ঢাকা, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২

Alamin Islam

Senior Reporter

সুস্থ থাকতে কোন বয়সে কত ঘণ্টা ঘুম জরুরি? জেনে নিন

লাইফ স্টাইল ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৪ ১৬:০৪:৪৬
সুস্থ থাকতে কোন বয়সে কত ঘণ্টা ঘুম জরুরি? জেনে নিন

আধুনিক ব্যস্ত জীবন এবং স্মার্টফোনের উজ্জ্বল আলো আমাদের স্বাভাবিক বিশ্রামের ছন্দকে ক্রমেই ব্যাহত করছে। অথচ চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, ঘুম কেবল বিলাসিতা নয়, বরং এটি বেঁচে থাকার এক অপরিহার্য জৈবিক প্রক্রিয়া। শৈশবে মস্তিষ্কের গঠন থেকে শুরু করে পরিণত বয়সে স্মৃতিশক্তি সংরক্ষণ এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অটুট রাখতে ঘুমের কোনো বিকল্প নেই।

ঘুমের বিজ্ঞান ও চক্র

একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরকে পুনরায় সজীব করতে প্রতিদিন সাত থেকে নয় ঘণ্টা বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। এই ঘুমের পুরো সময়টিতে আমাদের শরীর প্রতি ৯০ মিনিটের একটি করে নির্দিষ্ট চক্র সম্পন্ন করে। চনমনে বোধ করার জন্য প্রতি ২৪ ঘণ্টায় এ ধরনের চার থেকে ছয়টি চক্র সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি।

এই চক্রের চারটি ভিন্ন স্তর রয়েছে:

তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব (এনআরইএম পর্যায় ১): ঘুমের একদম শুরুর এই ধাপটি ৫ থেকে ১০ মিনিট স্থায়ী হয়। এসময় মস্তিষ্কের গতি ধীর হতে শুরু করলেও সামান্য শব্দে ঘুম ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

হালকা ঘুম (এনআরইএম পর্যায় ২): আমাদের মোট ঘুমের প্রায় অর্ধেক সময় জুড়ে থাকে এই স্তর। এসময় শরীরের তাপমাত্রা হ্রাস পায় এবং হৃদস্পন্দন ধীর হয়ে আসে। মূলত এই ধাপে মস্তিষ্ক বিভিন্ন তথ্য প্রক্রিয়াজাত করে এবং স্মৃতিশক্তি মজবুত করে।

গভীর নিদ্রা (এনআরইএম পর্যায় ৩): একে বলা হয় শরীরের ‘মেরামতকাল’। এই স্তরেই হাড়ের ক্ষয়পূরণ, পেশী গঠন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের এই গভীর ঘুমের সময়টুকু কমতে থাকে।

আরইএম বা স্বপ্নময় ঘুম: প্রতিটি চক্রের প্রায় ৯০ মিনিট পর এই ধাপটি আসে, যা আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন কিছু শেখার জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই পর্যায়ে মস্তিষ্ক প্রচণ্ড সক্রিয় থাকলেও পেশীগুলো সাময়িকভাবে নিথর থাকে, যাতে স্বপ্নের প্রতিফলন বাস্তবে না ঘটে।

বয়স অনুযায়ী ঘুমের সময়সূচি

শরীরের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন বয়সে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা ভিন্ন হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নিচের চার্টটি দেখে নিতে পারেন:

০-৩ মাস: ১৪-১৭ ঘণ্টা

৪-১২ মাস: ১২-১৬ ঘণ্টা

১-৫ বছর: ১০-১৪ ঘণ্টা

৬-১২ বছর: ৯-১২ ঘণ্টা

১৩-১৮ বছর: ৮-১০ ঘণ্টা

১৯-৬৪ বছর: ৭-৯ ঘণ্টা

৬৫+ বছর: ৭-৯ ঘণ্টা

অপর্যাপ্ত ঘুমের পরিণাম

শিশুদের ক্ষেত্রে নিয়মিত ঘুম মনোযোগ বৃদ্ধি এবং মানসিক স্থিরতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অবহেলা হতে পারে মারাত্মক। দৈনিক সাত ঘণ্টার কম ঘুমানোর ফলে স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের আশঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, মানসিক অবসাদ ও দুশ্চিন্তা জেঁকে বসতে পারে। তাই দীর্ঘায়ু পেতে এবং রোগমুক্ত থাকতে আপনার বয়স অনুযায়ী ঘুমের বিষয়ে আজই সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

আল-মামুন/

ট্যাগ: লাইফস্টাইল সুস্থজীবন সতর্কবার্তা ঘুম পর্যাপ্ত ঘুমের উপকারিতা কোন বয়সে কত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন বয়স অনুযায়ী ঘুমের চার্ট সুস্থ থাকতে প্রতিদিন কত ঘণ্টা ঘুমানো উচিত সঠিক ঘুমের সময়সূচি বয়সভেদে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা গভীর ঘুমের উপায় শিশুদের কতক্ষণ ঘুমানো প্রয়োজন প্রাপ্তবয়স্কদের ঘুমের সঠিক সময় ঘুমের চক্র স্লিপ সাইকেল কম ঘুমালে কি কি রোগ হয় পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবের ঝুঁকি ঘুম না হলে কি সমস্যা হয় অনিদ্রার ক্ষতিকর প্রভাব হৃদরোগ ও ঘুমের সম্পর্ক স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ঘুমের ভূমিকা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও ঘুম ১ থেকে ৫ বছরের শিশুর কতটুকু ঘুম দরকার ৭ ঘণ্টার কম ঘুমালে কি হয় গভীর ঘুম কেন গুরুত্বপূর্ণ রাতে ভালো ঘুমের উপায় কি বয়স বাড়লে কি ঘুম কমে যায় Sleep hours by age Recommended sleep duration chart How much sleep do I need Importance of sleep for brain development Stages of sleep cycle NREM & REM Health risks of sleep deprivation Deep sleep vs light sleep Sleep needs for infants to seniors Benefits of 8 hours sleep Why sleep is essential for health REM sleep meaning in Bengali How many hours should a 30 year old sleep স্বাস্থ্যটিপস SleepHealth SleepCycle HealthChart পর্যাপ্তঘুম স্মৃতিশক্তি

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ