MD. Razib Ali
Senior Reporter
ওষুধ ছাড়াই সুগার কমবে! ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ৫ ঘরোয়া উপায়
বর্তমান বিশ্বে জীবনযাত্রার অনিয়ম আর খাদ্যাভ্যাসের কারণে ডায়াবেটিস এক নীরব ঘাতক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যাকে জয় করা সম্ভব কেবল সচেতনতা আর সামান্য কিছু জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে। শরীরচর্চা আর ডায়েটের পাশাপাশি দৈনন্দিন কিছু ঘরোয়া কৌশল রক্তে শর্করার মাত্রাকে স্বাভাবিক রাখতে জাদুর মতো কাজ করে।
আপনার প্রতিদিনের রুটিনে নিচের ৫টি অভ্যাস যুক্ত করে দেখুন, যা প্রাকৃতিকভাবেই সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে:
১. মেথি জলের কার্যকারিতা
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মেথি দানা কোনো আশীর্বাদের চেয়ে কম নয়। এতে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার কার্বোহাইড্রেট শোষণের গতিকে ধীর করে দেয়, ফলে শরীরে শর্করার মাত্রা হুট করে বাড়তে পারে না।
ব্যবহারের নিয়ম: রাতে এক টেবিল চামচ মেথি সামান্য পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন সকালে খালি পেটে সেই পানি পান করুন। এই অভ্যাসটি শরীরের গ্লুকোজ মেটাবলিজম উন্নত করে এবং ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা বাড়াতে দারুণ কার্যকর।
২. খাবারের পাতে কাঁচা পেঁয়াজ
শুনতে অবাক লাগলেও, কাঁচা পেঁয়াজ রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে অত্যন্ত পারদর্শী। বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ১০০ গ্রাম পরিমাণ কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়ার মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে সুগারের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়। এতে থাকা সালফার ও ফ্ল্যাভোনয়েড সরাসরি ইনসুলিনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই প্রতিদিনের সালাদে কাঁচা পেঁয়াজ রাখা হতে পারে ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনার অন্যতম সহজ উপায়।
৩. রান্নায় কোল্ড প্রসেসড অয়েলের ব্যবহার
সুস্থ থাকতে রান্নার তেলের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। বাজারে প্রচলিত রিফাইনড বা পরিশোধিত তেলে ট্রান্স ফ্যাট বেশি থাকে, যা শরীরের প্রদাহ ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়িয়ে দেয়। এর পরিবর্তে রান্না বা খাবারে সরিষা, নারকেল কিংবা এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলের মতো কোল্ড প্রসেসড অয়েল ব্যবহার করুন। এই তেলগুলো হার্টের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রক্তে কোলেস্টেরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৪. খাওয়ার পর সংক্ষিপ্ত হাঁটা
ব্যায়াম মানেই যে জিম বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দৌড়ানো, তা কিন্তু নয়। প্রতি বেলা প্রধান খাবারের পর মাত্র ৫০০ কদম হাঁটার অভ্যাস আপনার রক্তে শর্করার স্পাইক বা হঠাৎ বৃদ্ধি রোধ করতে পারে। এই সামান্য হাঁটাচলা পেশীকে রক্ত থেকে গ্লুকোজ টেনে নিতে সাহায্য করে, যা শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। এছাড়া এটি হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে ওজন কমাতেও সহায়ক।
৫. ঘুমানোর আগে আমলকি ও হলুদের পানীয়
আমলকি এবং হলুদ—এই দুটি ভেষজ উপাদানের সংমিশ্রণ রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে অব্যর্থ ভূমিকা পালন করে। আমলকিতে থাকা ক্রোমিয়াম ইনসুলিন রিসেপ্টরকে সচল করে, আর হলুদের কারকিউমিন রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখে।
প্রস্তুত প্রণালী: রাতে ঘুমানোর ঠিক আগে এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ আমলকির রসের সঙ্গে সামান্য হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে পান করুন। এটি দীর্ঘ মেয়াদে সুগার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব কঠিন কাজ নয়, যদি আপনি নিয়মের মধ্যে থাকেন। উপরের এই সহজ ও ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো আপনার প্রতিদিনের সঙ্গী হলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক বেশি সহজ হয়ে উঠবে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আজকের স্বর্ণের দাম: (শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬)
- সোনালী পেপার দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ: ইপিএস ও ক্যাশফ্লোতে বড় পরিবর্তন
- ওয়াটা কেমিক্যালস: মুনাফায় বিশাল লাফ, দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- কনফিডেন্স সিমেন্ট ও ইন্দো-বাংলাসহ ৫ কোম্পানির দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- সরকারি ৭ কোম্পানির মুনাফায় ৪৭ শতাংশের বিশাল লাফ
- ওরিয়ন ফার্মা: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- মতিন স্পিনিং: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- বড় প্রবৃদ্ধিতে স্কয়ার ফার্মা: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- এক লাফে ভরিতে ৩০ হাজার টাকা কমলো স্বর্ণের দাম
- গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালস: দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক চিত্র প্রকাশ
- শবে বরাতের রোজা কবে কখন? জানুন তারিখ ও সময়সূচি
- বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ: ইপিএস শক্তিশালী
- সালভো অর্গানিক: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ, বেড়েছে মুনাফা
- বিবিএস কেবলস: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- বারাকা পাওয়ারের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ: আয় বেড়েছে