সৌদিতে ভিজিট ভিসা থেকে ওয়ার্ক ভিসায় রূপান্তরের আসল নিয়ম
সৌদি আরবে গিয়ে ভিজিট ভিসা থেকে সরাসরি ওয়ার্ক ভিসায় পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন অনেক প্রবাসীই। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সৌদি আরবের অভ্যন্তরে থেকে এই রূপান্তর কখনোই সরাসরি সম্ভব নয় — এমনটাই স্পষ্ট করে জানিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত সরকারি নিয়মকানুন।
সৌদি আইন অনুযায়ী, ভিজিট ভিসা মূলত স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের জন্য নির্ধারিত, এবং এই ভিসায় থেকে কোনোভাবেই বৈধ চাকরি করার অনুমতি নেই। অন্যদিকে ওয়ার্ক ভিসা সম্পূর্ণভাবে নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ভিজিট ভিসা নিয়ে যারা দেশটিতে প্রবেশ করে চাকরির সুযোগ খুঁজছেন, তাদের সবার আগে বুঝে নিতে হবে যে সৌদির মাটিতে বসেই এই ভিসা পরিবর্তনের কোনো সরাসরি ব্যবস্থা নেই।
সঠিক প্রক্রিয়াটি শুরু হয় চাকরির প্রস্তাব পাওয়ার পর থেকে। কোনো সৌদি প্রতিষ্ঠান যদি চাকরির অফার দেয়, তখন সেই প্রতিষ্ঠান নিজেই মিনিস্ট্রি অব হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (এমএইচআরএসডি)-এর অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কিওয়া (Qiwa)-র মাধ্যমে ওয়ার্ক ভিসার অনুমোদন নম্বর সংগ্রহ করে। এই ধাপে কোম্পানির নিতাকাত সম্মতি এবং নির্ধারিত কোটা থাকা আবশ্যক।
এরপর যে ধাপটি অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত মনে হতে পারে, সেটি হলো — ভিজিট ভিসায় থাকা প্রবাসীকে অবশ্যই সৌদি আরব ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে হয়। কারণ নতুন ওয়ার্ক ভিসার জন্য আবেদন করতে হয় নিজ দেশের সৌদি দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকেই। ভিসা অনুমোদন হওয়ার পর সেখান থেকেই ভিসা স্ট্যাম্পিং সম্পন্ন করে পুনরায় সৌদি আরবে প্রবেশ করতে হয়।
দেশে ফিরে সফলভাবে ওয়ার্ক ভিসা নিয়ে সৌদি আরবে পুনঃপ্রবেশের পর শুরু হয় পরবর্তী ধাপ — মেডিকেল পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করা। এই পর্যায়ে সাধারণত ৯০ দিনের একটি ওয়ার্ক ভিজিট ভিসা (টাইপ ১৮) ইস্যু করা হয়, যার মেয়াদে সবকিছু সম্পন্ন হলে তা রূপান্তরিত হয় ইকামা বা রেসিডেন্স পারমিটে — যা দিয়ে বৈধভাবে দেশটিতে বসবাস ও কাজ করার অনুমতি মেলে।
উল্লেখযোগ্য একটি পরিবর্তন হলো, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি থেকে সৌদি আরব একটি নতুন স্কিল-ভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা চালু করেছে, যেখানে সব ধরনের দীর্ঘমেয়াদি (ইকামা-সংযুক্ত) ওয়ার্ক পারমিটকে তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে — হাই-স্কিলড, স্কিলড এবং বেসিক। শিক্ষাগত যোগ্যতা, বেতন, অভিজ্ঞতা ও বয়সের ভিত্তিতে এই শ্রেণিবিন্যাস নির্ধারিত হয়, যা প্রক্রিয়ার সময়সীমা ও শর্তেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সংক্ষেপে বলা যায়, সৌদি আরবে ভিজিট ভিসা থেকে ওয়ার্ক ভিসায় যাওয়ার একমাত্র বৈধ পথ হলো — বৈধ চাকরির প্রস্তাব পাওয়া, নিয়োগকর্তার মাধ্যমে সরকারি অনুমোদন সংগ্রহ করা, নিজ দেশে ফিরে দূতাবাস থেকে ভিসা স্ট্যাম্পিং করানো, এবং তারপর নতুন ভিসা নিয়ে পুনরায় সৌদি আরবে প্রবেশ করা। এই নিয়ম এড়িয়ে কোনো "শর্টকাট" পদ্ধতিতে ভিসা পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া এজেন্ট বা দালালদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- SSC Result 2026: রোল নম্বর থাকলেই মিলবে ফল, দেখে নিন সহজ নিয়ম
- বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করল ডিএসই ও বিএসইসি
- রাত ৮টার পর ২৩ কোটি টাকা লেনদেন, ১৬ কর্মকর্তাকে তলব
- বিনিয়োগকারীদের নজরে ডেল্টা লাইফ, আর্থিক প্রতিবেদনে চমক
- ৫ আগস্টে টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ, তবে শর্ত আছে
- বাজুসের নতুন দরে আজকের স্বর্ণের মূল্য জানুন
- ইসলামী ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্তে হাজারো গ্রাহকের স্বস্তি!
- ডিএসই ও সিএসইতে ইতিবাচক প্রবণতা, বাড়ছে শেয়ারের দাম
- শহীদুল্লাহ হলের ভিডিও বিতর্কে সামনে এলো অভিযুক্তদের পরিচয়
- 'এমবাপ্পে বাংলাদেশে'—বড় ঘোষণার পর যা জানাল সরকার
- BCB compliance report উঠে এলো গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ
- বিল নিয়ে ফেসবুকে ঝড় তুললেন আজহারি, জবাব দিল বিদ্যুৎ বিভাগ
- দুই বছর পর একই মঞ্চে শেখ হাসিনা ও সাকিব, প্রকাশ্যে তালিকা
- IMEI নম্বর চেক করার সহজ উপায়; Android ও iPhone-এ IMEI দেখবেন যেভাবে
- দুই মিনিটের রাস্তা পেরোতেই লাগল ১৫ মিনিট, বাঁচানো গেল না সেই নবজাতককে