Md. Mithon Sheikh
Senior Reporter
গর্ভধারণের আগে করণীয়: স্বাস্থ্য, খাদ্য ও জীবনধারার পরামর্শ
মা হওয়া কেবল শারীরিক পরিবর্তনের বিষয় নয়; এটি মানসিক প্রস্তুতি, জীবনধারার স্বচ্ছন্দতা এবং দায়িত্বশীলতার নতুন অধ্যায়। অনেকেই শুধুমাত্র গর্ভধারণের পরে স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবেন, কিন্তু চিকিৎসকরা মনে করেন, প্রকৃত পরিবর্তন শুরু হওয়া উচিত আগেভাগে। সঠিক প্রস্তুতি নেওয়া মানেই সুস্থ মা ও সন্তানের সম্ভাবনা অনেকাংশে নিশ্চিত করা।
শরীরকে প্রস্তুত করুন
মা হওয়ার পরিকল্পনা করলে প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত একজন চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ।
রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েড সমস্যা, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের উপস্থিতি পরীক্ষা করুন।
প্রয়োজনীয় টিকা (যেমন: রুবেলা, হেপাটাইটিস বি) হালনাগাদ করুন।
পূর্বের কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা বা নেওয়া ওষুধের তথ্য চিকিৎসকের সঙ্গে শেয়ার করুন।
চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন, গর্ভধারণের কমপক্ষে তিন মাস আগে থেকে শরীরকে প্রস্তুত রাখা জরুরি।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনুন
“আপনার খাবার, আপনার সন্তানের ভবিষ্যত”—এই কথাটি সম্পূর্ণ সত্য।
আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং ফলিক অ্যাসিডে সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন।
সবুজ শাকসবজি, ডাল, দুধ, ডিম, মাছ এবং বিভিন্ন ফল নিয়মিত খান।
অতিরিক্ত চিনি, সফট ড্রিংক এবং জাঙ্ক ফুড পরিহার করুন।
চিকিৎসকের পরামর্শে ফলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট শুরু করা অত্যন্ত উপকারী।
ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে চলুন
ধূমপান ও অ্যালকোহল গর্ভধারণের প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ভ্রূণের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া, গর্ভধারণের জটিলতা এবং শিশুর ভবিষ্যত মানসিক ও শারীরিক সমস্যা—সবই এড়িয়ে চলা সম্ভব।
মানসিক সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দিন
উদ্বেগ, চাপ এবং মানসিক অস্থিরতা গর্ভধারণের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।
হালকা ব্যায়াম, যোগ বা নিয়মিত হাঁটা অন্তর্ভুক্ত করুন।
নিজের পছন্দের কাজে সময় দিন।
প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সহায়তা নিন।
শান্ত ও সুখী মনই মাতৃত্বের সুস্থ শুরু।
ওজনের ওপর নজর রাখুন
অতিরিক্ত কম বা বেশি ওজন—উভয়ই গর্ভধারণে ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।
নিয়মিত ব্যায়াম বজায় রাখুন।
হঠাৎ ডায়েট বা অনিয়ন্ত্রিত ওজন হ্রাস এড়িয়ে চলুন।
স্বাভাবিক BMI বজায় রাখা সবচেয়ে ভালো।
ওষুধের ক্ষেত্রে সতর্কতা
অনেকে সাধারণ ওষুধও গর্ভধারণের সময় ক্ষতিকর হতে পারে।
ব্যথানাশক, হরমোন জাতীয় ওষুধ বা হারবাল/ঘরোয়া ওষুধ কখনোই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করবেন না।
সঙ্গীর স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ
মা হওয়ার পরিকল্পনা শুধুই নারীর দায়িত্ব নয়।
সঙ্গীর ধূমপান ও মদ্যপান অভ্যাস, মানসিক চাপ এবং পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ—সবই গর্ভধারণের ওপর প্রভাব ফেলে।
তাই দু’জনেরই স্বাস্থ্য সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
মা হওয়া কোনো হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয়। এটি ভালোবাসা, প্রস্তুতি ও দায়িত্বের একত্রিত রূপ। সচেতনতা ও যত্ন আজই শুরু করলে মাতৃত্বের পথ হয় নিরাপদ, আনন্দময় এবং সুস্থ। ছোট ছোট স্বাস্থ্যাভ্যাসের পরিবর্তনই আগামীর সুস্থ প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার।
সাবরিনা আফরোজ/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সিদ্ধান্তে শেয়ার বাজারে বড় পতন
- ৫ কোম্পানির দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ, কার লাভ, কার লোকসান
- ভারত থেকে সরে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ!
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ:বাংলাদেশকে নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিল আইসিসি
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টিকিট পেল বাংলাদেশ
- বিনিয়োগকারীদের চাহিদার শীর্ষে ৯ কোম্পানির শেয়ার
- দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করল নাহী অ্যালুমিনিয়াম
- ডিএসই-সিএসই বিলুপ্ত হচ্ছে, গঠিত হবে একক স্টক এক্সচেঞ্জ
- শবে বরাত ২০২৬: জানুন নামাজের নিয়ম ও বিশেষ দোয়া
- সোনার দামে ইতিহাস, ভাঙল সব রেকর্ড
- বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ধের পথে ৬ এনবিএফআই, ৩টিকে সময় দিলো
- উসমানিয়া গ্লাসের EPS প্রকাশ
- এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দারুন সুখবর: নীতিমালা জারি
- শেষ বাংলাদেশ বনাম থাইল্যান্ডের মধ্যকার বাঁচা মরার ম্যাচ, জানুন ফলাফল
- মুস্তাফিজকে সুখবর দিল আইসিসি