Md. Mithon Sheikh
Senior Reporter
অতিরিক্ত চা পান করলে কিডনিতে পাথর? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
বাংলাদেশসহ সমগ্র বাঙালি সংস্কৃতিতে চায়ের জনপ্রিয়তা অনেক পুরোনো। সকালে ঘুম ভাঙার পর, অফিসের ফাঁকে কিংবা বন্ধুদের আড্ডায়—এক কাপ চা যেন প্রায় সবার কাছেই স্বাভাবিক অভ্যাস। তবে এই পরিচিত পানীয়টি যদি অতিরিক্ত পরিমাণে পান করা হয়, তাহলে তা শরীরের জন্য, বিশেষ করে কিডনির জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমিত পরিমাণে চা পান সাধারণত ক্ষতিকর নয় এবং অনেক ক্ষেত্রে এটি শরীরকে সতেজও রাখে। কিন্তু যখন চা পান করার পরিমাণ বাড়তে থাকে এবং দিনে বারবার ঘন চা খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়, তখন তা ধীরে ধীরে কিডনির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অভ্যাস থাকলে কিডনিতে পাথর হওয়ার আশঙ্কাও বেড়ে যায়।
অতিরিক্ত চা পান কিডনিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে
১. অক্সালেট জমে পাথর তৈরি
চায়ের মধ্যে অক্সালেট নামে একটি প্রাকৃতিক উপাদান থাকে। কেউ যদি নিয়মিত বেশি পরিমাণে চা পান করেন, তাহলে শরীরে এই অক্সালেটের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। পরে এটি ক্যালসিয়ামের সঙ্গে মিশে ক্যালসিয়াম অক্সালেট ক্রিস্টাল তৈরি করে। এই ধরনের ক্রিস্টালই অনেক ক্ষেত্রে কিডনিতে পাথর তৈরির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা যায়।
২. ক্যাফেইনের কারণে ডিহাইড্রেশন
চায়ে থাকা ক্যাফেইন শরীরে মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে। ফলে প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে এবং শরীর থেকে তুলনামূলক বেশি পানি বের হয়ে যায়। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে এতে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি তৈরি হয়। আর শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হলে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
৩. কিডনির ওপর বাড়তি চাপ
দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চা পান করলে কিডনিকে বেশি কাজ করতে হয়। এতে ধীরে ধীরে কিডনির স্বাভাবিক ফিল্টারিং প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে যেতে পারে। যাদের আগে থেকেই কিডনিসংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কোন লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হবেন
যদি আপনার চা পানের অভ্যাস বেশি হয় এবং নিচের লক্ষণগুলোর কোনোটি দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে সচেতন হওয়া জরুরি এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—
১. প্রস্রাবের অস্বাভাবিকতা
প্রস্রাবের পরিমাণ হঠাৎ কমে যাওয়া বা অস্বাভাবিকভাবে বারবার প্রস্রাব হওয়া।
২. প্রস্রাবের রঙের পরিবর্তন
প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হয়ে যাওয়া বা লালচে আভা দেখা দেওয়া, যা কখনো কখনো রক্তের উপস্থিতির ইঙ্গিত দিতে পারে।
৩. শরীরে ফোলাভাব
চোখের নিচে, মুখে, পায়ে বা গোড়ালিতে অস্বাভাবিক ফোলাভাব দেখা দেওয়া।
৪. পিঠ বা কোমরে ব্যথা
কোমরের নিচের অংশে বা পাশে স্থায়ী ধরনের ব্যথা অনুভূত হওয়া।
৫. অতিরিক্ত দুর্বলতা
শরীরে ক্লান্তি, শক্তিহীনতা বা মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হওয়া।
কতটুকু চা পান করা নিরাপদ
বিশেষজ্ঞদের মতে, চা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে দিনে দুই থেকে তিন কাপের বেশি চা পান না করাই ভালো। পাশাপাশি শরীরের পানির ভারসাম্য ঠিক রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন।
কারণ, চা যতই প্রিয় হোক না কেন, সুস্থ কিডনি ছাড়া সুস্থ জীবন সম্ভব নয়। তাই চা পান করুন পরিমিতভাবে এবং নিজের শরীরের প্রতি সচেতন থাকুন।
মাহমুদা/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- বিশাল বিনিয়োগ ৩ লাখ ২ হাজার শেয়ার কেনার ঘোষণা
- বিমা খাতের বিনিয়োগকারীদের নজর ১৬ এপ্রিল: বড় লভ্যাংশের আভাস
- এক লাফে বাড়লো সোনার দাম, জানুন ২২ স্বর্ণের দাম
- খেলার মাঝেই নিখোঁজ ৭ ফুটবলার! তোলপাড় বিশ্ব ফুটবল
- রোনালদোর মাইলফলক থেকে ৬ গোল বাদ পড়ায় তোলপাড়
- রেকর্ড ভাঙল স্বর্ণের দাম: ৩ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে সোনা
- ২ লাখ ৬০ হাজার শেয়ার উপহার
- সুস্থ থাকতে দিনে ঠিক কয়টি খেজুর খাবেন? জানুন পুষ্টিবিদদের পরামর্শ
- আজকের খেলার সময়সূচি:বার্সেলোনা বনাম আতলেতিকো
- বার্সেলোনা বনাম আতলেতিকো: সম্ভাব্য একাদশ ও প্রেডিকশন
- আজকের খেলার সময়সূচি:ইসলামাবাদ বনাম লাহোর
- ৬০ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী, ৩ জেলায় বড় সতর্কতা
- পিএসজি বনাম লিভারপুল: সম্ভাব্য একাদশ ও ম্যাচ প্রেডিকশন
- বিএসইসির বড় অ্যাকশন: নিষিদ্ধ ফারইস্ট লাইফের অডিটর
- ৮০ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী, ৫ বিভাগে সতর্কবার্তা