Md Razib Ali
Senior Reporter
শেয়ারবাজার সংস্কারে এডিবির বড় প্রস্তাব: আমূল বদলে যাবে বন্ড মার্কেট
বাংলাদেশের মূলধন বাজারে এক নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। শেয়ারবাজারের কাঠামোগত সংস্কার এবং বিনিয়োগের পরিবেশ শক্তিশালী করতে এবার সরাসরি হাত বাড়িয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বিশেষ করে দেশের বন্ড মার্কেটকে গতিশীল করতে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ‘বন্ড গ্যারান্টি ফান্ড’ গঠনের কারিগরি প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি।
সম্প্রতি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি-র আগারগাঁও কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় এডিবির প্রতিনিধি দল এই আগ্রহের কথা জানায়। বৈঠকটি মূলত দেশের ফিক্সড-ইনকাম সিকিউরিটিজ খাতে বিনিয়োগকারীদের ভীতি দূর করে আস্থার জায়গা তৈরি করার লক্ষ্যেই আয়োজিত হয়।
বন্ড মার্কেটে নতুন আশার আলো
বিএসইসি ও এডিবির আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে একটি টেকসই ‘বন্ড গ্যারান্টি ফান্ড’ তৈরির বিষয়টি। এই ফান্ডটি কীভাবে কাজ করবে এবং এর প্রভাব কী হবে, তা নিয়ে একটি বিস্তারিত সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি করার প্রস্তাব দিয়েছে এডিবি। শুধু তাই নয়, এই বিশেষ তহবিলটি তদারকি ও পরিচালনার জন্য কোনো উপযুক্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া যায় কি না, তা খুঁজে বের করতেও পূর্ণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দাতা সংস্থাটি। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বন্ড মার্কেট শক্তিশালী হলে বড় অংকের দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের পথ সুগম হবে।
৩ বছরে বাজার মূলধন চারগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা
বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের উপস্থিতিতে এই বৈঠকে আগামী তিন বছরের জন্য একটি সাহসী রোডম্যাপ তুলে ধরা হয়। বর্তমানে দেশের জিডিপির তুলনায় বাজার মূলধনের অনুপাত মাত্র ১০ শতাংশ, যা তিন বছরের মধ্যে ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
এই বিশাল লক্ষ্য অর্জনে বিএসইসি একটি নিবিড় ‘ক্যাপিটাল মার্কেট ডায়াগনস্টিক’ বা সামগ্রিক বাজার বিশ্লেষণ প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে বাজারের ত্রুটিগুলো শনাক্ত করে দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই উন্নয়নের পথ তৈরি করা হবে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজারে আনতে প্রয়োজনীয় কর ছাড় ও নীতিমালার আধুনিকায়ন নিয়ে বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
স্বচ্ছতায় জোর: পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন ও আইওএসসিও স্ট্যান্ডার্ড
লেনদেনে কোনো ধরণের অস্পষ্টতা না রাখতে এবং বিনিয়োগকারীদের তথ্যের নিরাপত্তা দিতে বিএসইসি এখন ডিজিটাল রূপান্তরের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাজারের তথ্য আদান-প্রদান এবং লেনদেন ব্যবস্থাকে শতভাগ অটোমেশনের আওতায় আনার কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (IOSCO) বজায় রেখে স্থানীয় পুঁজিবাজারকে বিশ্বমানের করে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে কমিশন।
ব্যাংক ঋণ নয়, নজর এখন শেয়ারবাজারের অর্থায়নে
দেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর চাপের আধিক্য কমাতে বড় ঋণগ্রহীতাদের জন্য নতুন নিয়ম আনতে যাচ্ছে বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংক। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এখন থেকে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রয়োজনীয় মূলধনের জন্য শুধু ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল না থেকে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করবে। এজন্য দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা মিলে একটি যৌথ ফ্রেমওয়ার্ক বা নীতিমালা তৈরি করছে। এর ফলে একদিকে ব্যাংক খাতের ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে পুঁজিবাজারে মানসম্মত সিকিউরিটিজের প্রবাহ বাড়বে।
বিএসইসির এই সংস্কার অভিযানে এডিবির সরাসরি সম্পৃক্ততা দেশের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।
তানভির ইসলাম/