Alamin Islam
Senior Reporter
শিশু ও প্রবীণদের নিউমোনিয়া: কখন বুঝবেন রোগটি গুরুতর হচ্ছে?
বর্তমান সময়ে শিশু ও প্রবীণদের জন্য অন্যতম আতঙ্কের নাম নিউমোনিয়া। ফুসফুসের এই জটিল সংক্রমণটি অবহেলা করলে মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। মূলত শ্বাসতন্ত্রের এই প্রদাহ কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় এবং এর সতর্কবার্তাগুলো কী কী, তা জানা এখন সময়ের দাবি।
কী এই নিউমোনিয়া?
নিমোনিয়া হলো মূলত ফুসফুসের এক প্রকার তীব্র প্রদাহ। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া কিংবা ছত্রাকের মতো জীবাণু যখন ফুসফুসে হানা দেয়, তখন সেখানকার ক্ষুদ্র বায়ুথলিগুলো (অ্যালভিওলাই) পুঁজ বা তরল দ্বারা পূর্ণ হয়ে যায়। এর ফলে শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে না, যা শ্বাস-প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।
উপসর্গ: যে লক্ষণগুলো দেখে সাবধান হবেন
নিউমোনিয়ার প্রকাশ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে সাধারণ কিছু লক্ষণ হলো:
কাঁপুনি দিয়ে তীব্র জ্বর এবং ফুসফুসের এক পাশে ব্যথাবোধ।
কাশির সাথে ঘন কফ (হলুদ বা সবুজ রঙের) বের হওয়া, অনেক সময় রক্তও দেখা যেতে পারে।
দ্রুত শ্বাস নেওয়া এবং দম আটকে আসার মতো অনুভূতি।
শারীরিক অবসাদ ও খাবারের প্রতি অনীহা।
রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি হলে নখ, ঠোঁট বা জিহ্বায় নীলচে আভা দেখা দেওয়া।
বয়সভেদে ভিন্নতা: শিশুদের ক্ষেত্রে সারাক্ষণ কান্না করা, অস্থিরতা বা বমি করার প্রবণতা দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। অন্যদিকে, বয়স্কদের ক্ষেত্রে অনেক সময় জ্বর না থাকলেও হঠাৎ মানসিক বিভ্রান্তি বা চরম দুর্বলতা নিউমোনিয়ার লক্ষণ হতে পারে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কারা?
নির্দিষ্ট কিছু মানুষের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া ভয়াবহ রূপ নিতে পারে:
১. পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং ৬৫ ঊর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিক।
২. যাদের শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম (যেমন- স্টেরয়েড গ্রহীতা বা এইচআইভি আক্রান্ত)।
৩. ডায়াবেটিস, হৃদরোগ কিংবা কিডনিজনিত দীর্ঘমেয়াদি রোগ যাদের আছে।
৪. ধূমপায়ী এবং যারা আগে থেকেই অ্যাজমা বা ব্রঙ্কাইটিসের মতো সমস্যায় ভুগছেন।
রোগের ধরণ ও শনাক্তকরণ
আক্রান্ত হওয়ার স্থান ও জীবাণুর প্রকৃতি অনুযায়ী নিউমোনিয়াকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন—হাসপাতালের বাইরে থেকে হওয়া সংক্রমণ (কমিউনিটি অ্যাকোয়ার্ড), হাসপাতাল থেকে অর্জিত সংক্রমণ কিংবা খুব সামান্য উপসর্গযুক্ত 'ওয়াকিং নিউমোনিয়া'। চিকিৎসকরা সাধারণত শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি বুকের এক্স-রে এবং রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগ নিশ্চিত করেন।
চিকিৎসা ও করণীয়
রোগের ধরন বুঝে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকেন। ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক এবং ভাইরাসের ক্ষেত্রে সহায়ক চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। তবে শ্বাসকষ্ট তীব্র হলে কিংবা শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করে কৃত্রিম অক্সিজেন বা ইনজেকশনের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে।
প্রতিরোধেই মুক্তি
সতর্কতামূলক কিছু পদক্ষেপ নিউমোনিয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়:
ভ্যাকসিন গ্রহণ: বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোকোকাল টিকা নেওয়া অত্যন্ত কার্যকর।
স্বাস্থ্যবিধি: নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং ধূলিবালি ও ধূমপান থেকে দূরে থাকা।
পুষ্টি: শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সুষম খাবার গ্রহণ করা।
সচেতনতা: ফ্লু বা হাঁচি-কাশিতে আক্রান্ত হলে মাস্ক ব্যবহার করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা।
বার্তা: নিউমোনিয়া একটি নিরাময়যোগ্য রোগ, যদি সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সামান্যতম উপসর্গ দেখা দিলেও কালক্ষেপণ না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- চলছে বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড ১ম ওয়ানডে: শেষ ম্যাচ, জানুন ফলাফল
- বিনিয়োগকারীদের ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা
- চলছে বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচ: টস শেষ, জানুন ফলাফল
- ৬ কোম্পানির লভ্যাংশ ও ইপিএস ঘোষণার তারিখ চূড়ান্ত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড: শরিফুলের প্রথম আঘাত, সরাসরি দেখুন Live
- বিনিয়োগকারী ঝুঁকিতে! স্বল্প মূলধনীর শেয়ারে বিপদ
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড: আবারও শরিফুলের আঘাত, সরাসরি দেখুন Live
- শেয়ারবাজার সংস্কারে বিএসইসিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
- আজকের খেলার সময়সূচি: বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড
- ডিএসইর ৩ ব্রোকারেজে বড় পরিবর্তন: বাদ পড়লেন ৩ প্রতিনিধি
- আজকের স্বর্ণের দাম: (শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬)
- ডিএসই সূচকে এপ্রিলেও নেই নতুন মুখ: আইপিও খরায় বড় ধাক্কা
- আজকের স্বর্ণের দাম: (শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬)
- সাতসকালে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প, উৎপত্তিস্থল কোথায়?