ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

শেয়ার কেনার টাকা কোথায় গেল, ব্রোকারেজ হাউজের ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৭:৪৫:৫৯
শেয়ার কেনার টাকা কোথায় গেল, ব্রোকারেজ হাউজের ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ নিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদিত ফার্স্টলিড সিকিউরিটিজ লিমিটেডের বিভিন্ন শাখার গ্রাহকদের শেয়ার কেনার জন্য রাখা ১৯ কোটি ৫৫ লাখ ৬০ হাজার ৪৮০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করা হয়। সংস্থাটির উপপরিচালক মো. মুস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে

ফার্স্টলিড সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নূর চৌধুরী মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন। একই সঙ্গে নির্বাহী পরিচালক মুহিবুল বারী রহমান, পরিচালক মোহাম্মদ আমান উল্লাহ এবং উপমহাব্যবস্থাপক এহতেশামুল হককেও আসামি করা হয়েছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ মনসুরুজ্জামান, রুমেল মোহাম্মদ সাইফুল রহমান পীর, আবু মুহাম্মদ আনোয়ারুল আম্বিয়ক চৌধুরী, আব্দুর রাকিব শিকদার এবং পরিচালক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।

গ্রাহকের অর্থ নিয়ে যে অভিযোগ

দুদকের এজাহারে ফার্স্টলিড সিকিউরিটিজের বিভিন্ন শাখার গ্রাহকদের কাছ থেকে শেয়ার কেনার কথা বলে অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ হচ্ছে, ওই অর্থ পরে গ্রাহকদের শেয়ার কেনার কাজে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়নি।

মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, গ্রাহকদের পোর্টফোলিওতে থাকা অর্থ তাদের অনুমতি ছাড়াই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এভাবে স্থানান্তরিত অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক।

এ প্রক্রিয়ায় শুধু অনুমোদনহীন অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগই নয়, জাল স্বাক্ষর ও জাল দলিল ব্যবহারের কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি হিসাবসংক্রান্ত নথিতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৩০ জুনের শেয়ারমূল্য বিবেচনায় নিয়েই আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই হিসাবে অভিযোগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ কোটি ৫৫ লাখ ৬০ হাজার ৪৮০ টাকা।

বিএসইসির নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ

গ্রাহকদের অর্থ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়নি বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের নথি অনুযায়ী, বিএসইসির নির্দেশনা উপেক্ষা করে গ্রাহকদের অর্থ অনুমোদন ছাড়া স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ফার্স্টলিড সিকিউরিটিজের কর্মকর্তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিবিধান লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মতিঝিল শাখার তদন্তে কী পাওয়া যায়

ফার্স্টলিড সিকিউরিটিজের মতিঝিল শাখা নিয়েও একটি তদন্তের তথ্য মামলার নথিতে উঠে এসেছে।

দুদকের নথি বলছে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) গত ১৭ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির মতিঝিল শাখায় তদন্ত পরিচালনা করে। ওই তদন্তেও এ ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয়েছে আইনি কার্যক্রম

গ্রাহকদের বিনিয়োগের অর্থ নির্ধারিত উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করা, অনুমোদন ছাড়াই অর্থ এক স্থান থেকে অন্যত্র সরানো এবং জাল স্বাক্ষর ও দলিল ব্যবহারের অভিযোগকে মামলার ভিত্তি করা হয়েছে।

এখন এসব অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী তদন্ত ও আইনি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: