MD. Razib Ali
Senior Reporter
প্রস্রাবের রঙই বলবে শরীরে কোন রোগ বাসা বেঁধেছে
প্রস্রাব সাধারণত আমরা হলুদ রঙের হিসেবেই চিনে থাকি। কিন্তু জানেন কি, প্রস্রাবের রঙ শুধু হলুদ নয়, বরং লাল, কমলা, সবুজ, নীল, এমনকি বেগুনিও হতে পারে? সম্প্রতি বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্রাবের রঙের এই ভিন্নতা আপনার শরীরের ভেতরের বিভিন্ন সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়। প্রস্রাবের রঙ দেখে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন আপনার শরীরে কোনো রোগ বাসা বাঁধছে কি না।
প্রস্রাব আসলে কী?
প্রস্রাব হলো শরীরের বর্জ্য পদার্থ বের করার একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। মূলত প্রোটিন, লোহিত রক্তকণিকা এবং মাংসপেশি ভেঙে তৈরি হওয়া নাইট্রোজেনজাত বর্জ্য যেমন—ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। প্রস্রাবের এই রঙের পরিবর্তনের পেছনে লুকিয়ে থাকে শরীরের নানা জটিলতা।
রঙের ভিন্নতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি: কোন রঙ কীসের লক্ষণ?
চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, প্রস্রাবের বিভিন্ন রঙ শরীরের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থার জানান দেয়। নিচে এর বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. লাল রঙের প্রস্রাব: বিপদের সংকেত?
প্রস্রাব লাল হওয়া মানেই হলো এতে রক্ত মিশে আছে। কিডনি, প্রোস্টেট, মূত্রনালি বা মূত্রাশয়ে কোনো কারণে রক্তপাত হলে প্রস্রাব লাল হয়। কিডনিতে পাথর, ক্যান্সার, সংক্রমণ কিংবা কোনো আঘাতের কারণে এমনটা হতে পারে। তবে ভয়ের কিছু নেই, যদি আপনি সম্প্রতি বেশি পরিমাণে বিটরুট খেয়ে থাকেন, তবে সাময়িকভাবেও প্রস্রাব লালচে হতে পারে।
২. কমলা ও গাঢ় হলুদ: পানিশূন্যতা ও লিভারের সমস্যা
স্বাভাবিক প্রস্রাব হলুদ হয় 'ইউরোবিলিন' নামক উপাদানের কারণে। তবে প্রস্রাব যদি গাঢ় হলুদ বা কমলা রঙের হয়, তবে বুঝতে হবে শরীরে পানির তীব্র ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া পিত্তনালিতে ব্লক বা লিভারের সমস্যা থাকলেও প্রস্রাব কমলা বা বাদামি হতে পারে।
৩. সবুজ ও নীল প্রস্রাব: বিরল কিন্তু সম্ভব
শুনতে অবাক লাগলেও বিশেষ কিছু খাবার, ওষুধ বা ব্যাকটেরিয়ার (যেমন: সিউডোমোনাস অ্যারুগিনোসা) সংক্রমণের কারণে প্রস্রাব সবুজ বা নীল হতে পারে। সংক্রমণের ক্ষেত্রে রঙের পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
৪. বেগুনি বা গোলাপি প্রস্রাব
প্রস্রাব বেগুনি হওয়া সাধারণত 'পোরফাইরিয়া' বা 'পার্পল ইউরিন ব্যাগ সিনড্রোম'-এর লক্ষণ। আবার সামান্য পরিমাণ বিটরুট বা খুব অল্প রক্ত থাকলে প্রস্রাব গোলাপি বা রোজ ওয়াইনের মতো রঙ ধারণ করতে পারে।
৫. গাঢ় বাদামি বা কালো: কোকা-কোলার মতো রঙ
প্রস্রাব যদি অতিরিক্ত গাঢ় বাদামি বা কোকা-কোলার মতো হয়, তবে এটি র্যাবডোমাইলাইসিস, কিডনির প্রদাহ বা শরীরে অতিরিক্ত বিলিরুবিনের উপস্থিতির সংকেত দেয়। এটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির লক্ষণ হতে পারে।
৬. রঙহীন বা পাতলা প্রস্রাব
প্রস্রাব যদি পানির মতো একদম স্বচ্ছ বা অতিরিক্ত পাতলা হয়, তবে সেটি ডায়াবেটিস বা অতিরিক্ত মদ্যপানের ইঙ্গিত হতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ
চিকিৎসকদের মতে, প্রস্রাবের রঙ শরীরের অবস্থা বোঝার একটি প্রাথমিক সূচক হলেও এটি সবসময় শতভাগ নির্ভুল নয়। তাই প্রস্রাবে কোনো অস্বাভাবিক রঙ বা পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য সচেতনতা বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই।
প্রস্রাবের রঙ ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন (FAQ)
১. স্বাভাবিক প্রস্রাবের রঙ কেমন হওয়া উচিত?
উত্তর: স্বাভাবিক প্রস্রাব সাধারণত হালকা হলুদ রঙের হয়ে থাকে। প্রস্রাবের এই হলুদ রঙের জন্য দায়ী হলো 'ইউরোবিলিন' নামক এক ধরণের উপাদান।
২. প্রস্রাব লাল হওয়া কি সবসময় বিপদের লক্ষণ?
উত্তর: প্রস্রাব লাল হওয়া সাধারণত প্রস্রাবে রক্ত মিশে থাকার ইঙ্গিত দেয়, যা কিডনি পাথর, ইনফেকশন বা অন্য গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। তবে অতিরিক্ত বিটরুট খেলেও সাময়িকভাবে প্রস্রাব লালচে হতে পারে। যদি রঙ পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
৩. শরীর পানিশূন্য হলে প্রস্রাবের রঙ কেমন হয়?
উত্তর: শরীরে পানির অভাব বা ডিহাইড্রেশন থাকলে প্রস্রাব গাঢ় হলুদ বা কমলা রঙের হয়ে যায়। পর্যাপ্ত পানি পান করলে এই সমস্যা সাধারণত ঠিক হয়ে যায়।
৪. প্রস্রাব সবুজ বা নীল হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: এটি বেশ বিরল। সাধারণত বিশেষ কোনো খাবার, নির্দিষ্ট ওষুধের প্রভাব অথবা 'সিউডোমোনাস অ্যারুগিনোসা' নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে প্রস্রাব সবুজ বা নীল হতে পারে।
৫. প্রস্রাব যদি একদম স্বচ্ছ বা পানির মতো হয়, তবে কি কোনো সমস্যা?
উত্তর: প্রস্রাব অতিরিক্ত স্বচ্ছ বা পাতলা হওয়া সবসময় ভালো লক্ষণ নয়। এটি অনেক সময় ডায়াবেটিস বা অতিরিক্ত মদ্যপানের ইঙ্গিত হতে পারে।
৬. প্রস্রাবের রঙ দেখে কি লিভারের সমস্যা বোঝা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, প্রস্রাব যদি কমলা বা বাদামি রঙের হয়, তবে তা লিভারের সমস্যা বা পিত্তনালিতে ব্লকের লক্ষণ হতে পারে।
৭. কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি?
উত্তর: যদি প্রস্রাবের রঙ অস্বাভাবিক হয় এবং তা পর্যাপ্ত পানি পানের পরেও স্বাভাবিক না হয়, কিংবা প্রস্রাবের সাথে ব্যথা বা জ্বালাপোড়া থাকে, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আজকের স্বর্ণের দাম: (সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
- ৬১৫০ কোটির ক্ষতি রুখতে বিসিবিকে ৩ বড় সুবিধা দিচ্ছে আইসিসি
- লুব-রেফের মহাপ্রতারণা: ভুয়া সম্পদের আড়ালে আইপিওর শত কোটি টাকা গায়েব
- ‘অদম্য বাংলাদেশ’ কাপের ফাইনাল: চলছে দুর্বার বনাম ধূমকেতু ম্যাচ, সরাসরি দেখুন Live
- ৪ দিন বন্ধ ইন্টারনেট ব্যাংকিং: জরুরি নির্দেশনা জারি
- অকালেই বাড়ছে লিভার ক্যানসার! যকৃতের সুরক্ষায় সেরা ৭ খাবার জানুন
- ভারত-পাক-বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রস্তাব! কী বলছে আইসিসি?
- স্বর্ণের বাজারে নতুন রেকর্ড: আজ থেকে ভরিতে গুনতে হবে অতিরিক্ত টাকা
- ইউসিবি ব্যাংকে বড় নিয়োগ: আজই অনলাইনে আবেদন করুন
- ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ খেলতে আইসিসিকে ৩ শর্ত, লাভ হবে বাংলাদেশের
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট ও সোনার দাম (৯ ফেব্রুয়ারি)
- সাবধান! কিডনি বিকল হওয়ার আগে এই ৫ জায়গায় ব্যথা হয়
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নিল পিসিবি প্রধান
- পুরুষের ত্বকের যত্নে ৩টি জরুরি কাজ; আজই জেনে নিন
- আবহাওয়া পরিবর্তনে কাশি? ৪ ঘরোয়া উপায়ে দ্রুত মুক্তি