MD. Razib Ali
Senior Reporter
গরুর দুধ কি আসলেই উপকারী? জেনে নিন বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
মানব সভ্যতার বিবর্তনে গরুর দুধের ভূমিকা অপরিসীম। আদিকাল থেকেই সুস্বাস্থ্যের সমার্থক হিসেবে এই পানীয়টি আমাদের খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। হাড় শক্ত করা থেকে শুরু করে শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি—দুধের গুণগান শোনা যায় সবখানেই। কিন্তু বিজ্ঞানের মানদণ্ডে এর কার্যকারিতা ঠিক কতটুকু? সবার শরীর কি একইভাবে এই পানীয় গ্রহণ করতে পারে? সাম্প্রতিক গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে এর স্বরূপ সন্ধান করা জরুরি।
হাড়ের সুরক্ষা ও দৈহিক বৃদ্ধিতে ভূমিকা
শারীরিক কাঠামোর ভিত্তি মজবুত করতে গরুর দুধের জুড়ি মেলা ভার। এতে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন শরীরের কোষ পুনর্গঠন এবং পেশির বিকাশে মূল কারিগরের ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে বাড়ন্ত শিশু, কিশোর-কিশোরী এবং যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, তাদের জন্য এটি অপরিহার্য।
দুধ মূলত ক্যালসিয়ামের আধার, যা দাঁত ও হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখে। নিয়মিত দুধ পানে বার্ধক্যজনিত হাড়ের রোগ ‘অস্টিওপোরোসিস’ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এছাড়া এতে বিদ্যমান ভিটামিন বি১২ রক্তকণিকা তৈরিতে এবং পটাশিয়াম ও ফসফরাস হৃৎপিণ্ডের ছন্দ স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ সহায়তা করে।
হজমের জটিলতা: কেন সবার জন্য দুধ নয়?
অনেকের ক্ষেত্রেই এক গ্লাস দুধ পানের পর পেটে অস্বস্তি শুরু হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স’। আসলে দুধে ল্যাকটোজ নামক এক ধরণের প্রাকৃতিক চিনি থাকে, যা হজম করার জন্য ল্যাকটেজ এনজাইমের প্রয়োজন। অনেকের শরীরে এই এনজাইমের ঘাটতি থাকায় গ্যাস, পেট ফাঁপা কিংবা ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে সরাসরি দুধের বদলে দই বা পনিরের মতো ফারমেন্টেড বা সন্ধান করা খাবার বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ এগুলো অনেক বেশি সহজপাচ্য।
ওজন নিয়ন্ত্রণ ও হৃদরোগের ঝুঁকি
দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা প্রচলিত ছিল যে, পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। পরিমিত পরিমাণে দুধ পান করলে সুস্থ ব্যক্তির হৃৎপিণ্ডে তেমন কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না। তবে যারা স্থূলতা বা উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য ফ্যাটবিহীন বা স্কিমড মিল্ক বেশি নিরাপদ।
ওজন কমানোর দৌড়েও দুধ আপনাকে সাহায্য করতে পারে। প্রোটিনসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি পান করার পর দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা অনুভূত হয় না, যা অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের প্রবণতা কমিয়ে দেয়। তবে বাজারজাত বিভিন্ন ফ্লেভার্ড বা চিনিযুক্ত দুধ উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে।
বয়স ও ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
নবজাতকের ক্ষেত্রে এক বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধই একমাত্র বিকল্প। শিশুর বয়স এক বছর পার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে গরুর দুধ দেওয়া যেতে পারে। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সুষম ডায়েটের অংশ হিসেবে প্রতিদিন এক থেকে দুই গ্লাস দুধ পান করাই যথেষ্ট।
সামগ্রিক সুস্থতা ও রূপচর্চা
চুল ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতেও দুধের পরোক্ষ অবদান রয়েছে। এতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনসমূহ দেহের অভ্যন্তরীণ পুষ্টি নিশ্চিত করে, যার প্রতিফলন ঘটে আমাদের অবয়বে। যদিও সরাসরি দুধ পানেই রাতারাতি উজ্জ্বলতা বাড়ে—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই, তবে একটি সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে এটি শরীরের লাবণ্য ধরে রাখতে সহায়ক।
গরুর দুধকে এককভাবে ভালো বা খারাপ বলার সুযোগ নেই। এটি মূলত নির্ভর করে ব্যক্তির শারীরিক গঠন ও সহনশীলতার ওপর। যাদের ল্যাকটোজ গ্রহণে সমস্যা নেই, তাদের জন্য এটি একটি পুষ্টিকর সুপারফুড। তবে কোনো ধরণের অ্যালার্জি বা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা সাজানোই শ্রেয়।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- একই জমির মালিক দুইজন? সত্যতা যাচাই করবেন যেভাবে
- জমির খতিয়ান অনলাইনে দেখার নিয়ম ও কপি পাওয়ার পদ্ধতি
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনা ও রুপার দাম কত
- জমির দলিল তুলতে কত টাকা লাগে? জেনে নিন খরচের হিসাব
- আজ ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনা ও রুপার দাম কত
- দলিল ও খতিয়ানে জমির পরিমাণ আলাদা? জেনে নিন করণীয়
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ১৭টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- OPPO Reno 17 Pro: লঞ্চ কবে, দাম কত ও কী থাকছে নতুন ফিচারে?
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ৪টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ১৮টি দেশের টাকার মান
- আজকের সোনার দাম কত: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনা ও রুপার দাম
- Pulsar F250-এ ২০ হাজার টাকা ছাড়, N160 ও 150-এ উপহার
- Royal Enfield Himalayan 750-এর দাম ও লঞ্চ নিয়ে যা জানা গেল