ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

শেয়ারবাজারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত! বিএসইসির কাছে ১১ দফা দাবি

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জুলাই ২৮ ১০:৪৮:৪৫
শেয়ারবাজারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত! বিএসইসির কাছে ১১ দফা দাবি

দেশের পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে ১১ দফা সুপারিশ জমা দিয়েছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির দাবি, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বাজারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও তারল্য বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

রোববার সংগঠনটির সভাপতি কাজী মোহাম্মদ নজরুল বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সুপারিশপত্র তুলে দেন। এ সময় বাজারের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করে বিনিয়োগবান অনিয়ম, দুর্নীতি, দুর্বল নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা এবং নীতিগত অসঙ্গতির কারণে দেশের পুঁজিবাজার বিন্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কমিশনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করা হয়।

সুপারিশপত্রে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি, দুর্বল নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা এবং নীতিগত অসঙ্গতির কারণে দেশের পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারীদের আস্থা হারিয়েছে। তবে বর্তমান কমিশনের নেতৃত্বে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে।

সুপারিশের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো

সংগঠনটি প্রস্তাব করেছে, নতুন মার্জিন ঋণ নীতিমালায় শেয়ারভেদে ভিন্ন ভিন্ন ঋণসীমা নির্ধারণ না করে সব তালিকাভুক্ত শেয়ারের জন্য সমান মার্জিন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া আগামী তিন মাসের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বহুজাতিক লাভজনক কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে বাজারে ভালো মানের শেয়ারের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

আইপিও ব্যবস্থায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ৮০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ, আবেদনসীমা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং পুনরায় লটারিভিত্তিক শেয়ার বরাদ্দ চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

রেড জোন কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা

ডিএসইর ‘রেড জোনে’ থাকা কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে তালিকাচ্যুতির আগে অন্তত দুই বছর পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। এরপরও যদি কোনো কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত করা হয়, তাহলে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বাজারদর বা ইস্যু মূল্যের মধ্যে যেটি বেশি, সেই দামে কিনে নেওয়ার (বাইব্যাক) বাধ্যবাধকতা আরোপের দাবি জানানো হয়েছে।

তারল্য বাড়াতে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল

বাজারে বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়াতে ৩ শতাংশ সুদে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। সংগঠনটির মতে, আইসিবির মাধ্যমে ব্রোকারেজ হাউস ব্যবহার করে এই অর্থ ৫ শতাংশ সুদে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঋণ হিসেবে বিতরণ করা যেতে পারে।

আরও যেসব প্রস্তাব

সুপারিশে আরও বলা হয়েছে—

  • বছরে অন্তত চারবার বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিএসইসির সমন্বয় সভা আয়োজন।
  • কারসাজি ও অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্তে রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা চালু।
  • মিউচুয়াল ফান্ডের অন্তত ৮০ শতাংশ অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক করা।
  • ক্লোজড-এন্ড ফান্ডকে ধাপে ধাপে ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তর।
  • ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট-২০১৫ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করে আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
  • তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য শেয়ার বাইব্যাক আইন প্রণয়ন।
  • এ, বি, এন ও জেড ক্যাটাগরির পরিবর্তে আধুনিক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু।
  • আন্তর্জাতিক মানের ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার সনদ প্রবর্তন।

সংগঠনটির মতে, এসব সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে দেশের পুঁজিবাজার আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ