ঢাকা, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২

MD. Razib Ali

Senior Reporter

কিডনি নষ্টের ৫ বছর আগেই মিলবে সংকেত! ১টি টেস্টই যথেষ্ট

লাইফ স্টাইল ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১৬:২৪:৪৪
কিডনি নষ্টের ৫ বছর আগেই মিলবে সংকেত! ১টি টেস্টই যথেষ্ট

শরীরে কোনো লক্ষণ নেই, অথচ ভেতরে ভেতরে অকেজো হয়ে যাচ্ছে কিডনি—এমন ‘নীরব ঘাতক’ ব্যাধি থেকে বাঁচতে এবার নতুন দিশা দেখালেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণত ডায়ালাইসিসের পর্যায় যাওয়ার আগে মানুষ বুঝতেই পারে না তার কিডনি কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত। তবে অভিজ্ঞ ডায়াবেটোলজিস্ট ডা. ব্রিজমোহন অরোরা এক বৈপ্লবিক তথ্য দিয়েছেন। তার মতে, মাত্র একটি সাধারণ প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমেই কিডনি বিকল হওয়ার অন্তত ৫ বছর আগেই সতর্কবার্তা পাওয়া সম্ভব।

ক্রিয়েটিনিন যখন বিপদের শেষ ধাপ

আমরা সাধারণত রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা দেখেই কিডনির সুস্থতা পরিমাপ করি। কিন্তু ডা. অরোরা বলছেন ভিন্ন কথা। তার মতে, রক্তে যখন ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বাড়তে শুরু করে (বিশেষ করে ১.৩-এর উপরে), তখন বুঝতে হবে কিডনির ক্ষতি ইতোমধ্যে অনেকখানি হয়ে গেছে। দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ থাকতে ক্রিয়েটিনিনের মান ১.০-এর নিচে রাখাই হলো আদর্শ। কিন্তু শুধু এর ওপর নির্ভর করলে অনেক সময় চিকিৎসার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়।

আশীর্বাদ হয়ে আসা ‘ইউরিন এসিআর’ পরীক্ষা

চিকিৎসা বিজ্ঞানের আধুনিক তথ্যানুযায়ী, ‘ইউরিন এসিআর’ (Urine ACR) হলো কিডনির বর্তমান অবস্থা বোঝার সবচেয়ে সূক্ষ্ম মাপকাঠি। কিডনি যখন প্রাথমিক চাপে থাকে, তখন সেখান থেকে অতি সামান্য পরিমাণে প্রোটিন বা অ্যালবুমিন লিক হতে শুরু করে। রক্ত পরীক্ষায় কোনো পরিবর্তন আসার ৫ বছর আগেই এই লিক হওয়া শনাক্ত করতে পারে ইউরিন এসিআর টেস্ট।

ডা. অরোরা জানান, যদি এই পরীক্ষার মান ৩০-এর নিচে থাকে, তবে আপনার কিডনি সুস্থ। ৩০-এর বেশি হওয়া মানেই হলো কিডনি প্রোটিন ধরে রাখতে পারছে না এবং বড় কোনো বিপদের দিকে এগোচ্ছে।

কেন এই আগাম সতর্কতা জরুরি?

কিডনি রোগের সবচেয়ে আতঙ্কজনক দিক হলো এর দেরিতে ধরা পড়া। যখন সমস্যা ধরা পড়ে, তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডায়ালাইসিস ছাড়া উপায় থাকে না। অথচ ৫ বছর আগে যদি এই ‘কিডনি স্ট্রেস’ শনাক্ত করা যায়, তবে সঠিক জীবনযাত্রা ও চিকিৎসার মাধ্যমে ক্ষতি থামিয়ে দেওয়া, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে কিডনিকে সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনাও সম্ভব।

কারা থাকবেন বিশেষ সতর্কতায়?

কিডনি সুস্থ রাখতে ডা. অরোরা বছরে অন্তত ১ থেকে ২ বার স্ক্রিনিং করার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে নিচের ব্যক্তিদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত:

যাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই।

যারা দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপের রোগী।

যাদের পরিবারে কিডনি সমস্যার ইতিহাস রয়েছে।

মনে রাখবেন, উপসর্গ দেখে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার চেয়ে আগাম সতর্কতা অনেক বেশি কার্যকর। একটি সাধারণ ইউরিন টেস্টই হতে পারে আপনার দীর্ঘায়ু হওয়ার নিশ্চয়তা এবং ডায়ালাইসিস এড়ানোর একমাত্র চাবিকাঠি।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ