MD. Razib Ali
Senior Reporter
ডায়রিয়া দ্রুত সারানোর ৭টি কার্যকর ঘরোয়া উপায়
হঠাৎ শুরু হওয়া ডায়রিয়া জীবনযাত্রায় ছন্দপতন ঘটাতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি সমস্যাটি মৃদু হয় এবং ২৪ ঘণ্টার কম সময় স্থায়ী হয়, তবে এটি নিয়ে খুব বেশি বিচলিত হওয়ার কারণ নেই; অনেক ক্ষেত্রে এটি এমনিতেই সেরে যায়। দ্রুত উপশমের জন্য বাজারে ‘ইমোডিয়াম’ বা ‘পেপ্টো-বিসমল’-এর মতো কিছু ওষুধ পাওয়া যায়, যা অন্ত্রের গতিবিধি শিথিল করে স্বস্তি দেয়। তবে যেকোনো ওষুধ সেবনের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক।
প্রাথমিক পর্যায়ে ডায়রিয়া সামাল দিতে আপনি ঘরে থাকা সাধারণ কিছু উপাদানের ওপর ভরসা রাখতে পারেন। নিচে অত্যন্ত কার্যকর ৭টি উপায়ের তালিকা দেওয়া হলো:
১. পানিশূন্যতা রোধে তরল খাবার
অস্বাভাবিক মলত্যাগের ফলে শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যায়, যা বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে। এই ঘাটতি পূরণে শুধু পানি পান করাই যথেষ্ট নয়। শরীরের প্রয়োজনীয় খনিজ ধরে রাখতে চা, আপেলের জুস কিংবা ইলেক্ট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয় গ্রহণ করা উচিত।
২. ভাতের ফ্যান বা মাড়ের ব্যবহার
পেটের এই সমস্যায় ভাতের মাড় একটি পুরনো কিন্তু পরীক্ষিত দাওয়াই। এক কাপ চাল ও দুই কাপ পানির মিশ্রণে তৈরি এই পানীয়টি পানিশূন্যতা কমাতে এবং মলের ঘনত্ব বাড়িয়ে ডায়রিয়ার স্থায়িত্ব কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।
৩. শরীরকে বিশ্রাম দিন
অসুস্থতা শরীরকে ভেতর থেকে নিস্তেজ করে দেয়। তাই দ্রুত রোগমুক্ত হতে কয়েক দিন পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। পেট ব্যথা বা অস্বস্তি কমাতে পেটে হালকা গরম সেঁক বা উষ্ণ কম্প্রেস দিলে অনেকটা আরাম পাওয়া যায়। এই সময়ে পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ আরোগ্যের গতি ত্বরান্বিত করে।
৪. খাবারের তালিকায় সতর্কতা
ডায়রিয়া চলাকালীন দুধ, পনির, কফি কিংবা ওটমিলের মতো খাবার এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। এর পরিবর্তে সাধারণ সেদ্ধ ভাত বা আলুর মতো শর্করা জাতীয় খাবার বেছে নিন। এছাড়া ব্লুবেরিতে থাকা ‘অ্যান্থোসায়ানোসাইড’ নামক উপাদানটি সংক্রমণ প্রতিরোধে এবং পেটের সমস্যা উপশমে অত্যন্ত কার্যকর।
৫. প্রাচীন প্রতিকার: পেয়ারা পাতা
যুগ যুগ ধরে পেয়ারা পাতা ডায়রিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে থাকা ‘ট্যানিন’ নামক উপাদানটিতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ রয়েছে। এটি অন্ত্রের অতিরিক্ত নিঃসরণ কমিয়ে ডায়রিয়া দ্রুত থামিয়ে দিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
৬. অন্ত্রের সুরক্ষায় প্রোবায়োটিকস
পেটের ভেতরে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হলে ডায়রিয়া দীর্ঘস্থায়ী হয়। দইয়ের মতো প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার বা সাপ্লিমেন্ট অন্ত্রের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনে এবং হজম প্রক্রিয়াকে সচল করতে সাহায্য করে।
৭. শুকনো আদার জাদুকরী গুণ
যদি ডায়রিয়ার কারণ হয় ফুড পয়জনিং বা বমি ভাব, তবে শুকনো আদা হতে পারে আপনার সেরা সমাধান। আদা চিবিয়ে খেলে কিংবা গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেই পানি পান করলে হজম শক্তি বাড়ে এবং পেটের অস্বস্তি দ্রুত দূর হয়।
সতর্কবার্তা: ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো মূলত প্রাথমিক চিকিৎসার অংশ। যদি ডায়রিয়া দীর্ঘস্থায়ী হয় বা রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটে, তবে কালক্ষেপণ না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ২০২৬ সালের কোরবানির ঈদ কবে? দিনক্ষণ নিয়ে মিলল আগাম আভাস
- আজ বাংলাদেশ বনাম নেপাল সাফ সেমি ফাইনাল: জানুন লাইভ দেখার উপায় ও সময়সূচি
- শেষ হলো বাংলাদেশ বনাম নেপালে মধ্যকার সেমি ফাইনাল ম্যাচ, জানুন ফলাফল
- জামানত ছাড়াই প্রবাসীদের ১০ লাখ টাকা ঋণ দিচ্ছে সরকার
- আজকের খেলার সময়সূচি: বাংলাদেশ বনাম ভারত
- আজ বাংলাদেশ বনাম থাইল্যান্ড ম্যাচ: কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ
- আজকের স্বর্ণের দাম: (শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬)
- দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়, সিলেটে বিশেষ সতর্কবার্তা