Md. Mithon Sheikh
Senior Reporter
নিপাহ ভাইরাস নিয়ে নতুন সতর্কতা, জেনেনিন লক্ষণ ও প্রতিকার
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসে নতুন করে আক্রান্তের ঘটনা ধরা পড়ায় শুধু রাজ্য নয়, উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এশিয়াজুড়ে। সম্ভাব্য সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করেছে এবং আগত যাত্রীদের ওপর বাড়তি নজরদারি শুরু করেছে।
গত এক মাসে পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসে দুটি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। দ্রুত সনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করছে। আক্রান্তদের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা প্রায় ২০০ জনকে পরীক্ষা করা হলেও নতুন করে আর কারও শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি মেলেনি।
এই পরিস্থিতিতে থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভিয়েতনামসহ কয়েকটি দেশ বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং কার্যক্রম আরও কড়া করেছে, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানো যায়।
নিপাহ ভাইরাস কী ধরনের রোগ?
নিপাহ একটি জুনোটিক ভাইরাস, অর্থাৎ এটি প্রাণী থেকে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়। বিশেষ করে ফলখেকো বাদুড় ও শূকরের মাধ্যমে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। আক্রান্ত প্রাণীর শরীরের নিঃসরণ বা সরাসরি সংস্পর্শ থেকেও সংক্রমণ ঘটার ঝুঁকি থাকে।
শরীরে প্রবেশের পর ভাইরাসটি কয়েকদিন কোনো লক্ষণ ছাড়াই থাকতে পারে। সাধারণত ৪ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে উপসর্গ প্রকাশ পেতে শুরু করে।
প্রথমদিকে জ্বর, বমিভাব, বমি এবং শ্বাসপ্রশ্বাসে কষ্ট দেখা দেয়। পরবর্তীতে ফুসফুসে সংক্রমণ বা নিউমোনিয়া হতে পারে। রোগ জটিল আকার নিলে মস্তিষ্কে প্রদাহ সৃষ্টি হয়ে খিঁচুনি, অচেতনতা ও স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিপাহ ভাইরাসকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সংক্রামক রোগ হিসেবে বিবেচনা করে। এখন পর্যন্ত এ রোগের কোনো কার্যকর টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা উদ্ভাবিত হয়নি। মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা অন্যান্য অনেক ভাইরাসের তুলনায় অনেক বেশি।
অতীতের প্রাদুর্ভাব
১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ায় প্রথমবার নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হয়। শূকর খামারিদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বহু প্রাণহানি ঘটে। যে এলাকায় ভাইরাসটি প্রথম পাওয়া গিয়েছিল, সেই এলাকার নাম থেকেই এর নামকরণ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে ভারত, বাংলাদেশ, ফিলিপাইনস, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে বাংলাদেশে প্রায় প্রতিবছরই নিপাহ শনাক্ত হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, কাঁচা খেজুরের রস সংগ্রহ ও পান করার সঙ্গে সংক্রমণের সম্পর্ক রয়েছে। কারণ ফলখেকো বাদুড় খেজুর গাছে বসবাস করে এবং তাদের নিঃসরণ রসের সঙ্গে মিশে ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারে।
ভারতে সংক্রমণের ইতিহাস
ভারতে প্রথম নিপাহ ধরা পড়ে ২০০১ সালে পশ্চিমবঙ্গে, যা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকা। এরপর ২০১৮ সালে কেরালায় বড় প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় এবং অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৩ সালেও সেখানে দুটি মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, কারণ ২০০৭ সালের পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে আবার নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
সাম্প্রতিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা
ভারতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উন্নত ল্যাব পরীক্ষা, মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান এবং কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে।
তবে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে কয়েকটি দেশ অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিয়েছে—
থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ায় ভারত থেকে আগত যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, তাপমাত্রা মাপা ও স্বাস্থ্য ঘোষণা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ভারত সরকার জানিয়েছে, সংক্রমণ ব্যাপক আকার নিয়েছে—এমন গুজবের কোনো ভিত্তি নেই। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ফাহিম শেখ/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সিদ্ধান্তে শেয়ার বাজারে বড় পতন
- ৫ কোম্পানির দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ, কার লাভ, কার লোকসান
- ভারত থেকে সরে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ!
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফিরছে বাংলাদেশ!
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ:বাংলাদেশকে নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিল আইসিসি
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টিকিট পেল বাংলাদেশ
- বিনিয়োগকারীদের চাহিদার শীর্ষে ৯ কোম্পানির শেয়ার
- দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করল নাহী অ্যালুমিনিয়াম
- ডিএসই-সিএসই বিলুপ্ত হচ্ছে, গঠিত হবে একক স্টক এক্সচেঞ্জ
- শবে বরাত ২০২৬: জানুন নামাজের নিয়ম ও বিশেষ দোয়া
- সোনার দামে ইতিহাস, ভাঙল সব রেকর্ড
- বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ধের পথে ৬ এনবিএফআই, ৩টিকে সময় দিলো
- উসমানিয়া গ্লাসের EPS প্রকাশ
- এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দারুন সুখবর: নীতিমালা জারি
- শেষ বাংলাদেশ বনাম থাইল্যান্ডের মধ্যকার বাঁচা মরার ম্যাচ, জানুন ফলাফল