ঢাকা, সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

শহীদুল্লাহ হলের ভিডিও বিতর্কে সামনে এলো অভিযুক্তদের পরিচয়

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৩ ১০:৩৬:০৯
শহীদুল্লাহ হলের ভিডিও বিতর্কে সামনে এলো অভিযুক্তদের পরিচয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলে দুই বহিরাগত যুবকের একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে শনাক্ত হওয়া দুই যুবক হলেন মো. ফারহান ও মো. আরমান।

হল প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত দুই বহিরাগতকে তদন্তে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গত ২৭ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে শহীদুল্লাহ হলের একটি কক্ষে ধারণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কক্ষটি ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত হল সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহিম খলিলের নামে বরাদ্দ ছিল।

ভিডিওতে পাঞ্জাবি পরিহিত দুই যুবককে ভিডিও ধারণকারী ইউসুফ আরেফিন রুমেলের কাছে ক্ষমা চাইতে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিতে দেখা যায়। তবে ভিডিওতে ইব্রাহিম খলিলকে দেখা যায়নি।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফারহান ও আরমানের বাড়ি নোয়াখালী সদর উপজেলায়। ফারহানের বাড়ি ব্রহ্মপুর এলাকায় এবং আরমানের বাড়ি ডানামিয়ার বাজার এলাকায়। তারা দুজনই নোয়াখালীর একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।

সূত্র আরও জানায়, ফারহান ইব্রাহিম খলিলের মায়ের মামাতো ভাই এবং আরমান তার বন্ধু। এ ঘটনার পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার উদ্যোগ নিয়েছেন ইব্রাহিম খলিল।

জিডির খসড়ায় তিনি উল্লেখ করেন, ফারহান তার অনুমতি নিয়ে হলে অবস্থান করলেও পরে ফারহান তার বন্ধু আরমানকে কক্ষে নিয়ে আসেন। জায়গার সংকটের কারণে আপত্তি জানানো হলেও তারা সেখানে থেকে যান। পরদিন তিনি ক্লাসে যান এবং পরে বন্ধুদের সঙ্গে মাওয়া ঘাটে বেড়াতে বের হন। ওই সময় কক্ষে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না বলে দাবি করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জানতে পারেন।

ইব্রাহিম খলিলের দাবি, ঘটনার জেরে তার হলের আসন সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে এবং ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় তিনি সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নিজের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষায় তিনি জিডি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ভিডিও ধারণকারী ইউসুফ আরেফিন রুমেল, যিনি ইব্রাহিম খলিলের রুমমেট, ভিডিওটি ঘটনার কয়েক দিন পর প্রকাশের কারণ কিংবা বিষয়টি আগে হল প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল কি না—এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

শহীদুল্লাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, অভিযুক্ত এজিএসের আসন সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে এবং পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে বহিরাগত দুই যুবকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে হল সংসদের সঙ্গে আলোচনার সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের প্রবেশকে ঘিরে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি প্রভোস্টের পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়ালেও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ