ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২

Md. Mithon Sheikh

Senior Reporter

ওষুধ নয় খাবারেই সমাধান, যে ৮ খাদ্যে কমবে উচ্চ রক্তচাপ 

স্বাস্থ্য ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৯ ১২:৪৯:১৩
ওষুধ নয় খাবারেই সমাধান, যে ৮ খাদ্যে কমবে উচ্চ রক্তচাপ 

হৃদরোগ এখন নীরবে বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। এর পেছনে বড় একটি কারণ হলো উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার। অনেক সময় শরীরে কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ না থাকলেও ভেতরে ভেতরে হার্ট ও রক্তনালিতে ক্ষতি করতে থাকে এই সমস্যা। তাই চিকিৎসকেরা একে প্রায়ই ‘নীরব ঘাতক’ বলে থাকেন।

তবে ভালো খবর হলো—ওষুধের পাশাপাশি দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনলেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সঠিক পুষ্টিকর খাবার বেছে নিলে হার্ট সুস্থ থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদে জটিলতার ঝুঁকিও কমে যায়।

এবার জেনে নিন এমন ৮টি খাবারের কথা, যেগুলো নিয়মিত খেলে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হতে পারে।

কলা

প্রতিদিন একটি কলা খাওয়ার সহজ অভ্যাসই বড় উপকার দিতে পারে। কলায় থাকা পটাশিয়াম শরীরের সোডিয়ামের ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত লবণ বের করে দেয়। সকালের নাশতায় সিরিয়াল বা কম ফ্যাটের দইয়ের সঙ্গে কলা যোগ করতে পারেন।

চর্বিযুক্ত মাছ

স্যালমন, ম্যাকারেল বা একই ধরনের তেলসমৃদ্ধ মাছ ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে ভরপুর। এগুলো হার্টের জন্য ভালো, খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। নিয়মিত মাংসের বদলে মাছ খাওয়ার অভ্যাস উপকারী।

ওটস

ওটসের অন্যতম গুণ হলো এতে থাকা সলিউবল ফাইবার। এটি রক্তচাপ কমানোর পাশাপাশি হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখতে কাজ করে। প্রতিদিনের নাশতায় ওটস রাখলে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়।

পাতাযুক্ত সবজি

পালং শাক, কেল, চায়নিজ কোলার্ডসহ সবুজ পাতার সবজি পুষ্টিতে সমৃদ্ধ। এগুলো রক্তচাপ কমাতে সহায়ক এবং শরীরকে নানা রোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে। লেটুসের পরিবর্তে এসব সবজি ব্যবহার করা ভালো।

বীজ ও ডাল

ডাল ও বিভিন্ন বীজজাতীয় খাবারে প্রচুর সলিউবল ফাইবার থাকে। এগুলো ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ কমায়। প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় কিছু ডাল বা বিনস যোগ করলে উপকার পাওয়া যায়।

বাদাম

পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফাইবার ও প্রোটিনে সমৃদ্ধ বাদাম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর। তবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি। প্রতিদিন এক মুঠো বাদামই যথেষ্ট।

বেরি ফল

স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, রসপবেরির মতো ফলে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। এগুলো ধমনিকে নমনীয় রাখে এবং রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। প্রতিদিন এক কাপ বেরি খাওয়া উপকারী।

টমেটো

টমেটোতে থাকা লাইকোপিন শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এটি রক্তচাপ হ্রাসে সাহায্য করে এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমায়। তাই প্রতিদিনের রান্না বা সালাদে টমেটো রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

শুধু খাবার নয়, জীবনযাপনেও সচেতনতা দরকার

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্যকর ডায়েটের পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, পর্যাপ্ত পানি পান, লবণ কম খাওয়া এবং সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনধারা মেনে চললে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব—ফলে হার্ট থাকবে সুস্থ, জীবন হবে নিরাপদ।

সাবিনা ইয়াসমিন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ