ঢাকা, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাবেক রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারিতে নতুন তথ্য

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ১২:৩৬:৪৭
সাবেক রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারিতে নতুন তথ্য

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা (বিএফআইইউ) হাইকোর্টে দাখিল করা এক তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘জেএমসি বিল্ডার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার নিয়ন্ত্রণ এবং এস আলম গ্রুপের স্বার্থ রক্ষায় মো. সাহাবুদ্দিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে আগামী বুধবার বিচারপতি মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএফআইইউয়ের আইনজীবী শামিম খালেদ জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার পর বিষয়টি আরও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে তৎকালীন সরকারের সমর্থনে এবং ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিভিন্ন বিধান উপেক্ষা করে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ারের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।

একই সময়ে জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হন এবং পরবর্তী সময়ে ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হাইকোর্টের নির্দেশে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্ত শুরু করে বিএফআইইউ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে শেয়ার জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, জেএমসি বিল্ডার্স একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে অর্থ বের করে সেই অর্থ ব্যবহার করে পুনরায় ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেনে। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, এই অর্থের একটি বড় অংশ এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল।

এ ছাড়া পরিচালনা পর্ষদে থাকার সময় এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন বেনামি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিপুল পরিমাণ ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রেও মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত সংস্থার দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে ইসলামী ব্যাংক পরবর্তী সময়ে গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়ে।

বিএফআইইউয়ের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও আর্থিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী বুধবারের শুনানিতে হাইকোর্ট এ বিষয়ে কী নির্দেশনা দেন, সেদিকেই এখন সংশ্লিষ্টদের নজর।

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ