সা.) বলেন, এটি এমন একটি মাস যা রজব ও রমজানের মাঝখানে অবস্থিত এবং মানুষ এর প্রতি উদাসীন থাকে। এই মাসেই বান্দার সব আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। তাই রাসুল (সা.) চেয়েছিলেন, তাঁর আমল যখন আল্লাহর কাছে পেশ হবে, তখন যেন তিনি রোজা অবস্থায় থাকেন। (সহিহ বুখারি)

১৫ শাবানের রোজার সঠিক বিধান

শবে বরাতের জন্য আলাদা কোনো একটি রোজার বিশেষ নির্দেশ সহিহ হাদিসে স্পষ্টভাবে পাওয়া যায় না। তবে আলেমদের মতে, শাবান মাসে নফল রোজা রাখা সুন্নাহসম্মত। বিশেষ করে আইয়ামে বিজের রোজা হিসেবে ১৪ তারিখের পর ১৫ তারিখ রোজা রাখা উত্তম। হজরত আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখার উপদেশ দিয়েছেন।

নামাজের নিয়ম ও নিয়ত

শবে বরাতের রাতে বিশেষ কোনো পদ্ধতির নামাজ বা আলাদা নিয়তের প্রয়োজন নেই। অন্যান্য নফল নামাজ যেভাবে পড়া হয়, এই রাতেও সেভাবে স্বাভাবিক নিয়মে ইবাদত করা যাবে। আলাদা কোনো নিয়ম বা রাকাত সংখ্যা নির্ধারণ করা শরিয়তসম্মত নয়। কেউ যদি বিশেষ কোনো নিয়ম উদ্ভাবন করে, তবে তা বিদয়াত হিসেবে গণ্য হতে পারে।

রমজানের প্রস্তুতি ও আমাদের করণীয়

শাবান মাসের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ। এই মাসেই আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা উচিত যেন আমরা সুস্থভাবে রমজান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারি এবং যথাযথভাবে সিয়াম ও কিয়াম পালন করতে পারি।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ