MD. Razib Ali
Senior Reporter
চোখের দৃষ্টি ঝাপসা? ৫টি লক্ষণ এড়িয়ে গেলেই চরম বিপদ!
দৈনন্দিন ব্যস্ততা কিংবা দীর্ঘক্ষণ ডিজিটাল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের ক্লান্তি আসা স্বাভাবিক। তবে যদি হঠাৎ করে আপনার এক চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়, তবে সাবধান! এটিকে সামান্য অবসাদ বা ঘুমের অভাব ভেবে ভুল করবেন না। চিকিৎসকদের মতে, আকস্মিক এই পরিবর্তন কোনো বড় শারীরিক জটিলতার আগাম সতর্কতা হতে পারে। সময়মতো গুরুত্ব না দিলে চোখের জ্যোতি চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
শরীরের গোপন সতর্কতা: কেন এমন হয়?
কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটের জন্য দৃষ্টিশক্তি ঘোলাটে হয়ে আসা শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনো গুরুতর সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে। মূলত ৫টি প্রধান কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে:
১. রেটিনা বিচ্যুতি (Retinal Detachment): চোখের সংবেদনশীল রেটিনা যদি তার নির্দিষ্ট স্থান থেকে আলগা হয়ে যায়।
২. চক্ষু নালিতে রক্তস্রোত বাধাগ্রস্ত হওয়া: যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘আই স্ট্রোক’ বলা হয়। রেটিনার ধমনিতে রক্ত চলাচল বন্ধ হলে এমনটা ঘটে।
৩. স্নায়ুর জটিলতা: অপটিক স্নায়ুর প্রদাহ বা অপটিক নিউরাইটিসের কারণেও দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে।
৪. চোখের অস্বাভাবিক চাপ: হঠাৎ করে চোখের অভ্যন্তরে চাপের পরিমাণ বেড়ে গেলে (অ্যাকিউট অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমা) এ সমস্যা দেখা দেয়।
৫. মস্তিষ্কের স্ট্রোক: অনেক সময় দৃষ্টির সমস্যা চোখের নয়, বরং মস্তিষ্কের হয়। মস্তিষ্কের যে অংশ আমাদের দেখা নিয়ন্ত্রণ করে, সেখানে রক্তক্ষরণ বা রক্ত সঞ্চালন বিঘ্নিত হলে দৃষ্টিশক্তি আক্রান্ত হয়।
ঝুঁকির মুখে আছেন যারা
চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যারা দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, হৃদরোগ কিংবা রক্তনালির সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য এই লক্ষণটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। এছাড়া হাত-পায়ে দুর্বলতা, কথা বলতে জড়তা কিংবা মাথা ঘোরার মতো লক্ষণের সাথে দৃষ্টি ঝাপসা হলে সেটি স্ট্রোকের বড় পূর্বাভাস হতে পারে।
লাল সংকেত: কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?
কিছু লক্ষণ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে:
চোখের অসহ্য যন্ত্রণার সঙ্গে লালচে ভাব।
দৃষ্টিসীমার সামনে কালো দাগ ঘোরাফেরা করা বা আলোর ঝিলিক দেখা।
মাথাব্যথার তীব্রতার সঙ্গে বমি বমি ভাব।
হঠাৎ করে এক চোখে দেখার ক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলা।
শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে আসা বা কথা বলতে কষ্ট হওয়া।
কেন নিজে ডাক্তারি করা বিপজ্জনক?
চোখ শুকনো থাকা, মাইগ্রেন কিংবা চশমার পাওয়ার পরিবর্তনের কারণেও মাঝে মাঝে অস্পষ্ট দেখার সমস্যা হতে পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা অসম্ভব যে কোনটি সাধারণ সমস্যা আর কোনটি জরুরি অবস্থা। তাই নিজে অনুমান না করে দ্রুত আধুনিক ইমেজিং ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কারণটি নিশ্চিত করা জরুরি।
চিকিৎসায় দেরি হওয়া মানেই চোখের অপূরণীয় ক্ষতি। বর্তমানে উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে দ্রুত রোগ শনাক্ত করা সম্ভব। মনে রাখবেন, শরীরের দেওয়া এই ছোট সংকেতটি গুরুত্ব সহকারে নিলে আপনি স্থায়ী অন্ধত্বের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে পারেন।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ডিএসইতে একসঙ্গে ৭ অনুমোদিত প্রতিনিধি প্রত্যাহার
- মেঘনা কনডেন্সডের শেয়ার নিয়ে ডিএসইর ‘বাই-ইন’ ঘোষণা
- তাপস পালের নেতৃত্বে মার্কেন্টাইল ব্যাংকে ১২০০ কোটি টাকা আত্মসাত
- স্বর্ণ কিনতে যাওয়ার আগে দেখে নিন আজকের বাজারদর
- ঢাকাসহ ৮ বিভাগে যে পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর
- পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে বড় খবর, যে কারণে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
- কোল্ড ড্রিংকস খেলে অ্যাসিডিটি কমে, নাকি বাড়ে? জানুন সত্য
- ওবায়দুল কাদেরের সেই ‘মাসুদ’ বদলি
- বিনা সুদে ১০ হাজার টাকা ঋণ! কারা পাবেন, কীভাবে নিতে হবে
- সংযোগ নেই, মিটারও নেই—তবুও হাতে বিদ্যুৎ বিল!
- বদলে গেল পরিস্থিতি, বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ব্যবস্থা ভারতে
- আবারও বাড়ল সোনার দাম, আজকের বাজারদর জেনে নিন
- এক ক্লিকেই কি বাড়বে ওয়াই-ফাই স্পিড? জেনে নিন বাস্তবতা
- স্বর্ণ কিনতে যাওয়ার আগে দেখে নিন আজকের বাজারদর
- মূল আমানত ফেরত দেবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক, জেনে নিন নিয়ম