ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২

Alamin Islam

Senior Reporter

রাতে কি ঘুম আসে না? জেনে নিন দ্রুত ঘুমের সহজ উপায়

লাইফ স্টাইল ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ১০:১১:৫১
রাতে কি ঘুম আসে না? জেনে নিন দ্রুত ঘুমের সহজ উপায়

সুস্থ থাকার জন্য পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন ঘুম অপরিহার্য। তবে আধুনিক জীবনে অনেকের কাছেই 'শান্তির ঘুম' একটি বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিনের অনিদ্রা কেবল ক্লান্তিই আনে না, বরং এটি আমাদের স্মরণশক্তি কমিয়ে দেয় এবং মেজাজ খিটখিটে করে তোলে। শুধু তাই নয়, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শরীরে উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তবে দুশ্চিন্তার কারণ নেই। আপনার দৈনন্দিন অভ্যাসে সামান্য কিছু পরিবর্তন আনলেই কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া ফিরে পেতে পারেন স্বাভাবিক ঘুম। জেনে নিন প্রাকৃতিক উপায়ে অনিদ্রা দূর করার কার্যকর কিছু কৌশল:

১. ঘুমের সহায়ক পানীয়র সাহায্য নিন

যাঁরা ঘুমের জন্য ওষুধের বিকল্প খুঁজছেন, তাঁদের জন্য উষ্ণ দুধ কিংবা ক্যামোমাইল চা হতে পারে সেরা সমাধান। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, গরম দুধ মস্তিষ্কে 'ট্রিপটোফ্যান'-এর প্রভাব তৈরি করে, যা মূলত সেরোটোনিন তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এই উপাদানটি আমাদের শরীরের ঘুম-জাগরণের চক্রকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, ক্যামোমাইল চায়ে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড মস্তিষ্কের রিসেপ্টরকে শান্ত করে দ্রুত ঘুম আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

২. ব্যায়ামের সময় নির্বাচনে সতর্কতা

শারীরিক পরিশ্রম বা অ্যারোবিক ব্যায়াম ঘুমের গভীরতা বাড়াতে দারুণ কার্যকর। তবে ব্যায়ামের সঠিক সময় জানাটা জরুরি। শরীরচর্চা করলে শরীরে 'এন্ডোরফিন' নিঃসরণ হয় এবং শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যা মস্তিষ্ককে সজাগ থাকার সংকেত পাঠায়। তাই অনিদ্রার সমস্যা থাকলে ঘুমানোর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে সব ধরণের ব্যায়াম শেষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

৩. শোবার ঘরের পরিবেশ ও পোশাক

গভীর ঘুমের জন্য ঘরের তাপমাত্রা একটি বড় ভূমিকা পালন করে। বিছানায় যাওয়ার আগে নিশ্চিত করুন যেন আপনার ঘরটি পর্যাপ্ত শীতল থাকে। আরামদায়ক ঘুমের জন্য সুতি বা পাতলা কাপড়ের পোশাক নির্বাচন করা বুদ্ধিমানের কাজ। ঘরের পরিবেশ যতটা শীতল ও আরামদায়ক হবে, আপনার স্নায়ু তত দ্রুত শিথিল হবে এবং দ্রুত ঘুম আসবে।

৪. আলোর নিয়ন্ত্রণ ও ডিভাইসের ব্যবহার

রাতে ভালো ঘুমের জন্য অন্ধকার পরিবেশ অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে স্মার্টফোনের নীল আলো ঘুমের হরমোন নষ্ট করে। এমনকি রাতে যদি বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে ঘরের উজ্জ্বল আলো না জ্বালিয়ে মৃদু আলোর টর্চ ব্যবহার করা ভালো। কারণ তীব্র আলো দৃষ্টিতে পড়লে মস্তিষ্ক সজাগ হয়ে যায়, ফলে পুনরায় গভীর ঘুমে ফিরতে বেশ কিছুটা সময় লেগে যেতে পারে।

প্রাকৃতিক এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণের মাধ্যমে আপনি শরীর ও মনকে শান্ত করতে পারেন, যা কোনো প্রকার ওষুধের সাহায্য ছাড়াই আপনাকে দেবে একটি প্রশান্তিময় রাত।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ