Md Razib Ali
Senior Reporter
শেয়ারবাজারে বড় পদক্ষেপ: ৪ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্তে বিএসইসি
দেশের পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং বিনিয়োগকারীদের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সম্প্রতি বাজারের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার মতো বিভিন্ন অভিযোগ ওঠায় চারটি প্রধান মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে সংস্থাটি।
গত ১১ মার্চ বিএসইসি এক আদেশের মাধ্যমে এই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। কমিশনের মুখপাত্র ও পরিচালক আবুল কালাম জানান, এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ, প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ, গ্রিন ডেল্টা সিকিউরিটিজ এবং মার্চেন্ট ব্যাংক লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্টসের কার্যক্রমে একাধিক বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে। এর প্রেক্ষিতেই এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ।
বিএসইসির নজরে যেসব গুরুতর অভিযোগ
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অস্বচ্ছতা খুঁজে বের করা। বিশেষ করে লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্টসের বিরুদ্ধে ১০৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বিপুল পরিমাণ সুদ দায় এড়িয়ে যাওয়ার (ইন্টারেস্ট সাসপেন্স) অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রে মার্জিন ঋণের সীমা লঙ্ঘন এবং গ্রাহকের অজান্তেই হিসাব খোলার মতো অভিযোগ খতিয়ে দেখবে কমিশন।
তদন্তের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো:
আর্থিক মারপ্যাঁচ: নেগেটিভ ইকুইটি বা ঋণাত্মক মূলধন থাকা সত্ত্বেও কোনো প্রতিষ্ঠান আইন ভেঙে লভ্যাংশ দিয়েছে কি না তা দেখা হবে।
তথ্য লুকোচুরি: প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে ক্লায়েন্টের পাওনাকে যথাযথ সঞ্চিতি (প্রভিশন) ছাড়াই সম্পদ হিসেবে দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।
হিসাব পদ্ধতির ত্রুটি: গ্রিন ডেল্টা সিকিউরিটিজের মূলধন ও সুদের হিসাব রক্ষণাবেক্ষণে পদ্ধতিগত ত্রুটি আছে কি না তা যাচাই করা হবে।
৬০ দিনের সময়সীমা ও বিশেষ কমিটি
তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত শেষ করতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা কমিটি গঠন করেছে বিএসইসি।
১. লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্টস: তদন্তের দায়িত্বে আছেন অতিরিক্ত পরিচালক (লিগ্যাল) মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান ও সহকারী পরিচালক অমিত কুমার সাহা।
২. এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ: উপপরিচালক মো. রফিকুন্নবী ও সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সাদেকুর রহমান ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত কমিটি এর অনিয়ম খতিয়ে দেখবে।
৩. প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ: অতিরিক্ত পরিচালক মো. ওহিদুল ইসলাম ও সহকারী পরিচালক মো. মারুফ হাসানকে এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
৪. গ্রিন ডেল্টা সিকিউরিটিজ: অতিরিক্ত পরিচালক উম্মে সালমা এবং সহকারী পরিচালক মো. মতিউর রহমান তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
কমিশন নির্দেশ দিয়েছে যে, প্রতিটি কমিটিকে আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
কাঠগড়ায় পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ
বিএসইসি মনে করছে, দীর্ঘ সময় ধরে এই ধরণের অনিয়ম চলার পেছনে প্রতিষ্ঠানগুলোর সুশাসনের (Corporate Governance) অভাব এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের উদাসীনতা দায়ী। তাই এবারের তদন্তে কেবল প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নয়, বরং পরিচালনা পর্ষদ ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ভূমিকা ও দায়বদ্ধতাও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হবে।
বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এবং বাজারের শৃঙ্খলা রক্ষায় তদন্তের পর দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে বিএসইসি।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- মাত্র দুই দিন শেয়ার কিনলেই শেয়ারপ্রতি ১৮ টাকা বোনাস পাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা
- কারিগরি ত্রুটি কাটিয়ে ছয় মাস পর উৎপাদনে ফিরল এক কোম্পানি
- শেয়ারবাজারের সংকট কাটাতে নতুন উদ্যোগ, একগুচ্ছ প্রস্তাব
- ২১ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি, সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় যে ব্যাংক
- সালমান এফ রহমান মুক্ত হচ্ছে শেয়ারবাজার!
- শেয়ার বাজারের পতন থামাতে অবকাঠামো সংস্কারের তাগিদ, সিসিপি নিয়ে প্রশ্ন
- দরপতন থামছে না, শীর্ষ ব্রোকারদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে ডিএসই
- ব্রাজিলের পরবর্তী ম্যাচ কবে, জেনে নিন পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ও প্রতিপক্ষ
- বাংলাদেশ বনাম উত্তর কোরিয়া: গোল বন্যায় শেষ হলো ম্যাচ
- বিক্রির চাপে ডিএসই, কমেছে প্রধান তিন সূচক
- দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি ২০২৬: কবে থেকে, কত দিন জানুন এক নজরে
- পে-স্কেলের গেজেট কবে প্রকাশ, জানা গেল দিন তারিখ
- আবারও বাড়লো তেলের দাম, জানুন নতুন মুল্য তালিকা
- এআই ঘিরে নতুন শঙ্কা, বিশ্ববাজারে প্রযুক্তি ও চিপ শেয়ারে বড় ধাক্কা
- নিয়মিত ভেজানো ছোলা খাচ্ছেন? জানুন উপকারিতা, ক্ষতি ও কারা খাবেন